বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬, ১০:৪৪ পূর্বাহ্ন

ভিন্নমত যেন কোনোভাবেই শত্রুতায় রূপ না নেয়: সমাপনী বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী

Reporter Name
  • Update Time : শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
  • ৫১ Time View

স্পোর্টস ডেস্ক : গণতান্ত্রিক শক্তিগুলোর মধ্যে বিভেদ তৈরি হলে এর সুযোগ পরাজিত ফ্যাসিস্ট শক্তি নিতে পারে বলে সতর্ক করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, ‘গণতন্ত্রে ভিন্নমত থাকবে, রাজনৈতিক প্রতিযোগিতাও থাকবে- এটাই গণতান্ত্রিক চর্চা। কিন্তু ভিন্নমত যেন শত্রুতায় রূপ না নেয়, সে বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।’ 

সংসদ নেতা আরও বলেন, রাজনৈতিক বিভেদ ও বিরোধ যদি গণতান্ত্রিক শক্তিগুলোর মধ্যে এমন পর্যায়ে পৌঁছে যায়, যাতে পরাজিত ফ্যাসিস্ট শক্তি পুনরুজ্জীবিত হওয়ার সুযোগ পায়, তাহলে গণতন্ত্রের জন্য তা হবে বড় বিপদ। তাই দলমত নির্বিশেষে দায়িত্বশীল রাজনৈতিক আচরণ এবং পারস্পরিক সহনশীলতার মাধ্যমে সবার আগে বাংলাদেশ, সবার জন্য বাংলাদেশ- এই লক্ষ্যকে সামনে রেখে এগিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান তিনি। বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) রাতে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনের সমাপনী বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। এ সময় সংসদে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ।

প্রধামন্ত্রী তার বক্তব্যে চলমান গ্যাস-বিদ্যু সংকট সমাধানে সরকারের উদ্যোগ, জাতীয় সংসদকে সমস্যা সমাধানের কেন্দ্রবিন্দুতে রাখা, খেলাপি ঋণের পরিমাণ কমিয়ে আনার উদ্যোগসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সরকারের নেওয়া পদক্ষেপ তুলে ধরেন। দেশের সংকট সমাধানে বিরোধী দলকে সঙ্গে নিয়ে সমাধানেরও কথা বলেন সংসদ নেতা। বিরোধী দলের সাম্প্রতিক লং মার্চেরও সমালোচনা করেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী বলেন, গাড়ির লংমার্চ করে যদি গ্যাস-বিদ্যুৎ সমস্যার সমাধান করা যেত, তাহলে সরকারই সবার আগে লংমার্চের আয়োজন করত। জাতীয় সংকট মোকাবিলায় জনগণকে উত্তেজিত না করে কার্যকর সমাধানের পথে এগিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকটকে জাতীয় সমস্যা হিসেবে উল্লেখ করে বিরোধী দলকে সঙ্গে নিয়ে এ সংকট মোকাবিলার কথা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, জনগণের ভোগান্তি কমাতে সরকার ইতোমধ্যে বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছে এবং সময়ের সঙ্গে এ সংকটের সমাধান করা সম্ভব হবে। তিনি বলেন, বর্তমান গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকট হঠাৎ সৃষ্টি হয়নি। দীর্ঘদিন দেশীয় উৎস থেকে গ্যাস উত্তোলনে পর্যাপ্ত উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। পাশাপাশি আমদানিনির্ভর জ্বালানি ব্যবস্থার মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ শুরু হওয়া এবং দেশের একটি এলএনজি টার্মিনালে দুর্ঘটনা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করেছে। তিনি বলেন, সরকার কোনো অজুহাত দেখিয়ে জনগণের দুর্ভোগ এড়িয়ে যেতে চায় না। সংকটের বাস্তব চিত্র বিবেচনায় নিয়ে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।

তারেক রহমান বলেন, গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকট শুধু সরকারের সমস্যা নয়; এটি জাতীয় সমস্যা। সরকারি ও বিরোধী দলের প্রত্যেক সংসদ সদস্যের দায়িত্ব হচ্ছে জনগণের সামনে পরিস্থিতির সঠিক চিত্র তুলে ধরা এবং সংকট মোকাবিলায় দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখা। তিনি বলেন, বিরোধী দলও সরকারের অংশ। তাই বিরোধী দলের সহকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে দেশ ও জাতিকে বর্তমান জ্বালানি সংকট থেকে বের করে আনা হবে। ভবিষ্যৎ জ্বালানি নিরাপত্তার প্রসঙ্গে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ শুধু বিদ্যুতের গ্রাহক নয়; ভবিষ্যতে সৌরবিদ্যুতের উৎপাদক দেশেও পরিণত হতে পারে।

তারেক রহমান বলেন, জাতীয় সংসদকে দেশের সব আলোচনা ও জাতীয় সমস্যার সমাধানের কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে গড়ে তুলতে চায় সরকার। তিনি বলেন, সরকার ও বিরোধী দল- উভয়পক্ষই দেশ ও জনগণের স্বার্থে কাজ করছে এবং জাতীয় সংসদকে কার্যকর ও প্রাণবন্ত রাখার দায়িত্ব সবার। জনগণের প্রত্যাশা, সংসদে আলোচনা করে তাদের সমস্যার কিছুটা হলেও সমাধান হবে এবং এ সংসদ দেশের মানুষের জন্য শান্তি ও সমৃদ্ধি বয়ে আনবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে অংশ নেওয়া রাজনৈতিক দলগুলো জনগণের সামনে তাদের নির্বাচনি ইশতেহার তুলে ধরেছিল। জনগণ বিএনপির ইশতেহারের পক্ষে রায় দিয়েছে এবং একই সঙ্গে দেশ পরিচালনার দায়িত্ব দিয়েছে। কার্যকর সংসদীয় রাজনৈতিক ব্যবস্থায় বিরোধী দলও সরকারের অংশ। তাই বিরোধী দলকে সঙ্গে নিয়েই দেশ ও জনগণের কল্যাণে কাজ করতে চায় সরকার।

রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব নেওয়ার পর দেশের বিভিন্ন খাতের বিদ্যমান সংকট প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন- গ্যাস, বিদ্যুৎ, শিল্প, শিক্ষা, ব্যাংকিংসহ প্রায় প্রতিটি খাতে দুর্নীতি ও অনিয়মের পাহাড় তৈরি হয়েছিল। এসব সমস্যা উত্তরাধিকার সূত্রে পেলেও সরকার এগুলোকে অজুহাত হিসেবে দাঁড় করাতে চায় না, বরং সমস্যাগুলোর সমাধানে পরিকল্পনা গ্রহণ ও তা বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার সময় বিভিন্ন খাতে ভঙ্গুর পরিস্থিতি পেয়েছে। ব্যাংকিং ব্যবস্থা, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিতেও নানা সমস্যা ছিল। এসব সমস্যা সমাধানে সরকার কাজ করছে। তিনি বলেন, রাষ্ট্র পরিচালনার ক্ষেত্রে অতীতের ব্যর্থতাকে অজুহাত হিসেবে ব্যবহার করতে চায় না সরকার, বরং জনগণের জীবনযাত্রায় শান্তি, সমৃদ্ধি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই সরকারের লক্ষ্য।

ঋণখেলাপির বিষয়ে তারেক রহমান বলেন, বর্তমানে বিএনপির ওপর আরেকটি বড় দায়িত্ব পড়েছে। তা হলো উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া ঋণখেলাপির বোঝা থেকে দেশকে মুক্ত করা। তিনি বলেন, ২০২৪ সালে দেশে খেলাপি ঋণের যে হিসাব দেখানো হয়েছিল, পরবর্তী ফরেনসিক অডিটে প্রকৃত চিত্র আরও বেশি পাওয়া যায়। সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগে খেলাপি ঋণের অনুপাত কমতে শুরু করেছে বলেও সংসদে জানান তিনি।

সংসদে বাকস্বাধীনতা ও রাজনৈতিক সংস্কৃতি নিয়েও কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, দেশে এখন গণতান্ত্রিক পরিবেশ বিরাজ করছে এবং বাকস্বাধীনতা রয়েছে। তবে বাকস্বাধীনতা যেন বাকশালীনতার সীমা লঙ্ঘন না করে, সেদিকেও সবাইকে খেয়াল রাখতে হবে। তারেক রহমান বলেন, কোনো বিবেকবান মানুষই চান না দেশে আবার ফ্যাসিবাদী বা স্বৈরাচারী শাসন ফিরে আসুক। একইভাবে রাজনৈতিক সংস্কৃতি যেন গালাগালিতে পরিণত না হয়, সেটিও নিশ্চিত করতে হবে। পারিবারিক পরিবেশে যে ধরনের শব্দ ব্যবহারে মানুষ স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করে না, জনপরিসরেও সেসব শব্দ পরিহার করা উচিত।

গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে আত্মত্যাগকারীদের স্মরণ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, স্বাধীনতা ও গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আন্দোলনে লাখো মানুষ জীবন দিয়েছেন। ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানেও বহু মানুষ প্রাণ দিয়েছেন এবং অনেকে আহত ও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। ন্যায়পরায়ণতা ও সুশাসন প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে শহীদদের রক্তের ঋণ পরিশোধ করা সবার পবিত্র দায়িত্ব।

 

 

কিউএনবি/আয়শা/১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬,/রাত ১২:৩০

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category

আর্কাইভস

October 2026
M T W T F S S
 12345
6789101112
13141516171819
20212223242526
27282930  
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৫-২০২৬
IT & Technical Supported By:BiswaJit