আন্তর্জাতিক ডেস্ক : ইউক্রেনে বন্দী উত্তর কোরিয়ার সেনাদের দক্ষিণ কোরিয়ায় হস্তান্তর করার বিষয়টি প্রকাশ্যে এনে চুক্তি ভঙ্গের অভিযোগে সিউলে নিযুক্ত ইউক্রেনের ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রদূতকে তলব করেছে দক্ষিণ কোরিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। একই সঙ্গে ইউক্রেন সরকারের কাছে ঘটনার আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা ও নিঃশর্ত ক্ষমা প্রার্থনার দাবি জানিয়েছে দক্ষিণ কোরিয়া।
দক্ষিণ কোরিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, ইউক্রেনের ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রদূত আন্দ্রি ভিয়েশকিনকে পররাষ্ট্র দপ্তরে ডেকে পাঠিয়ে সরকারের তীব্র অসন্তোষ ও ক্ষোভের কথা জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। উভয় দেশের মধ্যে চুক্তি ছিল উত্তর কোরীয় যুদ্ধবন্দীদের হস্তান্তরের প্রক্রিয়াটি গোপন রাখা হবে। তবে গত সপ্তাহে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি সেই হস্তান্তরের ঘটনাটি প্রকাশ করে দেন, যা সিউলের দৃষ্টিতে এক দ্বিপক্ষীয় বোঝাপড়ার সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট দপ্তরের বক্তব্যের বিরুদ্ধেও তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে, যেখানে গোপনীয়তার কোনো চুক্তি অস্তিত্বেই ছিল না বলে দাবি করা হয়েছিল। দক্ষিণ কোরিয়ার প্রথম উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী পার্ক ইউন-জু এ বিষয়ে স্পষ্ট করে বলেন যে, গোপন চুক্তির বিষয়টি অস্বীকার করে অসত্য তথ্য প্রকাশ করা দুই দেশের পারস্পরিক আস্থা ও বন্ধুত্বের ভিত্তিকেই মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ণ করে। তিনি সতর্ক করে দিয়েছেন, এ ধরনের কর্মকাণ্ড ভবিষ্যতে যৌথ কূটনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে এবং অবিলম্বে যেন এর পুনরাবৃত্তি না ঘটে তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন।
অন্যদিকে ইউক্রেনীয় রাষ্ট্রদূত সিউলের অবস্থান মনোযোগ দিয়ে শুনেছেন এবং তা নিজ দেশের সরকারকে সঠিকভাবে অবগত করবেন বলে জানিয়েছেন। ইউক্রেনীয় গণমাধ্যম ও সরকারি সূত্রগুলো আগে দাবি করেছিল যে, বন্দী হস্তান্তরের বিষয়টি প্রকাশ করার ক্ষেত্রে দুই পক্ষের মাঝে একটি পূর্বমতের মিল ছিল। প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি জাতিসংঘে দাঁড়িয়ে দাবি করেছিলেন, রাশিয়ার হয়ে যুদ্ধ করতে এসে ইউক্রেনীয় বাহিনীর হাতে বন্দী হওয়া দুই উত্তর কোরীয় সৈন্যকে তারা অতি সম্প্রতি দক্ষিণ কোরিয়ার কাছে হস্তান্তর করেছেন।
দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্টের দপ্তর থেকেও এই ঘটনার ওপর একটি স্পষ্ট ও আনুষ্ঠানিক বক্তব্য এবং ইউক্রেন সরকারের পক্ষ থেকে দুঃখ প্রকাশের আহ্বান জানানো হয়েছে। যখন দক্ষিণ কোরিয়া সরকার উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে নতুন করে সংলাপের পথ খোঁজার চেষ্টা করছে এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পিয়ংইয়ংয়ের কূটনীতি আবার সক্রিয় করার উদ্যোগ চলছে, ঠিক সেই সময়ে ইউক্রেনের পক্ষ থেকে আসা এই ধরনের তথ্য ফাঁসে দক্ষিণ কোরীয় রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক মহল গভীরভাবে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছে।
সূত্র: রয়টার্স
কিউএনবি/অনিমা/২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬,/সন্ধ্যা ৭:৩১