স্পোর্টস ডেস্ক : পর্তুগাল জাতীয় দলের ক্যাম্প ছেড়ে যাওয়া এবং কোচ জর্জ জেসুসের সঙ্গে বিরোধে জড়ানোর ঘটনায় ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর সমালোচনা করলেন তার সাবেক ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড সতীর্থ ওয়েইন রুনি। ৪১ বছর বয়সি পর্তুগিজ তারকার পরিস্থিতি সামলানোর ধরন নিয়ে প্রশ্ন তুলে ইংল্যান্ডের সাবেক এই তারকা ফুটবলার জানিয়েছেন, রোনালদোর এমন আচরণ তাকে হতাশ করেছে।
বিষয়টি আরও আলোচনায় এসেছে এ কারণে যে, সৌদি ক্লাব আল নাসরে জেসুসের অধীনেই কাজ করেছেন রোনালদো। এমনকি ২০২৬ বিশ্বকাপের পর জেসুসকে পর্তুগাল জাতীয় দলের কোচ করার প্রস্তাবও দিয়েছিলেন এই তারকা। সেই কোচের বিরুদ্ধেই প্রকাশ্যে অবস্থান নেওয়ায় রোনালদোর সমালোচনা করছেন অনেকে।
‘দ্য ইউনাইটেড স্ট্যান্ড’ ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে কথা বলার সময় রুনি বলেন, রোনালদোর এমন পদক্ষেপের কারণ তিনি বুঝতে পারছেন না। বিশেষ করে লিওনেল মেসির আর্জেন্টিনা জাতীয় দল থেকে বিদায়ের খবরের দিনই রোনালদোর পর্তুগাল ক্যাম্প ছাড়ার ঘটনা তার কাছে অনাকাঙ্ক্ষিত মনে হয়েছে।
রুনির মতে, এভাবে কোচকে অসম্মান করা, সতীর্থদের বিব্রতকর পরিস্থিতিতে ফেলা এবং পর্তুগাল ফুটবল ফেডারেশনের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। একজন খেলোয়াড়, সাবেক সতীর্থ কিংবা কোচ হিসেবে এমন ঘটনা দেখা তার জন্য হতাশাজনক বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে বিদায় নেওয়া একজন খেলোয়াড়ের ক্যারিয়ারের স্বাভাবিক পরিণতি বলে মনে করেন রুনি। কিন্তু রোনালদো যে বাস্তবতা মেনে নিতে পারছেন না, তাতে তিনি বিস্মিত। তার মতে, বিষয়টি যেভাবে সামনে এসেছে, তা ফুটবলের জন্যও অস্বস্তিকর।

২০০৪ থেকে ২০০৯ সাল পর্যন্ত স্যার অ্যালেক্স ফার্গুসনের অধীনে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডে একসঙ্গে খেলেছেন রুনি ও রোনালদো। ওই সময়ে দলটির হয়ে তিনটি প্রিমিয়ার লিগ ও একটি চ্যাম্পিয়ন্স লিগ শিরোপা জিতেছিলেন তারা। দীর্ঘদিনের সেই সম্পর্ক থাকা সত্ত্বেও রোনালদোর সাম্প্রতিক আচরণে নিজের অসন্তোষ গোপন করেননি রুনি।
বিশেষ করে সংবাদ সম্মেলনে জর্জ জেসুসের কী বলা উচিত, সে বিষয়ে রোনালদোর নির্দেশনা দেওয়ার বিষয়টি ভালোভাবে নেননি তিনি। রুনির ভাষায়, কোনো ফুটবলারের পক্ষে কোচকে সংবাদ সম্মেলনে কী বলতে হবে, তা বলে দেওয়া উচিত নয়। নিজের দীর্ঘ ক্যারিয়ারে এমন ঘটনা আগে কখনো দেখেননি বলেও জানান তিনি।
এদিকে, এই বিতর্কের পর গত ১০ অক্টোবর পর্তুগাল ফুটবল ফেডারেশন রোনালদোকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করে এবং ঘটনার তদন্তে একটি স্বাধীন কমিটি গঠন করে। তদন্ত চলাকালে পরবর্তী আন্তর্জাতিক বিরতিতে জাতীয় দলের কার্যক্রমে তাকে অংশ নিতে দেওয়া হবে না বলে জানানো হয়েছে।
তবে পরিস্থিতি জটিল হলেও রোনালদোর জাতীয় দলে ফেরার সম্ভাবনা পুরোপুরি শেষ হয়ে যায়নি। কোচ জেসুস নিজের অবস্থানে অনড় থাকলেও ভবিষ্যতে রোনালদোর ফেরার সুযোগ খোলা রেখেছেন। অন্যদিকে, জাতীয় দলের হয়ে খেলার জন্য সবসময় প্রস্তুত বলে জানিয়েছেন পর্তুগিজ অধিনায়কও।
কিউএনবি/আয়শা/১৫ অক্টোবর ২০২৬,/বিকাল ৪:২৮