বৃহস্পতিবার, ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৮:৪৬ অপরাহ্ন
শিরোনাম
মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশিদের সংকট-সম্ভাবনা নিয়ে হাইকমিশনে জামায়াত নেতার বৈঠক মুজিবুল হকের জমি-গাড়ি জব্দ, ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ জনগণের ভোগান্তি নিরসনে লং মার্চে অংশ নিচ্ছে এনসিপি : আখতার হোসেন লর্ডসেই ক্যারিয়ারের ইতি টানতে চেয়েছিলেন রোহিত, চাঞ্চল্যকর তথ্য ফাঁস জন্মাষ্টমী উপলক্ষে হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী আসিফ মাহমুদের দুর্নীতি অনুসন্ধানে নথি তলব করল দুদক পাহাড়ের সমস্যার সমাধানে ‘হলিস্টিক অ্যাপ্রোচ’ পদ্ধতিতে এগোতে চায় সরকার; মীর হেলাল কোন দেশ থেকে কত রেমিট্যান্স আসে সংসদে জানালেন মন্ত্রী মার্কিন হামলায় ইরানের নৌবাহিনীর ৬ সদস্য নিহত তিনি অভিনেতা বা নায়ক নয়, একজন শিল্পীর বহুমাত্রিক সত্তা

জনগণের ভোগান্তি নিরসনে লং মার্চে অংশ নিচ্ছে এনসিপি : আখতার হোসেন

Reporter Name
  • Update Time : বৃহস্পতিবার, ৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
  • ১২ Time View

ডেস্ক নিউজ : জনগণের ভোগান্তি নিরসন এবং গণভোটের রায় বাস্তবায়নের লক্ষ্যেই ১১ দলীয় ঐক্যের ব্যানারে ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম পর্যন্ত লং মার্চে এনসিপি অংশ নিচ্ছে বলে জানিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সদস্য সচিব আখতার হোসেন। বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

আখতার হোসেন বলেন, ‘১১ দলীয় ঐক্যের ব্যানারে আগামী ৫ সেপ্টেম্বর আমরা ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম পর্যন্ত লং মার্চের সিদ্ধান্ত নিয়েছি। সে লং মার্চ কীভাবে বাস্তবায়ন করা হবে, সেখানে জাতীয় নাগরিক পার্টি এনসিপির অংশগ্রহণ কীভাবে হবে, সে বিষয় নিয়ে আজকে আমাদের একটি মিটিং ছিল। আমাদের আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামের সভাপতিত্বে জাতীয় নাগরিক পার্টি এনসিপির সকল অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠন এবং তাদের সকল নেতাদের সঙ্গে নিয়ে আমরা সিদ্ধান্তগুলো গ্রহণ করেছি। আমরা সামগ্রিকভাবে বাংলাদেশের বর্তমান যে প্রেক্ষাপট দেখছি, তাতে করে জনভোগান্তি নিরসন করা এবং গণভোটের রায় বাস্তবায়ন করা, সেই লক্ষ্য নিয়েই আমরা এই লং মার্চে উপস্থিত হচ্ছি।’

এনসিপির সদস্য সচিব বলেন, ‘সরকার গঠন করার ছয় মাস সময় অতিক্রান্ত হয়ে গেছে। কিন্তু এই ছয় মাস সময়কালজুড়ে সরকার গণভোটের রায় বাস্তবায়ন করছে না, সরকার জনগণের নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারছে না, জনগণের জন্য নিত্যপ্রয়োজনীয় বিদ্যুৎ, তেল, গ্যাস ও সারের সরবরাহ করতে পারছে না। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিও ভালো না ।’তিনি বলেন, ‘জনগণের যে দাবি-দাওয়াগুলো রয়েছে, সেগুলো নিয়ে আমরা সংসদে কথা বলছি। কিন্তু এখনো পর্যন্ত সরকারের তরফ থেকে এই দাবি-দাওয়াগুলোকে গ্রাহ্য করার মতো মানসিকতা প্রদর্শন করা হয়নি।’

জ্বালানি সংকট প্রসঙ্গে আখতার হোসেন বলেন, ‘সরকার ক্ষমতায় আসার পরে জ্বালানির দাম বাড়ানো হয়েছে। কয়েক দফা বিদ্যুতের দাম বাড়ানো হয়েছে। কিন্তু তারপরেও এখন ঘরে ঘরে লোডশেডিং। গ্রামাঞ্চলগুলোতে দিনে ১২ থেকে ১৪ ঘণ্টা পর্যন্ত লোডশেডিং থাকে। কোনো কোনো অঞ্চলে তার থেকেও বেশি সময় লোডশেডিং থাকে।’‘এটা চাক্ষুষ অভিজ্ঞতা থেকে বলছি। নিজে গ্রামে গিয়েছিলাম। গ্রামের মানুষের অভিজ্ঞতা থেকে বলছি। গ্রামের কৃষকরা এখন সার পাচ্ছেন না। অথচ এখন এমন মৌসুম চলছে যে এ মৌসুমে কৃষকরা যদি সার না পান, তাহলে তারা ফসল উৎপাদন করতে ব্যাহত হবেন এবং আমাদের কিন্তু না খেয়ে মরতে হবে। এ ধরনের পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে।’
তিনি আরও বলেন, ‘গ্যাসের সংকট, যার কারণে শিল্প-কারখানাগুলো বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। অনেক জায়গাগুলোতেই যারা পারিবারিকভাবে রান্নাবান্নার কাজে গ্যাসের ওপর নির্ভরশীল থাকেন, সে মানুষগুলো একটা দারুণ ভোগান্তির মধ্যে পড়েছেন। সামগ্রিকভাবে জ্বালানি সেক্টরটাতে সরকার চূড়ান্ত একটা ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে এবং তারা সবসময় এই ব্যর্থতাকে আড়াল করার একটা চেষ্টা করছে।’
সরকারের বক্তব্যের সমালোচনা করে আখতার হোসেন বলেন, ‘এমন ধরনের কথা তারা বলেছে যে বিদ্যুতের নাকি সংকট নেই, লোডশেডিং নাকি হয় না। বরং এক পোল থেকে আরেক পোলে বিদ্যুৎ যেতে যে সময়টা প্রয়োজন হয়, সেই সময়ের আধিক্যের কারণে নাকি এক স্থান থেকে অন্য স্থানে বিদ্যুৎ পৌঁছাতে যে দেরি হয়, সেটাকেই নাকি লোডশেডিং বলা হচ্ছে। এটা জনগণের ভোগান্তি আড়াল করে, জনগণের সত্যিকারের সংকটকে আমলে না নেওয়ার মানসিকতার একটি বহিঃপ্রকাশ।’
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা এটা খেয়াল করে দেখেছি, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি একটা নাজুক অবস্থার মধ্যে রয়েছে। বিভিন্ন জায়গায় চাঁদাবাজি, ছিনতাই, রাহাজানির মতো ঘটনা ঘটছে। এমনকি একজন শিক্ষিকা, যিনি ঢাকায় এসেছিলেন চিকিৎসা করানোর জন্য, সংসদ ভবনের সামনে ছিনতাইকারীর হামলায় তিনি রাস্তায় পড়ে আহত হলেন এবং তার জীবনের অবসান ঘটলো।’
তিনি বলেন, ‘এ ধরনের একটা পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে যে বাংলাদেশের মানুষরা সংসদ ভবনের আশপাশের এলাকা থেকে শুরু করে প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চল পর্যন্ত কোথাও এখন আর নিরাপদভাবে বসবাস করতে পারছেন না।’
‘বিভিন্ন জায়গাতেই আপনারা দেখবেন চাঁদাবাজির মতো ঘটনাগুলো ঘটছে। সেটা কোন পর্যায়ে গেছে যে চারণভূমিতে মহিষ চারণ করতে হলেও চাঁদা দিতে হবে। এ ধরনের একটি পরিবেশ-পরিস্থিতি বাংলাদেশে তৈরি করা হয়েছে।’
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের প্রসঙ্গ টেনে আখতার হোসেন বলেন, ‘আপনারা দেখেছেন যে বাংলাদেশের মানুষদের ২৪-এর অভ্যুত্থানের সময়কালে একটা গণহত্যার মতো পরিবেশের মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে। একটা মানবতাবিরোধী অপরাধ বাংলাদেশের মানুষের ওপর সংঘটিত হয়েছে। সেই আসামিদেরকে যখন কোর্টে উপস্থাপন করা হচ্ছে, তারা হাস্যোজ্জ্বল চেহারায় উপস্থিত হচ্ছেন। বিভিন্নভাবে এই ক্রিমিনাল মানবতাবিরোধী অপরাধীদের সাজা কমিয়ে দেওয়া হচ্ছে।’
‘আমরা নাম ধরে ধরে বলতে পারব, একেবারে সিটি করপোরেশন থেকে শুরু করে ইউনিয়ন পরিষদ পর্যন্ত প্রত্যেকটা জায়গাতেই সরকার তাদের দলের নেতাকর্মীদের পদায়িত করছেন। তারা ইউনিয়ন পরিষদে পর্যন্ত বিএনপির নেতাকর্মীদের প্রশাসক হিসেবে বসাচ্ছেন এবং বিভিন্ন জায়গায়, বিভিন্ন স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানগুলোতে নেতাকর্মীদের পদায়িত করছেন এবং নানাভাবে প্রতিষ্ঠানগুলোকে কবজা করছেন।’মানবাধিকার ও গুম প্রতিরোধ আইন প্রসঙ্গে এনসিপির সদস্য সচিব বলেন, ‘বাংলাদেশের মানুষদের সরকার যে নতুন একটা প্রত্যাশার কথা বলেছিল, সে প্রত্যাশার পথে অগ্রসর না হয়ে তারা বরং পেছনের দিকে ফিরে যাওয়ার বন্দোবস্ত করেছে।’
‘মানবাধিকার কমিশন নিয়ে একটা আইন হচ্ছে, গুম প্রতিকার এবং প্রতিরোধ নিয়ে একটা আইন হচ্ছে। তারা বলেছিল অধ্যাদেশগুলোকে তারা ল্যাপস করে দিয়েছে, যাতে করে আরও শক্তিশালী আইন তারা নিয়ে আসতে পারে। কিন্তু দুর্ভাগ্যের বিষয় হলো, শক্তিশালী আইন আনার কথা বলে তারা এমন দুর্বল আইন দিয়ে আসছে, যাতে গুম, খুন, মানবাধিকার হরণ ও মানবতাবিরোধী অপরাধের সঙ্গে যুক্ত বাহিনীগুলোকে সঠিকভাবে বিচারের আওতায় নিয়ে আসার সুযোগ এই আইনগুলোতে আর থাকছে না।’

দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি নিয়ে তিনি বলেন, ‘নানা দিকে ভোগান্তি, সারের সংকট, বিদ্যুতের সংকট, গ্যাসের সংকট এবং দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিতে জনগণের একটা নাভিশ্বাস উঠে গেছে।’তিনি বলেন, ‘আমরা ১১ দলীয় ঐক্য সিদ্ধান্ত নিয়েছি, আমরা জনগণের কাছে যাব। বাংলাদেশের প্রত্যেকটা প্রান্তে আমরা যাব এবং জনগণের পক্ষ থেকে জনগণের ভোগান্তির কথাগুলোকে দেশের মিডিয়ার কাছে তুলে ধরব, সরকারের কাছে তুলে ধরব।’

লং মার্চের কর্মসূচি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আমরা বিভাগীয় সমাবেশগুলো করেছি। এখন বিভাগগুলোতে লং মার্চের উদ্দেশ্যে আমরা যাত্রা শুরু করেছি। আমরা কিন্তু সরকারকে এখনো পর্যন্ত সময় দেওয়ার জন্য প্রস্তুত। কিন্তু সরকারকে অবশ্যই সেই সময়টা ন্যায্যভাবে জনগণের কল্যাণে খরচ করতে হবে।’

 

 

কিউএনবি/আয়শা/০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬,/রাত ৮:৩২

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category

আর্কাইভস

September 2026
M T W T F S S
1234567
891011121314
15161718192021
22232425262728
293031  
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৫-২০২৬
IT & Technical Supported By:BiswaJit