আন্তর্জাতিক ডেস্ক : ‘পশ্চিমাদের নিষেধাজ্ঞার হুঁশিয়ারি তোয়াক্কা না করে’ রাশিয়ার সঙ্গে পারমাণবিক বিদ্যুৎ খাতে সম্পর্ক আরও গভীর করার পরিকল্পনা করছে তুরস্ক।
মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) এমনটিই জানিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান। এদিন কিরগিজস্তানে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে বৈঠকের পর বিদ্যুৎ খাতে দ্বিপক্ষীয় এই সহযোগিতা বাড়ানোর বার্তা দেন তিনি।
ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে আঙ্কারা ও মস্কোর ঘনিষ্ঠতা নিয়ে পশ্চিমা মিত্রদের মাঝে ইতোমধ্যেই উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। তারই মধ্যে এই সিদ্ধান্ত উদ্বেগের পারদ আরও চড়াও করবে বলেই আশঙ্কা করা হচ্ছে।
মঙ্গলবার কিরগিজস্তানের বিশকেকে সাংহাই সহযোগিতা সংস্থার (এসসিও) শীর্ষ সম্মেলনের ফাঁকে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে বৈঠকে বসেন এরদোয়ান। বৈঠক শেষে পুতিনের পাশে বসেই এরদোয়ান বলেন, ‘আক্কুয়ু পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র রাশিয়া-তুরস্ক সম্পর্কের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আমরা এখন কাজের শেষ পর্যায়ে আছি।’
তুরস্কের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা আনাদোলু জানায়, এরদোয়ান আরও বলেন, বর্তমান আক্কুয়ু কেন্দ্র চালুর পাশাপাশি নতুন কিছু পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র খোলার লক্ষ্যে রাশিয়া ও তুরস্ক একই সঙ্গে কাজ করবে। দুই দেশের মধ্যকার বর্তমান দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে ‘অতীতের যেকোনো সময়ের চেয়ে অনেক বেশি মজবুত’ বলেও বর্ণনা করেন তুর্কি প্রেসিডেন্ট।
অন্যদিকে, বৈঠককালে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন তুরস্ককে মস্কোর বিশেষ সুবিধা পাওয়া অন্যতম রাষ্ট্র হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
বর্তমানে রাশিয়ার রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা ‘রোসাটম’ তুরস্কের ভূমধ্যসাগরীয় উপকূলে আক্কুয়ু পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ করছে। ইতোমধ্যে এটির কাজ শেষের পথে রয়েছে। চার রিঅ্যাক্টর বিশিষ্ট এই কেন্দ্রটি পুরোপুরি চালু হলে তুরস্কের মোট বিদ্যুৎ চাহিদার প্রায় ১০ শতাংশ সরবরাহ করবে।
তুরস্ক নিজস্ব জ্বালানির ঘাটতি থাকায় বিদেশি আমদানির ওপর চরমভাবে নির্ভরশীল। দেশটির মোট শক্তির চাহিদার প্রায় ৭০ শতাংশই মেটাতে হয় আমদানি করা জ্বালানি দিয়ে।
জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক বাণিজ্য পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত বছর তুরস্ক রাশিয়া থেকে ৪২.৩৭ বিলিয়ন ডলারের পণ্য আমদানি করেছে। যার মধ্যে কেবল জ্বালানি খাতেই ব্যয় করেছে ২৯.৮ বিলিয়ন ডলার।
কোন হুঁশিয়ারি
পশ্চিমা মিত্রদের উদ্বেগের মূল কারণ ইউক্রেনে রুশ আগ্রাসনের বিরুদ্ধে পশ্চিমা জোটের কঠোর নীতির সাথে আঙ্কারার অসম্মতি। ন্যাটো সদস্য হিসেবে তুরস্ক ইউক্রেনের আঞ্চলিক অখণ্ডতাকে সমর্থন করে। তবে তারা রাশিয়ার ওপর পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞায় যোগ দেয়নি। বরং মস্কোর সঙ্গে পূর্ণাঙ্গ অর্থনৈতিক ও জ্বালানি সম্পর্ক বজায় রেখেছে।
এর আগে এরদোয়ান রাশিয়ার সঙ্গে নতুন পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের ইঙ্গিত দিলে ওয়াশিংটন সরাসরি সতর্কবার্তা দিয়েছিল। যুক্তরাষ্ট্র জানায়, তুরস্কের ব্যাংক ও ব্যবসায়ীরা রাশিয়াকে কোনো প্রকার সহায়তা করলে তাদের ওপরও মার্কিন গৌণ নিষেধাজ্ঞা (সেকেন্ডারি স্যাঙ্কশন) আরোপ করা হতে পারে। পশ্চিমা জোট মনে করে, আঙ্কারার এই নীতি মস্কোকে একঘরে করার আন্তর্জাতিক প্রচেষ্টাকে দুর্বল করছে।
কিউএনবি/অনিমা/০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬,/সকাল ৮:০৯