আন্তর্জাতিক ডেস্ক : অনিয়মের অভিযোগে দেশজুড়ে উত্তাল আন্দোলনের মুখে ভারতের কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের ঘটনাকে কেন্দ্র করে মোদি সরকারকে একহাত নিয়েছেন সমাজবাদী পার্টির (সপা) প্রধান ও কনৌজ আসনের সংসদ সদস্য অখিলেশ যাদব। মঙ্গলবার লোকসভায় প্রশ্নফাঁস-বিরোধী সংশোধনী বিলের ওপর ১০ ঘণ্টাব্যাপী আলোচনায় অংশ নিয়ে সাবেক শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগকে নিট পরীক্ষার প্রশ্নফাঁসের বিরুদ্ধে ছড়িয়ে পড়া ছাত্র আন্দোলনের সাফল্য হিসেবে বর্ণনা করেন তিনি।
একই সঙ্গে লোকসভায় দাঁড়িয়ে বেশ কটাক্ষের সুরে অখিলেশ মন্তব্য করেন, আপনারা একজন ‘প্রধান’কে পদ থেকে সরিয়ে মূল ‘প্রধানমন্ত্রী’কেই বাঁচিয়ে দিয়েছেন।
সংসদে নিজের বক্তব্য তুলে ধরে সমাজবাদী পার্টির প্রধান বলেন, সাবেক মন্ত্রী যখন সংসদে এলেন, তখন ভবনের বাইরে তাকে অভ্যর্থনা জানানো হয়েছিল। একবার ভেবে দেখুন, এই পদত্যাগে শাসকদলের সদস্যরা কতটা স্বস্তি পেয়েছেন এবং তারা কত বড় সংকট থেকে বেঁচে গেছেন। বস্তুত একজন ‘প্রধান’কে সরিয়ে আপনারা কার্যত ‘প্রধানমন্ত্রী’কেই রক্ষা করেছেন।
ক্ষমতাসীন সরকারের এই পিছু হটার জন্য তিনি আন্দোলনরত তরুণদের একতা ও মনোবলকে অভিবাদন জানান। তিনি উল্লেখ করেন, সরকার নিজেদের অপরাজিত মনে করলেও দেশের তরুণরা প্রমাণ করে দিয়েছে যে ‘ঝুকতি হ্যায় দুনিয়া, ঝুকানে ওয়ালা চাহিইয়ে’ অর্থাৎ সঠিক উপায়ে চাপ সৃষ্টি করতে পারলে পুরো বিশ্বই নতিস্বীকার করতে বাধ্য হয়। সরকার অবশেষে মাথা নত করতে এবং মন্ত্রীকে পদত্যাগে বাধ্য করতে বাধ্য হয়েছে।
সাবেক মুখ্যমন্ত্রী অখিলেশ যাদব আরও বলেন, নিট পরীক্ষার জালিয়াতির বিরুদ্ধে গড়ে ওঠা এই আন্দোলনটিই ছিল প্রথম কোনো ছাত্র আন্দোলন, যেখানে দেশটির অভিভাবকরাও পূর্ণ সমর্থন নিয়ে রাস্তায় নেমে এসেছিলেন। সরকার যখন আতঙ্কিত ও ভীত হয়, তখনই কেবল জনগণের দাবি মেনে নেয় উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, এর আগে ২০২০-২১ সালের কৃষক আন্দোলনের সময়ও আমরা একই চিত্র দেখেছি। নির্বাচন সামনে আসতেই সরকার বিতর্কিত তিনটি কৃষি আইন প্রত্যাহার করতে বাধ্য হয়েছিল। প্রথমে যে আন্দোলনকে রসিকতা হিসেবে দেখা হয়েছিল, তা পরবর্তীতে বিশাল এক শক্তিতে পরিণত হয়ে সরকারকে পদক্ষেপ নিতে বাধ্য করেছে উল্লেখ করে তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, তরুণদের তোলা প্রতিটি যৌক্তিক দাবিই সরকার মেনে নেবে।
বক্তব্যের একপর্যায়ে ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) নীতি ও শিক্ষাব্যবস্থার কঠোর সমালোচনা করে সপা প্রধান বলেন, বিজেপি ক্ষমতায় আসার পর থেকেই দেশের শিক্ষাব্যবস্থা, পরীক্ষাপদ্ধতি ও বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে একটি নির্দিষ্ট ভাবধারায় রাঙিয়ে দিয়ে ধ্বংস করার চেষ্টা চালিয়ে আসছে। এর ফলে শিক্ষার্থীদের মনে গভীর ক্ষোভের জন্ম হয়েছিল, যা পরবর্তীতে এমন এক গণ-আন্দোলনে রূপ নেয় যে বিশ্বের বৃহত্তম রাজনৈতিক দলটিকেও পিছু হটতে হয়েছে। এই মানসিকতার পরিবর্তন জরুরি। একই সঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, সরকারি নিয়োগে দলিত ও অনগ্রসর শ্রেণির অধিকার ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে। পরীক্ষা পরিচালনার দায়িত্ব জাতীয় পরীক্ষা সংস্থার (এনটিএ) মতো জায়গায় আউটসোর্স করার মাধ্যমে সরকার যেভাবে কাজ করছে, তাতে বিরোধী দলগুলোর আশঙ্কা হচ্ছে যে একদিন হয়তো পুরো সরকারব্যবস্থাটাকেই বেসরকারীকরণ বা আউটসোর্স করে দেওয়া হবে।
উল্লেখ্য, ২০২৬ সালের নিট-ইউজি পরীক্ষায় ব্যাপক জালিয়াতির অভিযোগে ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) নেতৃত্বে কয়েক সপ্তাহ ধরে চলা টানা প্রতিবাদের মুখে সম্প্রতি কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর পদ থেকে ইস্তফা দেন ধর্মেন্দ্র প্রধান। আন্দোলনকারীরা শিক্ষামন্ত্রীর অপসারণের পাশাপাশি আদালত তদারকি তদন্ত, আত্মহত্যাকারী শিক্ষার্থীদের পরিবারকে ১ কোটি রুপি করে ক্ষতিপূরণ এবং পুরো পরীক্ষাব্যবস্থার আমূল সংস্কারের দাবি জানিয়েছিলেন। নতুন সংসদীয় অধিবেশন শুরুর আগেই রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু তার পদত্যাগপত্র গ্রহণ করেন। এর পরপরই সোমবার লোকসভায় প্রশ্নফাঁস-বিরোধী নতুন বিলটি উত্থাপন করা হয়, যার উদ্দেশ্য পরীক্ষা প্রক্রিয়ায় জালিয়াতি রোধ করা এবং প্রশ্নফাঁসে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তির বিধান নিশ্চিত করা।
সূত্র: ইন্ডিয়া টুডে
কিউএনবি/অনিমা/২৮ জুলাই ২০২৬,/রাত ৮:১৫