বৃহস্পতিবার, ০৬ অগাস্ট ২০২৬, ০২:০২ অপরাহ্ন

সূর্যের বুকে অধরা প্লাজমার সন্ধান, উদ্ঘাটিত হলো নতুন চৌম্বক রহস্য

Reporter Name
  • Update Time : বৃহস্পতিবার, ৬ আগস্ট, ২০২৬
  • ১৯ Time View

তথ্যপ্রযুক্তি ডেস্ক  : বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী সৌর দূরবীক্ষণ যন্ত্রের সাহায্যে সূর্যের দৃশ্যমান পৃষ্ঠের এ যাবৎকালের সর্বোচ্চ রেজুলেশনের ছবি ও টাইম-ল্যাপস ভিডিও ধারণ করেছেন বিজ্ঞানীরা। যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল সায়েন্স ফাউন্ডেশনের হাওয়াইয়ের ড্যানিয়েল কে. ইনোয়ে সোলার টেলিস্কোপ ব্যবহার করে এই ছবি সংগৃহীত করা হয়। এই পর্যবেক্ষণে সূর্যকে ঘিরে থাকা অন্যতম বড় এক জ্যোতির্বিজ্ঞান রহস্যের জট খুলেছে। 

সূর্যালোকের গভীরে লুকিয়ে থাকা অতি ক্ষুদ্র কিছু ঘূর্ণি (প্লাজমা)র তীব্র প্রবাহ শনাক্ত করেছেন গবেষকরা। এটা সৌর কার্যকলাপ ও চৌম্বকীয় শক্তির মূল চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করে। ঐতিহ্যবাহী বিজ্ঞানের বিখ্যাত কেলভিন-হেলমহোল্টজ ইনস্ট্যাবিলিটি’ (কেএইচআই) প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সৃষ্ট এই অবিশ্বাস্য ক্ষুদ্র ঘূর্ণিগুলোর উপস্থিতি সূর্যের উপরিভাগে এই প্রথম সরাসরি প্রত্যক্ষ করলেন গবেষকরা। বিশ্বখ্যাত গবেষণা সাময়িকী ‘নেচার’-এ সম্প্রতি এই যুগান্তকারী আবিষ্কারের তথ্য প্রকাশিত হয়েছে।

বিজ্ঞানীরা দীর্ঘ দিন ধরেই জানার চেষ্টা করছিলেন, কেন সূর্যের পৃষ্ঠদেশের তুলনায় এর বাইরের বায়ুমণ্ডল কয়েক হাজার গুণ বেশি উত্তপ্ত হয়। গবেষণার মূল লেখক এবং ন্যাশনাল সোলার অবজারভেটরির অ্যাসিটেন্ট অ্যাস্ট্রোনোমার ড. ডেভিড কুরিডজে জানান, সূর্যের দুটি ভিন্ন গতিবেগের প্লাজমা প্রবাহ যখন একে অপরের পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় ধাক্কা খায়, তখন এই সর্পিল ঘূর্ণির জন্ম হয়। এই ক্ষুদ্র ঘূর্ণিগুলো মূলত ছোট ইঞ্জিনের মতো কাজ করে, যা সূর্যপৃষ্ঠের বিশালাকার প্লাজমা প্রবাহকে ভাঙতে সাহায্য করে এবং শক্তিকে একেবারে অণুবীক্ষণিক মাত্রায় ছড়িয়ে দেয়। ক্ষুদ্র স্তরে রূপ নেওয়ার পর সেই শক্তি খুব সহজেই প্রচণ্ড তাপ আকারে মুক্ত হতে পারে। এছাড়া, এই ঘূর্ণিগুলোই সূর্যের মধ্যকার চৌম্বক ক্ষেত্রগুলোকে দুমড়ে-মুচড়ে একসঙ্গে পেঁচিয়ে ফেলে, যা থেকে পরবর্তীতে সোলার ফ্লেয়ার বা শক্তিশালী সৌর শিখা এবং করোনাল মাস ইজেকশনের মতো ধ্বংসাত্মক সৌরঝড়ের জন্ম হয়।

বিজ্ঞানীদের মতে, পৃথিবীর আবহাওয়া ও মহাকাশ প্রযুক্তি রক্ষায় এই আবিষ্কারের গুরুত্ব অপরিসীম। সূর্যের পৃষ্ঠে প্রতিনিয়ত ঘটে চলা ছোট ছোট ন্যানো-ফ্লেয়ার এবং অণুবীক্ষণিক গতিবিধিই মূলত সমগ্র সূর্যের তাপীয় ও চৌম্বকীয় কাঠামোকে নিয়ন্ত্রণ করে। যখন সূর্যের এই চৌম্বকীয় শক্তি মহাকাশে প্রবল বেগে ছড়িয়ে পড়ে, তখন তা পৃথিবীর কক্ষপথে থাকা স্যাটেলাইট, পাওয়ার গ্রিড এবং যোগাযোগ অবকাঠামোকে মারাত্মক বিপর্যয়ের মুখে ফেলতে পারে। 

ড্যানিয়েল কে. ইনোয়ে টেলিস্কোপের ১৩ ফুটের বিশালাকার আয়না ও উন্নত অপটিক্যাল সিস্টেম সূর্যের বায়ুমণ্ডলের এমন সূক্ষ্ম পরিবর্তনও নিখুঁতভাবে তুলে ধরেছে, যা আগে কোনো যন্ত্রেই ধরা পড়েনি। বিজ্ঞানীদের বিশ্বাস, সূর্যের নিচের বায়ুমণ্ডলের এমন পর্যবেক্ষণ ও কম্পিউটার সিমুলেশনের নিখুঁত মেলবন্ধন ভবিষ্যতেও মহাকাশ বিজ্ঞানের জন্য নতুন সম্ভাবনার দুয়ার খুলে দেবে এবং সৌরঝড়ের আগাম পূর্বাভাস দেওয়ার ক্ষমতা কয়েক গুণ বাড়িয়ে দেবে।

সূত্র: সিএনএন

কিউএনবি/অনিমা/০৬ অগাস্ট ২০২৬,/দুপুর ১২:১৮

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category

আর্কাইভস

August 2026
M T W T F S S
 123
45678910
11121314151617
18192021222324
25262728293031
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৫-২০২৬
IT & Technical Supported By:BiswaJit