বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬, ১১:০০ পূর্বাহ্ন

দেবীগঞ্জে বৃক্ষরোপণ ও পোনা মাছ অবমুক্ত করেন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ

দেবীগঞ্জ (পঞ্চগড়) সংবাদদাতা ।
  • Update Time : শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
  • ৪১ Time View

দেবীগঞ্জ (পঞ্চগড়) সংবাদদাতা : পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা, সবুজায়ন বৃদ্ধি ও জলজ সম্পদ সংরক্ষণের লক্ষ্যে বৃক্ষের চারা বিতরণ ও পোনা মাছ অবমুক্তকরণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে। শানিবার (১২সেপ্টেম্বর) দেবীগঞ্জ উপজেলা পরিষদ চত্বরে উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। কর্মসূচির অংশ হিসেবে ‘৫বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ’ কর্মসূচির আওতায় বিভিন্ন প্রজাতির গাছের চারা বিতরণ করা হয়। একই সঙ্গে পার্বতীপুর মৎস্য বীজ উৎপাদন খামার থেকে আনা ২৫০ কেজি রুই-কাতলা জাতের পোনা মাছ দেবীগঞ্জ উপজেলার ১০টি আশ্রয়ণ প্রকল্পের জলাশয়ে অবমুক্ত করা হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ বলেন,আজ দেবীগঞ্জ উপজেলায় ১২টি কবরস্থানে দুই হাজারের অধিক বৃক্ষের চারা বিতরণ করা হয়েছে। এসব চারা রোপণের মাধ্যমে কবরস্থানগুলোকে সবুজায়নের আওতায় আনা হবে। এর মধ্য দিয়ে পরিবেশের সুরক্ষা ও প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা সম্ভব হবে। তিনি বলেন, আমাদের উত্তরাঞ্চলে প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষায় যে পরিমাণ বৃক্ষ ও সবুজায়ন থাকা প্রয়োজন, বর্তমানে তার তুলনায় আমরা অনেক পিছিয়ে আছি। বৃক্ষ আমাদের অক্সিজেন সরবরাহ করে এবং পরিবেশকে সুরক্ষিত রাখে। তাই বেশি বেশি বৃক্ষরোপণের মাধ্যমে সবুজায়ন বাড়াতে হবে।

মাছের প্রসঙ্গ তুলে প্রতিমন্ত্রী বলেন, একসময় বলা হতো ‘মাছে-ভাতে বাঙালি’। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে আমাদের নদ-নদী ও জলাশয় থেকে মাছের প্রাচুর্য কমে যাচ্ছে। এর অন্যতম কারণ বিভিন্ন নদীতে বাঁধ ও সুইচগেট নির্মাণ এবং নদীর নাব্যতা হারিয়ে যাওয়া। বাংলাদেশে এক হাজার চারশর বেশি নদী রয়েছে। এর মধ্যে
কুড়িগ্রামে সবচেয়ে বেশি ৫৪টি এবং পঞ্চগড়ে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৫০টি নদী রয়েছে। কিন্তু এসব নদীর অনেকগুলোই আজ নাব্যতা ও স্বাভাবিক প্রবাহ হারিয়েছে। ফলে আমাদের অঞ্চল ধীরে ধীরে শুষ্কতার দিকে
এগিয়ে যাচ্ছে এবং নদীতে মাছের প্রজনন ও বিচরণও কমে যাচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, ‘মাছে-ভাতে বাঙালি’—আমাদের এই ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনতে মাছের উৎপাদন বাড়াতে হবে। এ লক্ষ্যেই সরকার জলাশয়ে পোনা মাছ অবমুক্তকরণসহ বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে। আজ যে পোনা মাছগুলো অবমুক্ত করা হলো, ছয় মাস থেকে এক বছরের মধ্যে সেগুলো বড় হয়ে স্থানীয় মানুষের খাদ্য ও জীবিকা নির্বাহে ভূমিকা রাখবে। প্রতিমন্ত্রী বলেন, মাছ আমাদের অন্যতম নিরাপদ প্রাণিজ আমিষ। মানুষের পুষ্টি চাহিদা পূরণের পাশাপাশি মাছ চাষ ও আহরণ স্থানীয় মানুষের কর্মসংস্থান ও অর্থনৈতিক সক্ষমতা বৃদ্ধিতেও সহায়ক। তাই আমাদের বেশি বেশি মাছ চাষ করতে হবে এবং নদী-জলাশয়গুলোকে মাছের জন্য উপযোগী করে তুলতে হবে।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন দেবীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইন্দ্রজিৎ সাহা, পঞ্চগড় জেলা মৎস্য উপপরিচালক ড. কে এম আব্দুল হালিম, দেবীগঞ্জ উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা, উপজেলা বিএনপির সভাপতি
আব্দুল গনী বসুনিয়া, সাধারণ সম্পাদক আবুল হোসেন (মো. তোবারক হ্যাপি), পৌর বিএনপির সভাপতি ও
সাধারণ সম্পাদকসহ উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা, মৎস্য বিভাগের কর্মকর্তা এবং স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।

 

 

কিউএনবি/আয়শা/১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬,/সন্ধ্যা ৭:৪৪

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category

আর্কাইভস

October 2026
M T W T F S S
 12345
6789101112
13141516171819
20212223242526
27282930  
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৫-২০২৬
IT & Technical Supported By:BiswaJit