বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর ২০২৬, ০৫:২৭ অপরাহ্ন
শিরোনাম
আশুলিয়ায় নির্বিঘ্নে উৎপাদন কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান ডিআইজির নরসিংদীতে ৭ পিস ইয়াবাসহ যুবক আটক, এক বছরের কারাদণ্ড মেসিকে টপকে চ্যাম্পিয়ন্স লিগে হালান্ডের বিরল রেকর্ড পারিবারিক ঐক্যেই কমেছে ভারতের দারিদ্র্য, ধুঁকছে অন্যরা সরকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ: নাহিদ ‘সকাল ১১টাতেই মুখে মদের গন্ধ’, কাকে ইঙ্গিত করলেন রাহুল গান্ধী? হামের টিকা ইস্যুতে দায়ীদের জবাব দিতে হবে: স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী খানজাহান আলীর মাজার জিয়ারত করলেন প্রধানমন্ত্রী মোংলা থেকে উত্তরাঞ্চল পর্যন্ত জ্বালানি অবকাঠামো গড়ে তোলা হবে: প্রধানমন্ত্রী ট্রিলিয়ন অর্থনীতির লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে কাজ করছে সরকার : প্রধানমন্ত্রী

ফুলবাড়ীতে আউশের বাম্পার ফলনেও হাসি নেই কৃষকের মুখে॥

মোঃ আফজাল হোসেন, ফুলবাড়ী, দিনাজপুর প্রতিনিধি ।
  • Update Time : শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
  • ৫৬ Time View

মোঃ আফজাল হোসেন, দিনাজপুর প্রতিনিধি : ধান-চাল উৎপাদনে প্রসিদ্ধ দিনাজপুরের ফুলবাড়ী উপজেলায় এ বছর আউশ ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে। তবে ভালো ফলন হলেও ন্যায্য দাম না পাওয়ায় হাসি নেই কৃষকের মুখে। উৎপাদন খরচের তুলনায় বিক্রিমূল্য কম হওয়ায় লোকসানের আশঙ্কায় হতাশ কৃষকেরা।

ফুলবাড়ী উপজেলার বিভিন্ন হাটে জিরাশাইল, কাটারি ও ব্রি-২৮ জাতের ধান প্রতি মণ ৮০০ থেকে ৯৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। কৃষকদের দাবি, গত বছরের তুলনায় এবার প্রতি মণ ধানের দাম ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা কমেছে। অথচ সার, বীজ, সেচ, কীটনাশক ও শ্রমিকের মজুরি বেড়ে যাওয়ায় ধান উৎপাদনের খরচও বেড়েছে। এদিকে, কৃষক ধান বিক্রি করে লোকসান গুনলেও চালের মোকামে তার কোনো প্রভাব নেই। আগের দামেই বিক্রি হচ্ছে মোটা ও সরু জাতের চাল।

উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, চলতি মৌসুমে উপজেলায় ২৩০ হেক্টর জমিতে আউশ ধানের আবাদ হয়েছে। উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৬৬৭ মেট্রিক টন। আউশের আবাদ বাড়াতে কৃষি বিভাগ থেকে উপজেলার ৮৫০ জন প্রান্তিক চাষীকে বীজ ও সার প্রণোদনা হিসেবে দেওয়া হয়েছে। এতে জনপ্রতি ৫ কেজি আউশ ধানের বীজ, ১০ কেজি ডিএপি ও ১০ কেজি এমওপি সার দেওয়া হয়েছে। উপজেলার বিভিন্ন এলাকার কয়েকজন কৃষকেদর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ধান উৎপাদনে সবচেয়ে বেশি খরচ হচ্ছে শ্রমিকের মজুরি, সার, সেচ ও জমি প্রস্তুতিতে। এবার প্রতি বিঘা জমিতে এসব খাতে ২০ হাজার টাকার বেশি খরচ হয়েছে। বিপরীতে প্রতি বিঘায় ধানের ফলন হয়েছে ২০ থেকে ২২ মণ।

প্রতি মণ ধান ৮০০ থেকে ৯০০ টাকা দরে বিক্রি করে কৃষকের আয় হচ্ছে ১৭ থেকে ১৯ হাজার টাকা। ফলে উৎপাদন খরচই উঠছে না তাদের। কৃষকেরা জানান, ধান ঘরে তোলার পরপরই পারিবারিক খরচ, ঋণের টাকা পরিশোধসহ বিভিন্ন প্রয়োজন মেটাতে হয়। তাই বাজারে ধানের দাম কম থাকলেও বাধ্য হয়ে অনেক কৃষক ধান বিক্রি করে দিচ্ছেন। ধান বিক্রি করতে আসা খড়মপুর গ্রামের কৃষক সেলিম হোসেন জানান, তিন বিঘা জমি বর্গা নিয়ে আউশ ধান চাষ করেছেন। এ জন্য সমিতি থেকে ঋণও নিতে হয়েছে। সব মিলিয়ে তিন বিঘা জমিতে চাষ করতে তার প্রায় ৬০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। ধানের দাম কমে যাওয়ায় ঋণ পরিশোধ ও সংসারের খরচ চালানো নিয়ে এখন দুশ্চিন্তায় পড়েছেন।

ফুলবাড়ী সদরের ধান আড়তদার লিটন প্রসাদ বলেন, বর্তমানে বাজারে ধানের দাম নি¤œমুখী। গত দেড় সপ্তাহে প্রতি মণ ধানের দাম ২০০ থেকে ৩০০ টাকা পর্যন্ত কমেছে। আউশ ধান বাজারে ওঠার পর থেকেই দাম কমছে। উপজেলা চাউল কল মালিক সমিতির অন্যতম নেতা মঞ্জিল মোরশেদ বলেন, অন্তর্র্বতী সরকারের সময় বিপুল পরিমাণ চাল আমদানি করা হয়। এ কারণে দেশে উৎপাদিত চালের চাহিদা কমে গেছে। চাল আমদানির এ প্রভাব আমনের ভরা মৌসুমেও থাকবে।

আর সেটি হলে আমন মৌসুমেও কৃষকেরা ধানের ন্যায্য মূল্য থেকে বঞ্চিত হতে পারেন। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ সাইফ আব্দুল্লাহ মোস্তাফিন বলেন, উপজেলায় আউশের আবাদ বাড়াতে কৃষি বিভাগ থেকে প্রান্তিক কৃষকের মাঝে বীজ ও সার প্রণোদনা দেওয়া সহ আবাদের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত সার্বিক সহযোগিতা ও পরামর্শ দেওয়া হয়ে থাকছে। তবে আগামীতে উপজেলায় আউশের আবাদ বৃদ্ধি পাবে বলে আশা করা যাচ্ছে।

 

 

কিউএনবি/আয়শা/১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬,/রাত ৯:০৮

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category

আর্কাইভস

November 2026
M T W T F S S
 12
3456789
10111213141516
17181920212223
24252627282930
31  
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৫-২০২৬
IT & Technical Supported By:BiswaJit