বৃহস্পতিবার, ০১ অক্টোবর ২০২৬, ১১:৩০ অপরাহ্ন

দাম্পত্যে ‘ফুড ডিভোর্স’ কী? সম্পর্কের জন্য কতটা উপকারী

Reporter Name
  • Update Time : বৃহস্পতিবার, ১ অক্টোবর, ২০২৬
  • ২০ Time View

লাইফ ষ্টাইল ডেস্ক : দুজন মানুষের খাবারের পছন্দ, কর্মঘণ্টা, ক্ষুধার সময় কিংবা খাওয়ার অভ্যাস এক হওয়া জরুরি নয়। কিন্তু দাম্পত্য জীবনে অনেক সময় একসঙ্গে একই সময়ে একই টেবিলে বসে খাওয়াকে সম্পর্কের ঘনিষ্ঠতার অন্যতম চিহ্ন হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, সবসময় একসঙ্গে খেতে হবে—এমন কোনও বাধ্যবাধকতা নেই। বরং দুজন যদি নিজেদের পছন্দ ও প্রয়োজন অনুযায়ী আলাদা সময়ে বা আলাদা ধরনের খাবার খান, তাতে সম্পর্ক খারাপ হওয়ার বিষয়টি অনিবার্য নয়। খাবার নিয়ে অপ্রয়োজনীয় চাপ ও মতবিরোধ কমলে বরং সম্পর্কের অন্য দিকগুলোতে একসঙ্গে সময় কাটানোর সুযোগ বাড়তে পারে।

এই ধারণাকেই বলা হচ্ছে ‘ফুড ডিভোর্স’ বা ‘খাবারের বিচ্ছেদ’। নামটি শুনে দাম্পত্য বিচ্ছেদের কথা মনে হলেও এর সঙ্গে বিবাহবিচ্ছেদের কোনো সম্পর্ক নেই। এর মূল ভাবনা হলো—একই সম্পর্কে থেকেও দুজন মানুষ খাবারের ক্ষেত্রে নিজেদের পছন্দ, প্রয়োজন ও সময় অনুযায়ী স্বাধীন সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন।

মার্কিন মনোবিজ্ঞানী ব্রিটানি উলফোর্ড জীবনযাপনবিষয়ক ওয়েবসাইট ‘রিয়েল সিম্পল’-এ দেওয়া বক্তব্যে বলেন, এ ধরনের ব্যবস্থায় প্রত্যেকে নিজের খাবারের প্রয়োজন নিজের মতো করে সামলাতে পারেন। কে কী খাবেন, কখন খাবেন, কী রান্না করবেন কিংবা বাইরে থেকে খাবার আনবেন কি না—এসব সিদ্ধান্ত ব্যক্তিগতভাবে নেওয়ার সুযোগ থাকে।

খাবার ও মানসিকতার সম্পর্ক নিয়ে কাজ করা মার্কিন পরামর্শক জেনি ইডেন বার্কের মতে, দাম্পত্য জীবনে ব্যক্তিগত স্বাধীনতার গুরুত্ব বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে খাবারের ক্ষেত্রেও ব্যক্তিগত পছন্দকে গুরুত্ব দেওয়ার প্রবণতা তৈরি হয়েছে। সব কাজ একসঙ্গে করতেই হবে—এমন ধারণা এখন অনেকের কাছেই পুরোনো মনে হতে পারে।

‘ফুড ডিভোর্স’ বলতে কী বোঝায়?

সহজ ভাষায়, ‘ফুড ডিভোর্স’ হলো এমন একটি ব্যবস্থা যেখানে প্রতিদিনের খাবারকে দাম্পত্য জীবনের বাধ্যতামূলক যৌথ কাজ হিসেবে দেখা হয় না।

দম্পতির একজন নিজের পছন্দ অনুযায়ী রান্না করতে পারেন, অন্যজন নিজের জন্য আলাদা খাবার বেছে নিতে পারেন। একজন আগে খেতে পারেন, অন্যজন পরে। প্রয়োজন হলে দুজন আলাদা জায়গায় বসেও খাবার খেতে পারেন।

এর অর্থ এই নয় যে তাদের মধ্যে ভালোবাসা বা আগ্রহ কমে গেছে। বরং খাবারকে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া অপ্রয়োজনীয় চাপ কমিয়ে সম্পর্কের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সময় ও মনোযোগ দেওয়াই এর উদ্দেশ্য।

ব্রিটানি উলফোর্ডের মতে, কর্মদিবস শেষে বাড়ি ফিরে আবার রান্না করা অনেকের জন্য আনন্দের বিষয় নাও হতে পারে। কে রান্না করবেন, কী রান্না হবে বা কখন খাওয়া হবে—এসব নিয়েও দম্পতিদের মধ্যে চাপ ও মতবিরোধ তৈরি হতে পারে। ফলে যে সময়টি আনন্দের হওয়ার কথা, সেটিই কখনও কখনও বিরোধের কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

আলাদা সময়ে খেলে কি সম্পর্কের ক্ষতি হয়?

শুধু আলাদা সময়ে কিংবা আলাদা খাবার খাওয়াকে দাম্পত্য সমস্যার লক্ষণ হিসেবে দেখার প্রয়োজন নেই। উলফোর্ডের মতে, প্রত্যেকে নিজের খাবারের দায়িত্ব নিলে দুজনই নিজেদের প্রয়োজন ও পছন্দ অনুযায়ী খেতে পারেন। পাশাপাশি বাজার করা, রান্না কিংবা খাবারের পরিকল্পনার দায়িত্বও একজনের ওপর একতরফাভাবে চাপিয়ে দেওয়ার সম্ভাবনা কমে।

তবে আলাদা খাওয়ার বিষয়টি যদি দুজনের মধ্যে তৈরি হওয়া দূরত্বের বৃহত্তর প্রবণতার অংশ হয়ে যায়, তাহলে সেটি গুরুত্ব দিয়ে দেখা দরকার।

সম্পর্ক ভালো রাখতে নিয়মিত কথা বলা, অনুভূতি ভাগ করে নেওয়া এবং একসঙ্গে সময় কাটানোর অভ্যাস গুরুত্বপূর্ণ। খাবারের টেবিল সেই ঘনিষ্ঠতা তৈরির একটি মাধ্যম হতে পারে, তবে এটিই একমাত্র উপায় নয়।

অর্থাৎ প্রতিদিন একসঙ্গে না খেলেই সম্পর্ক দুর্বল হয়ে যাবে—এমনটা নয়। বরং গুরুত্বপূর্ণ হলো, দুজন একে অপরের জন্য সময় রাখছেন কি না, নিজেদের কথা ও অনুভূতি ভাগ করছেন কি না এবং পরস্পরের জীবনের প্রতি মনোযোগ দিচ্ছেন কি না।

খাবারের টেবিলের বাইরেও তৈরি হতে পারে ঘনিষ্ঠতা

দুজনের কর্মঘণ্টা আলাদা হলে সকালে এক কাপ চা বা কফি একসঙ্গে পান করার অভ্যাস করা যেতে পারে। রাতে ঘুমানোর আগে কিছুক্ষণ গল্প করা, একসঙ্গে হাঁটতে যাওয়া কিংবা দিনের গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা করাও সম্পর্ককে সময় দেওয়ার কার্যকর উপায় হতে পারে।

এমনকি প্রতিদিন আলাদা সময়ে রাতের খাবার খেলেও সপ্তাহে এক-দুই দিন একসঙ্গে বসে খাওয়ার পরিকল্পনা করা সম্ভব। সেক্ষেত্রে দুজনের খাবার আলাদা হলেও সমস্যা নেই। মূল বিষয় হলো, সেই সময়টুকু যেন পরস্পরের জন্য মনোযোগ দিয়ে কাটানো হয়।

উলফোর্ডের মতে, সপ্তাহের সাত দিন বাধ্যতামূলকভাবে তাড়াহুড়ো করে একসঙ্গে খাওয়ার চেয়ে সপ্তাহে দুদিন মনোযোগ দিয়ে একসঙ্গে খাওয়া বেশি অর্থবহ হতে পারে। ওই সময় মোবাইল ফোন, টেলিভিশন বা অন্যান্য ডিভাইস দূরে রেখে দুজনের কথোপকথনে মনোযোগ দেওয়া যেতে পারে।

সময়ের সঙ্গে বদলাতে পারে পারিবারিক অভ্যাস

পরিবারের রীতিনীতি ও দৈনন্দিন জীবন সবসময় একই থাকে না। সন্তান বড় হওয়া, চাকরি পরিবর্তন, কর্মঘণ্টার পরিবর্তন কিংবা পরিবারের সদস্যদের নতুন প্রয়োজন—সবকিছু মিলিয়ে পুরোনো অভ্যাস অনেক সময় আর বাস্তবসম্মত থাকে না।

তাই একদিন একসঙ্গে খাওয়া এবং অন্যদিন আলাদা সময়ে খাওয়া—দুটিই একই দাম্পত্য সম্পর্কে স্বাভাবিকভাবে থাকতে পারে।

একসঙ্গে থাকার অর্থ সবকিছু একসঙ্গে করা নয়

দাম্পত্য জীবনে দুজনের সব পছন্দ ও অভ্যাস একই হওয়া প্রয়োজন নেই। একজন ভাত-মাছ পছন্দ করতে পারেন, অন্যজন হালকা খাবার বেছে নিতে পারেন। একজন সন্ধ্যায় খেতে চাইতে পারেন, অন্যজন রাত করে খেতে স্বচ্ছন্দ হতে পারেন। কেউ রান্না করতে ভালোবাসেন, আবার অন্যজন রান্নার পরিবর্তে অন্য কোনো কাজে সময় দিতে বেশি আগ্রহী হতে পারেন।

এসব পার্থক্যকে সবসময় সমস্যা হিসেবে দেখলে দৈনন্দিন জীবন অপ্রয়োজনীয়ভাবে কঠিন হয়ে উঠতে পারে। বরং কোন বিষয়গুলোতে একসঙ্গে থাকা জরুরি আর কোথায় দুজনকে ব্যক্তিগত স্বাধীনতা দেওয়া যায়—সেটির মধ্যে ভারসাম্য তৈরি করাই গুরুত্বপূর্ণ।

 

 

কিউএনবি/আয়শা/০১ অক্টোবর ২০২৬,/রাত ১০:১২

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category

আর্কাইভস

October 2026
M T W T F S S
 12345
6789101112
13141516171819
20212223242526
27282930  
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৫-২০২৬
IT & Technical Supported By:BiswaJit