বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬, ১০:৩২ অপরাহ্ন
শিরোনাম

১ ট্রিলিয়ন ডলারের খনিজ সম্পদ, মার্কিন বিনিয়োগ চায় তালেবান

Reporter Name
  • Update Time : মঙ্গলবার, ১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
  • ৩৪ Time View

আন্তর্জাতিক ডেস্ক  : যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে অতীতের দুই দশকের যুদ্ধের তিক্ততা ভুলে অর্থনৈতিক সহায়তার মাধ্যমে এক নতুন কূটনৈতিক সম্পর্কের সূচনা করতে চায় আফগানিস্তানের তালেবান সরকার। দেশের অবহেলায় পড়ে থাকা বিশাল অর্থনৈতিক সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে তারা ওয়াশিংটনকে অবকাঠামো, কৃষি, বাণিজ্য এবং বিশেষ করে খনিজ খাতে বড় ধরনের বিনিয়োগের আহ্বান জানিয়েছে। কট্টরপন্থার বাইরে এসে বিশ্ব সম্প্রদায়ের কাছ থেকে স্বীকৃতি অর্জন এবং অর্থনৈতিক স্বনির্ভরতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যেই কাবুলের এই রূপান্তরমুখী কূটনৈতিক উদ্যোগ।

তালেবানের অন্তর্বর্তীকালীন পররাষ্ট্রমন্ত্রী আমির খান মুত্তাকি এক সাক্ষাৎকারে জানান, আফগানিস্তান ও যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান সম্পর্ককে গত ২০ বছরের সামরিক সংঘাতের চশমায় দেখা উচিত নয়। তিনি দুই দেশের সম্পর্ককে ভবিষ্যতের সহযোগিতার নতুন ভিত্তিতে মূল্যায়নের অনুরোধ জানিয়ে বলেন, কাবুলের অর্থনৈতিক নীতি সবার জন্য উন্মুক্ত এবং মার্কিন বিনিয়োগকে সেখানে সানন্দে স্বাগত জানানো হবে।

ওয়াশিংটনের সঙ্গে কূটনৈতিক উষ্ণতা বাড়াতে তারা ইতিমধ্যে কাবুলে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাস এলাকাটি পুনর্গঠন করেছে। সেখানে নিরাপত্তা জোরদার, রাস্তাঘাট সংস্কার এবং নতুন গাছপালা রোপণ করে পরিবেশ প্রাণবন্ত করা হয়েছে বলে তিনি মার্কিন দূতাবাস পুনরায় চালু করার স্পষ্ট ইঙ্গিত দেন। তবে আফগানিস্তানে ফেলে যাওয়া মার্কিন সামরিক সরঞ্জাম এবং বাগরাম বিমানঘাঁটির ওপর যুক্তরাষ্ট্রের কোনো সার্বভৌম অধিকার মেনে নিতে অস্বীকার করে তিনি এগুলোকে আফগানিস্তানের নিজস্ব জাতীয় সম্পদ হিসেবে উল্লেখ করেন।

মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ বিভাগের তথ্য অনুযায়ী আফগানিস্তানের মাটির নিচে আনুমানিক ১ ট্রিলিয়ন ডলারের বেশি মূল্যের বিপুল প্রাকৃতিক খনিজ সম্পদ অলস পড়ে রয়েছে। এগুলোর মধ্যে সোনা, রুপা, প্লাটিনাম, লৌহ আকরিক, ইউরেনিয়াম, জিংক, ট্যান্টালাম, বক্সাইট ও কয়লার মতো মূল্যবান পদার্থের পাশাপাশি রয়েছে বিরল তামার বিশাল মজুত। বিশ্বজুড়ে যেখানে নতুন তামার খনির সংকট তীব্র হচ্ছে, সেখানে আফগান তামার মজুত বৈশ্বিক বাজারে এক বিশাল প্রভাব তৈরি করতে পারে। ইতিপূর্বে ডোনাল্ড ট্রাম্প তাঁর প্রথম মেয়াদে এই বিপুল সম্পদে আগ্রহ দেখালেও, সামরিক উত্তেজনার কারণে তা আর বাস্তবে রূপ নেয়নি।

এদিকে ক্ষমতা গ্রহণের পাঁচ বছর পার হতে চললেও নারীদের শিক্ষা ও চলাফেরার স্বাধীনতা হরণের মতো মানবাধিকার লঙ্ঘনের কারণে তালেবান সরকার এখনো আন্তর্জাতিকভাবে কার্যত একঘরে হয়ে আছে। এ পর্যন্ত কেবল রাশিয়াই তালেবান সরকারকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃতি দিয়েছে। তবে এ সত্ত্বেও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিনিময়ে চীন, পাকিস্তান, ভারত ও ইরান দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য বজায় রেখেছে। 

তালেবানের দাবি, চীন ও ইরানসহ বিভিন্ন দেশ ইতিমধ্যে সোনা, মূল্যবান পাথর ও ক্রোমাইট খাতে প্রায় ৭ বিলিয়ন ডলারের খনি চুক্তি করেছে। কিন্তু একটি টেকসই ও বৃহত্তর অর্থনীতির জন্য যুক্তরাষ্ট্রের মতো পরাশক্তির অংশগ্রহণ আফগানিস্তানের জন্য এখন জরুরি হয়ে পড়েছে। তবে এই অর্থনৈতিক আহ্বানে ওয়াশিংটন সাড়া দেবে কি না, তা নির্ভর করছে তালেবানদের মানবাধিকার নীতির পরিবর্তন ও মার্কিন সরকারের কূটনৈতিক সিদ্ধান্তের ওপর।

সূত্র: দ্য ইন্ডিপেন্ডেন্ট

কিউএনবি/অনিমা/০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬,/রাত ১১:০৯

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category

আর্কাইভস

October 2026
M T W T F S S
 12345
6789101112
13141516171819
20212223242526
27282930  
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৫-২০২৬
IT & Technical Supported By:BiswaJit