ডেস্ক নিউজ : ২০২৭ শিক্ষাবর্ষে শিক্ষার্থীদের বিনামূল্যে পাঠ্যবই দিতে পুরোদমে চলছে বই ছাপা ও বাঁধাইয়ের কাজ। অসাধু কিছু ছাপাখানা নিম্নমানের কাগজে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের বই ছাপিয়ে বেশি মুনাফা করার অপচেষ্টা করছে। ছাপাখানাগুলোর অপচেষ্টা ঠেকাতে পাঠ্যপুস্তক বোর্ড যে প্রতিষ্ঠানকে নিয়োগ করেছে, খোদ তারাই উল্টো ছাপাখানার কাছ থেকে ঘুস নিয়ে নিম্নমানের কাগজে বই ছাপার বৈধতা দিচ্ছেন। তদারককারী এ প্রতিষ্ঠান দুটি হলো- ইনফিনিটি সার্ভে অ্যান্ড ইন্সপেকশন বিডি ও ইনডিপেনডেন্ট ইন্সপেকশন সার্ভিসেস বিডি। ইনফিনিটি প্রাথমিকের এবং ইনডিপেনডেন্ট মাধ্যমিক ও ইবতেদায়ির বই ছাপার মান যাচাইয়ের কাজ পেয়েছে।
এদিকে, নিম্নমানের কাগজে বই ছাপার অনুমোদন দেওয়ায় তদারককারী প্রতিষ্ঠান ইনফিনিটি সার্ভে অ্যান্ড ইন্সপেকশন বিডিকে কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকজ) দিয়েছে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি)। প্রতিষ্ঠানটি প্রাথমিকের প্রায় ৯ কোটি পাঠ্যবই ছাপার কাগজ, বাঁধাই, কাটিংসহ সার্বিক মান পরীক্ষার কাজ করছে। সম্প্রতি এনসিটিবির সচিব শাহ মুহাম্মদ আল ফেরদৌসের সই করা এ নোটিশ দেওয়া হয়। এতে তিন কর্মদিবসের মধ্যে ইনফিনিটি সার্ভে অ্যান্ড ইন্সপেকশন বিডিকে শোকজ নোটিশের জবাব দিতে বলা হয়েছে।
নোটিশে বলা হয়, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের প্রতিনিধিদল গত ৩০ আগস্ট ঢাকার আমুলিয়ায় সরকার প্রেস পরিদর্শনকালে প্রাক-প্রাথমিক শ্রেণির বই মুদ্রণের পাশাপাশি একই প্রাঙ্গণে নিষিদ্ধ বিভিন্ন শ্রেণির নোট ও গাইড ছাপানোর কাজ চলমান দেখতে পায়। সেখানে পেপার রোলের স্তূপে বিভিন্ন মানের কাগজ (নিউজ প্রিন্টসহ) বিশৃঙ্খলভাবে স্তূপীকৃত আছে। স্পেসিফিকেশন অনুযায়ী- প্রি-প্রাইমারি (প্রাক-প্রাথমিক) বই মুদ্রণে যে মানের কাগজ ব্যবহার করার কথা, বাস্তবে তার চেয়ে নিম্নমানের কাগজ ব্যবহারের প্রমাণ পাওয়া গেছে।
এতে আরও বলা হয়, ছাপানো ফর্মা দৈবচয়ন ভিত্তিতে পরীক্ষা করেও কাগজের জিএসএম ৭২, ৭৬, ৭৭, ৭৯, ৮১ এবং ৮২ পর্যন্ত পাওয়া গেছে। আপনার প্রতিষ্ঠান কর্তৃক প্রত্যায়িত অব্যবহৃত নতুন কাগজের রোল পরীক্ষা করেও জিএসএমের মানে তারতম্য পাওয়া গেছে। আপনার পিডিআই প্রতিনিধি উপস্থিত থাকলেও তার দায়িত্বপালনে শিথিলতা দৃশ্যমান রয়েছে মর্মে প্রতিবেদনে উল্লেখ রয়েছে।
‘এমতাবস্থায়, আপনার প্রতিষ্ঠান কর্তৃক দায়িত্বে অবহেলা চুক্তির শর্তভঙ্গের দায় মনিটরিং প্রতিনিধির নিষ্ক্রয়তা পাওয়া গেলে দরপত্র দলিল ও পিপিআর-২০২৫ এর শর্ত মোতাবেক কার্যাদেশ বাতিলসহ শাস্তিমূলক ব্যবস্থা কেন গ্রহণ করা হবে না, তা তিন কর্মদিবসের মধ্যে লিখিত আকারে জমা দিতে নির্দেশ প্রদান করা হলো’ বলেও বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়।
বিষয়টি নিয়ে জানতে চাইলে ইনফিনিটি সার্ভে অ্যান্ড ইন্সপেকশন বিডির ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মো. সিরাজীম মুনির বলেন, ‘আমি কোনো শোকজের চিঠি পাইনি। হয়তো অফিসের লোকজন শোকজ পেয়ে জবাব দিয়েছে। আমি বিষয়টি জানি না। সরকার প্রেসের ঘটনায় শিক্ষা মন্ত্রণালয় চিঠি দেওয়ার আগে আমিই এনসিটিবির সদস্যকে চিঠি দিয়ে জানিয়েছি।’তবে এনসিটিবির সচিব শাহ মুহাম্মদ আল ফেরদৌস এবং আরও দুজন কর্মকর্তা ইনফিনিটি সার্ভে অ্যান্ড ইন্সপেকশন বিডিকে শোকজ করার সত্যতা স্বীকার করেছেন।
কিউএনবি/আয়শা/১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬,/বিকাল ৫:৩৮