আন্তর্জাতিক ডেস্ক : যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য স্থল আগ্রাসনকে স্বাগত জানাতে প্রস্তুত রয়েছে ইরান। মার্কিন সেন্টকমের পক্ষ থেকে টানা নবম রাতের মতো ইরানে বিমান হামলার খবর পাওয়ার পরই এই কঠোর বার্তা দিল দেশটি। জর্ডান ও ইরাকে মার্কিন সেনা নিহতের জেরে দুই দেশের মধ্যে চলমান উত্তেজনা এখন চরম রূপ নিয়েছে।
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই জানিয়েছেন, মার্কিন বাহিনী যেকোনো ধরনের স্থল আগ্রাসন চালাতে এলে তার জবাব দিতে এক মুহূর্তও দেরি করবে না তেহরান। একই সঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, জুনে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় স্বাক্ষরিত অন্তর্বর্তীকালীন চুক্তিটি যুক্তরাষ্ট্র সম্পূর্ণ লঙ্ঘন করেছে।
মার্কিন সামরিক বাহিনী এক্স হ্যান্ডেলে জানিয়েছে, তাদের এই ধারাবাহিক হামলায় ইরানের সামরিক কমান্ড সেন্টার, বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন উৎক্ষেপণ কেন্দ্র এবং যোগাযোগ নেটওয়ার্কগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে।
এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, গত কয়েকদিনে নিহত তিন মার্কিন সেনার স্মরণে এবং তাদের আত্মত্যাগের সম্মানার্থেই এই কঠোর হামলা চালানো হয়েছে। তিনি দাবি করেন, সামরিকভাবে ইরানকে প্রায় পঙ্গু করে দেওয়া হয়েছে।
তবে মার্কিন বিমান হামলার জবাবে চুপ নেই তেহরানও। জর্ডান, কুয়েত এবং সিরিয়াসহ মার্কিন মিত্র দেশগুলোতে একের পর এক পাল্টা হামলা চালাচ্ছে রেভল্যুশনারি গার্ডস (আইআরজিসি)। জর্ডানের মুওয়াফ্ফাক সালতি বিমানঘাঁটি এবং আকাবা বিমানবন্দরে চালানো হামলায় বহু মার্কিন সেনা হতাহত হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। পাশাপাশি কুয়েতের আলি আল সালেম ঘাঁটিতেও হামলা চালিয়েছে ইরানি বাহিনী।
এই সংঘাতের জেরে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি তেল পরিবহনের রুট হরমুজ প্রণালিতে চরম সংকট তৈরি হয়েছে। আইআরজিসি হুঁশিয়ারি দিয়ে জানিয়েছে, মার্কিন আগ্রাসন বন্ধ না হলে এই জলপথ দিয়ে এক ফোঁটা তেল বা গ্যাসও পরিবাহিত হতে দেওয়া হবে না।
ইতিমধ্যে ওই অঞ্চলের বেশ কয়েকটি তেল ট্যাংকার এবং জাহাজে হামলার ঘটনা ঘটেছে, যার ফলে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দামে ব্যাপক অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। তবে এর মধ্যেই তেহরানের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বিভিন্ন মধ্যস্থতাকারীর মাধ্যমে কূটনৈতিক যোগাযোগ এবং বার্তা আদান-প্রদান এখনো অব্যাহত রয়েছে।
সূত্র: মিডলইস্ট আই
কিউএনবি/অনিমা/২০ জুলাই ২০২৬,/রাত ১১:৫৬