তথ্যপ্রযুক্তি ডেস্ক : ল্যাবে তৈরি কৃত্রিম মস্তিষ্কেও এবার মানুষের মতো বয়সের ছাপ পড়ছে! হার্ভার্ড ইউনিভার্সিটির গবেষকরা ল্যাবে মানুষের মস্তিষ্কের টিস্যু বা ‘ব্রেন অর্গানয়েড’ তৈরি করেছেন। অবাক করা বিষয় হলো, এই টিস্যুগুলো তারা টানা ৭ বছর বাঁচিয়ে রেখে এক নতুন ইতিহাস গড়েছেন। এর আগে এমন টিস্যু মাত্র ৬৯৪ দিন বাঁচানো সম্ভব হয়েছিল। গোলমরিচের মতো ছোট্ট এই কোষগুলো মানুষের মস্তিষ্কের বেড়ে ওঠা বুঝতে বিজ্ঞানীদের দারুণ সাহায্য করবে। বিখ্যাত ‘নেচার’ সাময়িকীতে এই গবেষণার খবরটি ছাপা হয়েছে।
বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, এই ছোট্ট মস্তিষ্কগুলো একদম মানুষের মতোই সময়ের হিসাব বুঝতে পারে। মায়ের পেট থেকে শুরু করে শৈশব পর্যন্ত একটি সাধারণ মস্তিষ্ক যেভাবে ধীরে ধীরে বেড়ে ওঠে, এগুলোও ঠিক সেভাবেই কাজ করে। আগে এই ধরনের কৃত্রিম কোষ মাত্র কয়েক মাস বাঁচত। তবে এবার বিশেষ এক ধরনের পুষ্টি উপাদানের সাহায্যে ১০ লাখেরও বেশি কোষকে দীর্ঘ সময় বাঁচিয়ে রাখা হয়েছে। এমনকি এই কোষগুলো নিজেদের মধ্যে মানুষের মতো বৈদ্যুতিক সংকেতও আদান-প্রদান করছে।
গবেষণায় এমন ৩৪টি কৃত্রিম মস্তিষ্ক পরীক্ষা করে দেখা যায়, আসল কোষের সঙ্গে এদের দারুণ মিল রয়েছে। এদের নিজস্ব স্মৃতিও কাজ করে। পুরনো কোনো কোষকে নতুন পরিবেশে রাখলেও এরা আগের কথা মনে রাখতে পারে।
প্রধান গবেষক পাওলা আরলোত্তা জানান, এই মস্তিষ্কগুলো ইতোমধ্যে নষ্ট করে ফেলা হলেও এগুলো আরও অনেক দিন বাঁচানো যেত। এই দারুণ সাফল্য অটিজম কিংবা আলঝেইমার্সের মতো রোগ বুঝতে ও সারাতে অনেক সাহায্য করবে। সেই সঙ্গে মানুষের বার্ধক্য নিয়ে গবেষণার পথও এখন আরও সহজ হবে।
কিউএনবি/অনিমা/২৭ অগাস্ট ২০২৬,/বিকাল ৪:১৮