লাইফ স্টাইল ডেস্ক : গরমে অতীষ্ঠ জীবন। শরীর ঠাণ্ডা ও সতেজ রাখতে চাই প্রচুর পানি। এ ছাড়া উচ্চ পানিসমৃদ্ধ খাবার চাই। এসব শরীরকে হাইড্রেটেড রাখে এবং প্রাকৃতিকভাবে তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে। আর শরীর ঠান্ডা রাখতে এবং গরমের অস্বস্তি দূর করতে প্রচুর পানিযুক্ত ফল, শাকসবজি ও পানীয় খাওয়া উচিত। ডাবের পানি, তরমুজ, শসা, টকদই, পুদিনাপাতা এবং লেবুর শরবত আপনার শরীর ভেতর থেকে ঠান্ডা রাখতে দারুণ কাজ করে। এই প্রচণ্ড গরমে ক্লান্তিতে কাজে উৎসাহ পাওয়া যায় না। এই গরমে তৃপ্তি এনে দিতে পারে এমন কিছু পুষ্টিকর খাবার, যা গরমে শরীরকে ঠান্ডা রাখতে সহায়তা করে।
১. কলা
কলা সবারই পছন্দ। তাই প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় কলা রাখুন, তা কাঁচা হোক কিংবা পাকা। খেতে সুস্বাদু, সস্তা, সারা বছর মেলে— এমন সবজি বা ফলের মধ্যে কলায় রয়েছে প্রচুর পটাশিয়াম, যা ভিটামিন ‘এ’, ‘বি’ ও ‘সি’র গুরুত্বপূর্ণ উৎস। কলায় রয়েছে প্রচুর পরিমাণে আঁশ, লৌহসহ অন্যান্য খনিজ উপাদান। কলা পাকা বা কাঁচা— দুই অবস্থায়ই খাওয়া যায়। অতিরিক্ত ঘামের শরীর থেকে যে তরল বের হয়ে যায়, তা নিয়ন্ত্রণ করতে সাহায্য করে পটাশিয়াম। গরমের সময় কলা খেতে পারেন। এ ছাড়া পটাশিয়ামসমৃদ্ধ খাবারের মধ্যে আছে সবুজ শাকসবজি, শুষ্ক ফল ও শস্য।
২. শসা
শসা একটি অত্যন্ত পুষ্টিকর ও জনপ্রিয় লতানো সবজি, যাতে প্রায় ৯৫ শতাংশ জলীয় অংশ থাকে। এটি সালাদ হিসেবে কাঁচা খাওয়া হয় এবং চাষাবাদের জন্য এর বিভিন্ন হাইব্রিড জাত সারা বছরই বেশ উপযোগী। শসায় রয়েছে ৯৬ দশমিক ৭ শতাংশ পানি। এই গরমে প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় ডাইনিংয়ে শসার সালাদ রাখুন। শসার সঙ্গে ধনেপাতা মেশালে আরও স্বাদ বাড়িয়ে তুলবে। পাশাপাশি ননিবিহীন দুধের তৈরি দই, পুদিনাপাতা আর বরফ ব্লেন্ডারে ব্লেন্ড করে জুস তৈরি করুন। এ জুস আপনার শরীর সতেজ রাখবে এবং তৃষ্ণাও মেটাবে।
৩. পেঁয়াজ
গরমের সময়ে শরীর ঠান্ডা ও রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ এবং হজম শক্তি বাড়াতে কাঁচা পেঁয়াজ খাওয়া দারুন উপকারী। তবে পকেটে পেঁয়াজ রাখলে হিটস্ট্রোক কমে— এমন ধারণা বৈজ্ঞানিকভাবে প্রমাণিত নয়। তবে আসল সুফল পেতে হলে পেঁয়াজ সালাদের সঙ্গে কিংবা খাবারে নিয়মিত খাওয়া উচিত। বিশেষ করে লাল পেঁয়াজ দারুণ উপকারী। কোয়ারসেটিন নামক এক রাসায়নিক উপাদান আছে এতে, যার অ্যান্টিহিস্টামিন প্রভাব রয়েছে। গরমে হিট র্যাশ বা ফুসকুড়ি দেখা দিতে পারে।
সুতরাং পেঁয়াজ এ সমস্যা দূর করতে পারে। ফাইটোকেমিক্যালস নামে একটি বিশেষ উপাদান রয়েছে পেঁয়াজে, যা আপনার শরীরে ভিটামিন ‘সি’র কার্যকারিতা বাড়িয়ে। এতে শরীরে রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতাও বেড়ে যায়। পেঁয়াজে ভিটামিন ‘এ’, ‘সি’ ও ‘ই’র মতো অ্যান্টি-অক্সিডেন্টে ভরপুর। এতে ত্বক সুস্থ থাকে। এবং ত্বক ভালো রাখতে বেশি করে খাবারে পেঁয়াজ রাখা উচিত।
৪. অ্যালোভেরা
তীব্র গরমে আপনার শরীর ও ত্বক ঠান্ডা রাখতে অ্যালোভেরা অত্যন্ত কার্যকরী একটি প্রাকৃতিক উপাদান। একদিকে যেমন ত্বকের রোদে পোড়া ভাব (সানবার্ন) দূর করে থাকে, অন্যদিকে জুস হিসেবে খেলে আপনার শরীরকে ভেতর থেকে হাইড্রেটেড রাখে। যদিও অ্যালোভেরার নাম শুনে অনেকে ভুরু কোঁচকালেও একে সবাই অ্যালোভেরা নামে ভালোই চেনে। ঔষধি এই ভেষজের নানা গুণের কথা পাঁচ হাজার বছরেরও বেশি সময় ধরে এ অঞ্চলের মানুষের জানা। আপনার শরীরে প্রয়োজনীয় পুষ্টির জোগান দিতে আর অসুখ-বিসুখ সারিয়ে তুলতে অ্যালোভেরা অতুলনীয়।
৫. টমেটো
গ্রীষ্মকালে টমেটো চাষ ও খাওয়া আপনার শরীরের জন্য অত্যন্ত উপকারী। তীব্র এই গরমে সঠিক জাত নির্বাচন, নিয়মিত ও পর্যাপ্ত সেচ প্রদান এবং গাছের বিশেষ যত্ন নিশ্চিত করার মাধ্যমে গ্রীষ্মকালেও টমেটোর ভালো ফলন পাওয়া সম্ভব। আর টমেটো আছে ৯৪ দশমিক ৫ ভাগ পানি। এ ছাড়া এতে প্রচুর ভিটামিন ‘সি’, লাইকোপেন, ক্যারোটিন, রিবোফ্লোবিন, ক্যালসিয়াম ও লোহা থাকে। টমেটোর জুস কিংবা সালাদ দুই সুস্বাদু। রান্নার পরও টমেটোর পুষ্টিগুণ কমে না। তাই গরমের সময় টমেটোর স্যুপ কিংবা ঝোল খেতে পারেন।
৬. তরমুজ
যখনই গরম, তখনই এক ফালি তরমুজ খেয়ে নিন। বরফ দেওয়া শরবতও খেতে পারেন তরমুজের মাধ্যমে। হাঁপিয়ে যাওয়া প্রাণ জুড়ে যাবে। তরমুজ গরমেরই ফল। হাটবাজার বা ফলের দোকানে এখন থরে থরে সাজানো থাকে সুমিষ্ট পানিতে ভরপুর তরমুজ। তরমুজে রয়েছে শতকরা ৯১ দশমিক ৫ ভাগ পানি। এতে রয়েছে ক্যানসারপ্রতিরোধী উপাদান লাইকোপেন। প্রচুর ভিটামিন ও খনিজ লবণে সমৃদ্ধ এই ফল গরমে স্বস্তি এনে দেয়।
৭. পুদিনাপাতা
পুদিনাপাতা হলো একটি সুগন্ধি ও অত্যন্ত ঔষধি গুণসম্পন্ন ভেষজ উদ্ভিদ, যা বিশ্বজুড়ে নানা খাবার, পানীয় এবং চিকিৎসায় ব্যবহৃত হয়। এতে প্রচুর পরিমাণে অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট, মেন্থল ও ফাইটোনিউট্রিয়েন্ট থাকে, যা আমাদের শরীরের জন্য ভীষণ উপকারী। ক্লান্তি ও অবসাদ দূর করার ক্ষমতা আছে পুদিনাপাতায়। অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট ও ভিটামিন ‘এ’ দ্বারা পরিপূর্ণ পুদিনাপাতা এমন একটি উপকরণ, যা অতিরিক্ত গরমে ত্বকের ক্ষতি দূর করে থাকে। আর গরমের ঘাম জমে যে ঠান্ডা লেগে যায়, তা প্রতিরোধ করে থাকে। বয়সের ভারে বৃদ্ধ হওয়া থেকে রক্ষা করে পুদিনাপাতা। ত্বক ও চুলকে সতেজ রাখে। অতিরিক্ত গরমে ছোট-বড় প্রায় সবারই বদহজম বা ফুড পয়জনিংয়ের সমস্যা দেখা দিলে পুদিনাপাতা পেটের অভ্যন্তরীণ তাপমাত্রা কমিয়ে খাবার হজমে সাহায্য করে।
কিউএনবি/আয়শা/১৪ অগাস্ট ২০২৬,/রাত ৮:১২