স্পোর্টস ডেস্ক : দীর্ঘ আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে অনেক সাফল্য এলেও একটি আক্ষেপ এখনো রয়ে গেছে ডেভিড মিলারের—দক্ষিণ আফ্রিকার হয়ে কোনো আইসিসি বিশ্বকাপ জিততে না পারা। সেই অপূর্ণতাই ঘোচাতে চান অভিজ্ঞ এই বাঁহাতি ব্যাটার। তার লক্ষ্য, ২০২৭ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপে প্রোটিয়াদের প্রথম শিরোপা জয়ে ভূমিকা রাখা।
সেই আক্ষেপ এবার মেটাতে চান ৩৬ বছর বয়সি এই ব্যাটার। ২০২৭ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপ যৌথভাবে আয়োজন করবে দক্ষিণ আফ্রিকা, জিম্বাবুয়ে ও নামিবিয়া। ঘরের মাঠে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এই আসরকে নিজের ক্যারিয়ারের অন্যতম বড় লক্ষ্য হিসেবে দেখছেন মিলার। জিওস্টারকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, আমি ২০২৭ বিশ্বকাপের জন্য সত্যিই মুখিয়ে আছি। এটি এমন একটি লক্ষ্য, যা আমি অর্জন করতে চাই। ক্যারিয়ারের শেষ দিকে একটি ট্রফি জিতে শেষ করতে পারলে আমি খুবই খুশি হব। বিশ্বকাপ স্কোয়াডে জায়গা পাওয়াও তার কাছে সমান গুরুত্বপূর্ণ।
মিলারের ভাষায়, আমি সেই বিশ্বকাপ দলের অংশ হতে চাই। দক্ষিণ আফ্রিকার মাটিতে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এই বিশ্বকাপ মিলারের জন্য বিশেষ আবেগেরও। ২০১০ সালে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেকের পর দেশের মাটিতে এটিই হবে তার প্রথম সিনিয়র পুরুষদের আইসিসি টুর্নামেন্ট। পাশাপাশি ২০০৩ সালের পর আবারও ৫০ ওভারের বিশ্বকাপের সহ-আয়োজক হচ্ছে দক্ষিণ আফ্রিকা। তবে অভিজ্ঞতার ঝুলিতে তিনটি ওয়ানডে বিশ্বকাপ থাকলেও নিজের জায়গা নিশ্চিত ধরে নিচ্ছেন না তিনি। ২০১৫, ২০১৯ ও ২০২৩ বিশ্বকাপে দক্ষিণ আফ্রিকার প্রতিনিধিত্ব করেছেন মিলার।
তিনি বলেন, কোনো কিছুই নিশ্চিত নয়। এখন থেকে বিশ্বকাপ পর্যন্ত আমার লক্ষ্য থাকবে দলে জায়গা করে নেওয়া এবং দলের জন্য সর্বোচ্চ অবদান রাখা। নিজেদের সমর্থকদের সামনে বিশ্বকাপ খেলার সম্ভাবনাকে বিশেষ সম্মান হিসেবেই দেখছেন এই তারকা ব্যাটার। ‘নিজেদের দর্শকদের সামনে, এমন মাঠে খেলতে পারা যেখানে আমি বছরের পর বছর খেলেছি—এটা অসাধারণ অনুভূতি হবে। সেই দলের অংশ হতে পারলে দারুণ লাগবে’, বলেন তিনি। বিশ্বকাপ মঞ্চে নিজের সামর্থ্যের প্রমাণ আগেই রেখেছেন মিলার। ২০১৫ সালে হ্যামিল্টনে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে এবং ২০২৩ সালে কলকাতার ইডেন গার্ডেন্সে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সেঞ্চুরি হাঁকিয়েছিলেন তিনি।
তবে বিশ্বকাপের সেঞ্চুরির চেয়ে নিজের ক্যারিয়ারের সবচেয়ে বড় অর্জন হিসেবে দেখেন মিডল অর্ডারে ম্যাচ ফিনিশারের ভূমিকা পালনকে। মিলার বলেন, মিডল অর্ডারে ব্যাটিং করে ম্যাচ শেষ করার মাধ্যমে যে ক্যারিয়ার গড়েছি, সেটিই আমাকে সবচেয়ে বেশি গর্বিত করে। এই দক্ষতা আয়ত্ত করতে সময় লাগে। আমি এখনও শিখছি, তবে বিশেষ করে রান তাড়ার ইনিংসগুলোতে এই দায়িত্ব পালন করতে সবসময় উপভোগ করেছি।
১৯৯২ সালে প্রথমবার বিশ্বকাপে অংশ নেওয়ার পর থেকে দক্ষিণ আফ্রিকা একাধিকবার সেমিফাইনাল ও নকআউট পর্বে উঠলেও শিরোপার দেখা পায়নি। ২০২৭ সালে নিজেদের মাটিতে সেই দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান ঘটানোর সুযোগ পাবে প্রোটিয়ারা। আর সেই মিশনের অংশ হয়ে বিশ্বকাপ ট্রফি হাতে তোলাকেই নিজের ক্যারিয়ারের সবচেয়ে স্মরণীয় সমাপ্তি হিসেবে দেখতে চান ডেভিড মিলার।
কিউএনবি/আয়শা/১৩ অগাস্ট ২০২৬,/বিকাল ৪:১৪