ডেস্ক নিউজ : রাষ্ট্রপতি পদে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের মনোনয়ন চূড়ান্ত হওয়ায় তাকে ঘিরে রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে নতুন দায়িত্বের প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। এরই মধ্যে বঙ্গভবনে যাওয়ার প্রেক্ষাপটে জাতীয় সংসদে তার আসনটি যেমন আলোচনায় এসেছে, তেমনি নতুন করে সামনে এসেছে সরকারি দলের উপনেতার পদটি। বিএনপি এখনো এ পদে কাউকে মনোনয়ন দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়নি। ফলে প্রশ্ন উঠেছে, মির্জা ফখরুল বঙ্গভবনে যাওয়ার পর সংসদ উপনেতার পদে নতুন কাউকে বসানো হবে, নাকি বিএনপি সরকারের অতীতের নজির অনুসরণ করে এবারও পদটি শূন্য রাখা হবে?
সংসদীয় রীতিনীতি অনুযায়ী উপনেতা সাধারণত সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রীর পাশের আসনটিতে বসেন। বর্তমানে সংসদে প্রধানমন্ত্রীর পাশের আসনে বসতেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। এর পরের আসনটিতে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এবং তার পরবর্তী আসনটি সালাহউদ্দিন আহমদের। এখন যাকেই উপনেতা করা হোক তিনিই প্রধানমন্ত্রীর পাশে বসবেন। বিএনপির স্থায়ী কমিটির প্রবীণ সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন শারীরিকভাবে কিছুটা অসুস্থ।
তিনি রাষ্ট্রপতি পদে অন্যতম দাবিদার ছিলেন। সংসদ উপনেতা পদেও প্রবীণ হিসাবে বিবেচিত ছিলেন তিনি। কিন্তু এখন কাকে উপনেতা করা হবে সে বিষয়টি নিশ্চিত নয়। তবে নতুন কাউকে উপনেতা করা হলে সংসদের আসনের পুনর্বিন্যাস করতে হবে। তবে বিএনপির ইতিহাসে অতীতে অভ্যন্তরীণ প্রতিযোগিতার কারণে উপনেতা পদটি ফাঁকা রাখার নজির রয়েছে।
আবার ২০০৮ সালের নবম সংসদে বিএনপি বিরোধী দলে গেলে ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, ব্যারিস্টার জমিরউদ্দিন সরকার ও সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর নাম আলোচনায় এলেও কাউকেই বিরোধীদলীয় উপনেতা করা হয়নি। ফলে রাষ্ট্রপতি হিসাবে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বঙ্গভবনে যাওয়ার পর এবার সংসদ উপনেতা পদটি ফাঁকা রাখা হবে নাকি নতুন কাউকে বসানো হবে, তা স্পষ্ট নয়।
এদিকে বিএনপির সরকারের প্রথম ৬ মাস পূর্ণ হতে যাচ্ছে ১৬ আগস্ট। অন্যদিকে, ২০ আগস্ট অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে দেশের নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন। সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে রাষ্ট্রপতি হিসাবে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর শপথ নেবেন ২০ অথবা ২১ আগস্ট। দায়িত্বশীল সূত্রগুলো থেকে জানা গেছে, রাষ্ট্রপতির শপথগ্রহণের পরপরই বর্তমান মন্ত্রিসভা পুনর্গঠন করা হতে পারে। এ নিয়ে বর্তমানে বিএনপির সর্বস্তরে আলোচনা ও গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়েছে। মন্ত্রী বা প্রতিমন্ত্রী হতে আগ্রহীদের মধ্যে যেমন অস্থিরতা তৈরি হয়েছে; তেমনি অস্থিরতা ছড়িয়েছে বাদ পড়ার আশঙ্কায় থাকা মন্ত্রীদের মধ্যেও।
উভয়পক্ষই প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের প্রভাশালী কর্মকর্তাদের পাশাপাশি সিনিয়র মন্ত্রী ও নেতাদের কাছে দৌড়ঝাঁপ করে পরিস্থিতি বোঝার চেষ্টা করছেন। আগ্রহীরা তদবির করছেন মন্ত্রিসভায় স্থান পেতে; আর বাদ পড়ার আশঙ্কায় থাকা মন্ত্রীরা চেষ্টা চালাচ্ছেন টিকে থাকতে। তবে এমন পরিস্থিতির মধ্যেই বিএনপির মিত্র দলের সংসদ-সদস্য বিজেপির চেয়ারম্যান আন্দালিব রহমান পার্থ মন্ত্রী হচ্ছেন বলে নির্ভরযোগ্য সূত্রগুলো থেকে জানা গেছে। এছাড়া টেকনোক্রেট কোটায় মন্ত্রী হওয়ার দৌড়ে এগিয়ে রয়েছেন ড. আসাদুজ্জামান রিপন।
কিউএনবি/আয়শা/১৫ অগাস্ট ২০২৬,/সন্ধ্যা ৬:৩০