স্পোর্টস ডেস্ক : বিশ্বকাপ মানেই ফুটবলের উন্মাদনা, আবেগ আর স্মরণীয় সাংস্কৃতিক আয়োজন। আর সেই আয়োজনের অন্যতম আকর্ষণ হাফটাইম শো। এবারের বিশ্বকাপজুড়েই নিজের নতুন গান ‘দাই দাই’ দিয়ে দর্শকদের মাতিয়ে রেখেছেন কলম্বিয়ান পপ সুপারস্টার শাকিরা।
তাই ফাইনালের মঞ্চেও যে সব আলো তার দিকেই থাকবে, তা যেন আগেই অনুমান করা যাচ্ছিল। ৪৯ বছর বয়সেও তার মঞ্চ উপস্থিতি, নাচ আর ফ্যাশনের জাদু প্রমাণ করল, বিশ্বকাপের মঞ্চে শাকিরা এখনো অনন্য।
ফাইনালের হাফটাইম শোয়ে শাকিরার সঙ্গে পারফর্ম করেন নাইজেরিয়ান র্যাপার বার্না বয় এবং উগান্ডার জনপ্রিয় শিশু নৃত্যদল দ্য গেটো কিডস। তবে সংগীতের পাশাপাশি সবচেয়ে বেশি আলোচনায় ছিল শাকিরার ঝলমলে স্টেজ লুক।
কাস্টম রবার্টো কাভালির গ্ল্যামার
বিশ্বকাপের এই বিশেষ পারফরম্যান্সের জন্য শাকিরা পরেছিলেন ইতালির বিলাসবহুল ফ্যাশন হাউস রবার্টো কাভালি-এর কাস্টম-মেড পোশাক। ডিজাইনটি তৈরি করেছেন ব্র্যান্ডের ক্রিয়েটিভ ডিরেক্টর ফাউস্তো পুগলিসি, যিনি নাটকীয় সিলুয়েট এবং সাহসী রঙের ব্যবহারের জন্য পরিচিত।
উজ্জ্বল হলুদ ও গোলাপি রঙের সংমিশ্রণে তৈরি এই ফ্রিঞ্জ ড্রেসটি ছিল ব্র্যান্ডের ‘ফ্রিঞ্জ ড্রেস ট্রপিক্যাল রে অব সানসেট’ কালেকশনের অনুপ্রেরণায়। আলো-ছায়ার খেলায় পোশাকটি যেন সূর্যাস্তের রঙকেই মঞ্চে জীবন্ত করে তুলেছিল।
২ লাখ ক্রিস্টালের ঝলক
এই পোশাকের সবচেয়ে আকর্ষণীয় দিক ছিল এর কারুশিল্প। ড্রেসজুড়ে হাতে বসানো হয়েছে প্রায় ২ লাখ সোয়ারভস্কি ক্রিস্টাল। স্টেজের আলোয় প্রতিটি নড়াচড়ার সঙ্গে ঝিকমিক করছিল ক্রিস্টালগুলো, যা শাকিরার নাচকে আরও প্রাণবন্ত ও নাটকীয় করে তোলে।
ড্রেসের ক্রিসক্রস ডিপ নেকলাইন এবং লেয়ারড ফ্রিঞ্জ ডিজাইন পুরো লুককে দিয়েছে সাহসী অথচ মার্জিত আবেদন। নাচের প্রতিটি স্টেপে পোশাকের ফ্রিঞ্জগুলো দুলে উঠে পারফরম্যান্সে যোগ করেছে অতিরিক্ত গতি ও প্রাণ।
খালি পায়ে আত্মবিশ্বাসী শাকিরা
গয়না বা ভারী অ্যাকসেসরির বদলে শাকিরা ভরসা রেখেছেন নিজের স্বাক্ষর স্টাইলেই। খোলা ব্লন্ড চুল, ন্যাচারাল গ্ল্যাম মেকআপ এবং খালি পায়ে পারফর্ম করে তিনি আবারও প্রমাণ করেছেন, তার সবচেয়ে বড় অলংকার আত্মবিশ্বাস এবং মঞ্চ দখল করার ক্ষমতা।
তার এই স্বাভাবিক স্টাইলই পুরো লুককে আরও শক্তিশালী করেছে। পোশাকের ঝলকানির সঙ্গে ব্যক্তিত্বের মেলবন্ধনই ছিল এই উপস্থিতির মূল আকর্ষণ।
বার্না বয়ের সহজ অথচ স্টাইলিশ উপস্থিতি
শাকিরার সঙ্গে মঞ্চ ভাগ করে নেওয়া বার্না বয় বেছে নিয়েছিলেন সম্পূর্ণ ভিন্ন একটি লুক। সাদা টি-শার্ট, কালো ব্যান্ডানা এবং তার পরিচিত লম্বা বেনি চুলে তিনি ছিলেন স্বাচ্ছন্দ্যপূর্ণ ও স্ট্রিট-স্টাইল ঘরানার। এতে শাকিরার গ্ল্যামারাস লুকের সঙ্গে একটি সুন্দর ভারসাম্য তৈরি হয়।
মঞ্চজুড়ে রঙের উৎসব
শুধু প্রধান শিল্পীরাই নন, ব্যাকগ্রাউন্ড নৃত্যশিল্পীদের পোশাকেও ছিল বিশেষ পরিকল্পনা। দ্য গেটো কিডস এবং অন্যান্য নৃত্যশিল্পীদের কস্টিউম শাকিরার পোশাকের আদলে তৈরি হলেও সেগুলো ছিল পুরোপুরি উজ্জ্বল হলুদ রঙের। ফলে পুরো মঞ্চজুড়ে তৈরি হয়েছিল এক প্রাণবন্ত, ট্রপিক্যাল এবং উৎসবমুখর পরিবেশ।
বিশ্বকাপের ইতিহাসে শাকিরার নাম আগেই বিশেষ জায়গা করে নিয়েছে। এবারের হাফটাইম শো সেই সম্পর্ককে আরও একবার নতুনভাবে মনে করিয়ে দিল। সংগীত, নাচ, ফ্যাশন এবং মঞ্চনাট্যের নিখুঁত সমন্বয়ে তিনি আবারও প্রমাণ করলেন-বিশ্বকাপের সবচেয়ে বড় মঞ্চে আলো কাড়ার শিল্প এখনও তারই সবচেয়ে ভালো জানা।
সূত্র: টাইম অব ইন্ডিয়া, বিবিসি
কিউএনবি/আয়শা/২০ জুলাই ২০২৬,/রাত ৯:০৮