বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:৩৩ অপরাহ্ন

টাকার জন্য ‌‘সি-গ্রেড’ সিনেমায় অভিনয়, অনুশোচনা থাকলেও আক্ষেপ নেই অভিনেত্রীর

Reporter Name
  • Update Time : শুক্রবার, ৭ আগস্ট, ২০২৬
  • ৬১ Time View

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : জীবনসংগ্রাম, ঋণের বোঝা এবং পরিবারকে টিকিয়ে রাখার বাধ্যবাধকতায় ক্যারিয়ারের এক অন্ধকার অধ্যায়ের স্মৃতিকথা প্রকাশ করেছেন জনপ্রিয় বলিউড ও ভারতীয় টেলিভিশনের প্রবীণ অভিনেত্রী সুস্মিতা মুখার্জি।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শেয়ার করা এক নতুন ভিডিওতে ‘গোলমাল’ খ্যাত এই অভিনেত্রী খোলাখুলিভাবে জানান, চরম আর্থিক সংকট ও ১ কোটি রুপির বিশাল ঋণ মেটাতে বাধ্য হয়েই তিনি অতীতে এমন কিছু ‘সি-গ্রেড’ এবং নারীবিদ্বেষী সিনেমায় অভিনয় করেছিলেন, যা নিয়ে তিনি মোটেও গর্বিত নন। নিজের সৃষ্টিশীলতার বাইরে গিয়ে করা এসব কাজের জন্য অনুশোচনা থাকলেও সন্তানদের ভবিষ্যৎ গড়ার কারণে ওই সিদ্ধান্তের বিষয়ে তার কোনো আক্ষেপ নেই বলে জানিয়েছেন তিনি।

সামাজিক মাধ্যমে এক অনুরাগীর প্রশ্নের জবাবে এই বিস্ফোরক কথাগুলো সামনে আনেন সুস্মিতা। ওই অনুরাগী জানতে চান, কেন তিনি নারীদের প্রতি অবমাননাকর বা খারাপ মানের চলচ্চিত্রে কাজ করেছিলেন। জবাবে অভিনেত্রী বলেন, প্রশ্নটি শুনে তিনি স্তব্ধ হয়ে গিয়েছিলেন এবং জীবনের অত্যন্ত বেদনাদায়ক একটি সময়ে ফিরে যেতে হয়েছিল তাকে। তিনি বলেন, অনেকে জিজ্ঞেস করে কেন তিনি সি-গ্রেড বা কুরুচিপূর্ণ সিনেমায় কাজ করেছিলেন। সততার সঙ্গে স্বীকার করে তিনি বলেন, জীবনধারণের জন্য তিনি নিজের আত্মাকে বিক্রি করতে বাধ্য হয়েছিলেন। তখন যেমন এটি নিয়ে ভালো বোধ করেননি, এখনো করেন না। কিন্তু তৎকালীন সময়ে এর বাইরে তার কাছে আর কোনো উপায় ছিল না।

অতীতের প্রেক্ষাপট ব্যাখ্যা করে সুস্মিতা জানান, ২০০২ সালে প্রযুক্তিগত পরিবর্তনের মুখে পড়ে তার ও তার স্বামীর প্রযোজনা সংস্থা ‘প্রয়াস প্রোডাকশন’ মারাত্মক ধসের মুখোমুখি হয়। এর ফলে তাদের ঘাড়ে ১ কোটি রুপির বিশাল ঋণের বোঝা চাপে। তৎকালীন সময়ে তাদের পাশাপাশি ‘ট্র্যাক সিনেমা’ এবং ‘অনিল চৌধুরী প্রোডাকশন’-এর মতো প্রতিষ্ঠানগুলোও সম্পূর্ণ দেউলিয়া হয়ে যায়। ঋণদাতারা বাসার দরজায় এসে পাওনা টাকার জন্য অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করত এবং রিকভারি এজেন্টদের উপদ্রবে অত্যন্ত কঠিন সময় পার করতে হতো তাদের। ছোট ছোট সন্তানদের মুখে অন্ন তুলে দিতে এবং ওই ১ কোটি রুপির ঋণ শোধ করতে তিনি পুনরায় অভিনয়ে ফিরতে ও যেকোনো কাজের প্রস্তাব গ্রহণ করতে বাধ্য হন। ৩ থেকে ৪ বছর ধরে টানা কঠোর পরিশ্রম করে সেই পুরো ঋণ পরিশোধ করেন তারা।

দেনা পরিশোধের পাশাপাশি নিজ কন্যাসন্তানের উচ্চশিক্ষার খরচ জোগানোও তার কাজের অন্যতম বড় কারণ ছিল বলে জানান এই অভিনেত্রী। পারিবারিক দ্বিমত থাকা সত্ত্বেও তিনি তার মেয়েকে অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডের অত্যন্ত ব্যয়বহুল প্রতিষ্ঠানে পড়তে পাঠান। বিশাল এই পড়াশোনার খরচ চালানো এবং সন্তানদের স্বাবলম্বী করার জন্য তাকে প্রতিনিয়ত অর্থ উপার্জনের পেছনে ছুটতে হয়েছিল।

নিজের ক্যারিয়ার ও জীবনের এই তিক্ত অভিজ্ঞতা তুলে ধরে সুস্মিতা মুখার্জি জানান, পেশাদার অভিনয়শিল্পী হলেও সব সময় পছন্দমতো কাজ বেছে নেওয়ার সুযোগ থাকে না। অনেকসময় সংসারের চাকা সচল রাখতেই বাধ্য হয়ে অনিচ্ছাসত্ত্বেও অনেক কাজ করতে হয়। তবে বর্তমানে সেই কঠিন দিন পার করে এসেছেন জানিয়ে তিনি বলেন, এখন আত্মাকে নাড়া দেয় না বা সম্মান পাওয়া যায় না এমন কোনো কাজ তিনি গ্রহণ করেন না। জীবনের এই পর্যায়ে এসে কেবল নিজের মনের মতো ও সম্মানজনক প্রজেক্টেই কাজ করছেন বলে নিশ্চিত করেন এই অভিনেত্রী।

সূত্র: এনডিটিভি

কিউএনবি/অনিমা/০৭ অগাস্ট ২০২৬,/রাত ১১:২৩

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category

আর্কাইভস

October 2026
M T W T F S S
 12345
6789101112
13141516171819
20212223242526
27282930  
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৫-২০২৬
IT & Technical Supported By:BiswaJit