স্পোর্টস ডেস্ক : শিরোনামটা পড়ে একটু চমকে উঠতে পারেন। ভাবতে পারেন, সার্জিও আগুয়েরো তো কবেই অবসরে চলে গেছেন! তা ছাড়া বাংলাদেশ তো আর্জেন্টিনার বিপক্ষেও খেলছে না, তাহলে? সত্যিটা হচ্ছে, ‘সার্জিও আগুয়েরো’ সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে আগামী ২৫ সেপ্টেম্বর ফিফা আসিয়ান কাপে বাংলাদেশের মুখোমুখি হলেও হতে পারেন।
তবে এই আগুয়েরো সেই সাবেক আর্জেন্টাইন ফরোয়ার্ড সার্জিও আগুয়েরো নন, তার নাম সার্জিও ফাবিয়ান এসকিয়েল আগুয়েরো, যিনি বছর চারেক হলো জাতীয়তা বদলে খেলছেন মালয়েশিয়ার জার্সিতে। শুরুতে যে ধোঁয়াশায় পড়ে গিয়েছিলেন, আগুয়েরো মালয়েশিয়াও একই রকম বিভ্রান্তির জন্ম দিয়েছেন। ফিফাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন, ‘যেখানেই যাই, মানুষ এটা নিয়ে কথা বলে’!
আগুয়েরোর সঙ্গে তার অনেক মিল। আর্জেন্টাইন কুন আগুয়েরোর মতো মালয়েশিয়ান আগুয়েরোও জন্মেছেন আর্জেন্টিনায়। একটা সময় নিজ নিজ দলের আক্রমণভাগের নেতৃত্বও দিয়েছেন দুজনেই। তবে তাদের ক্যারিয়ারের পথ একেবারেই আলাদা। একজন বিশ্বফুটবলের একেবারে শীর্ষে পৌঁছে বৈশ্বিক তারকা বনে গেছেন। আর অন্যজন এখনো এশিয়ায় নিজের ক্লাব এবং জাতীয় দলের হয়ে নিজের ছাপ রাখার চেষ্টা করছেন।
আর্জেন্টিনার লা রিওহায় জন্ম নেওয়া সার্জিও ফাবিয়ান এসেকিয়েল আগুয়েরো এখন মালয়েশিয়ার নাগরিক। সমর্থকদের কাছ থেকে প্রায়ই মজার মন্তব্য শুনতে হয় বলে জানান তিনি। ফিফাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে আগুয়েরো বলেন, ‘আমার নামের সঙ্গে মিল থাকা সেই তারকা নিয়ে মানুষ সবসময়ই আমার সঙ্গে মজা করে’। আর্জেন্টিনায় বেড়ে ওঠার সময় দেশের দুই সেরা তারকার প্রতি ভালোবাসা থেকেই ফুটবলের প্রতি আগ্রহ তৈরি হয় আগুয়েরোর।
তিনি বলেন, ‘আমার সবচেয়ে বড় দুই আদর্শ, অনুপ্রেরণার উৎস হলো হুয়ান রোমান রিকেলমে এবং লিওনেল মেসি। তাদের খেলার ধরন নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করি এবং তাদের সব মুভ অনুকরণ করার চেষ্টা করি। তবে এটা মোটেও সহজ কাজ নয়, কারণ আমরা এই খেলার দুই মহাতারকার কথা বলছি’, হাসতে হাসতে বলেন তিনি।
আগুয়েরোর ক্যারিয়ারের যাত্রাপথ ছিল বেশ অনন্য। নিজ দেশে রিভার প্লেট এবং অল বয়েজে যুব ফুটবল খেলার পর ২০১৫ সালে হাঙ্গেরিয়ান ক্লাব তাতাবানিয়াইয়ের সঙ্গে প্রথম পেশাদার চুক্তি করেন তিনি। পূর্ব ইউরোপে মাত্র এক মৌসুম কাটানোর পর তিনি পাড়ি জমান পৃথিবীর অন্য প্রান্তে, মালয়েশিয়ায়। এখন এই দেশকেই নিজের ঘর মনে করেন তিনি। ২০২২ সালে গর্বের সঙ্গে দেশটির নাগরিকত্ব গ্রহণ করেন তিনি।
এরপর থেকে খেলছেন মালয়েশিয়া দলে। ২৩ ম্যাচে করেছেন ৩ গোল, করিয়েছেন আরও ২টি। তবে তার কাজ এখন গোল করা নয়, দলের কাঠামো ধরে রাখা। সে কারণেই সংখ্যাটা একটু ছোট। তবে সুযোগ পেলে যে ছেড়ে কথা বলবেন, তা কিন্তু নয়। সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে আগামী ২৫ সেপ্টেম্বর এই সার্জিও আগুয়েরোর মুখোমুখিই হতে চলেছে বাংলাদেশ।
কিউএনবি/আয়শা/২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬,/সন্ধ্যা ৭:০০