স্পোর্টস ডেস্ক : ফুটবল মাঠে অভিজ্ঞতা আর শত কোটি টাকার অহংকার যে কত দ্রুত ধুলোয় মিশে যেতে পারে, বিশ্ববাসী তা দেখল ডালাসের সেমিফাইনালে। একদিকে কিলিয়ান এমবাপ্পে, ওসমানে ডেম্বেলে কিংবা থিও হার্নান্দেজদের মতো বিশ্ব কাঁপানো ফুটবল মহাতারকারা; অন্যদিকে স্পেনের একঝাঁক ‘কিশোর’। সাধারণ হিসেবে যাদের কাল সকালে স্কুলের হোমওয়ার্ক জমা দেওয়ার কথা, সেই লামিন ইয়ামালদের কাছেই আজ আক্ষরিক অর্থে ফুটবলের ব্যাকরণ শিখল শত কোটির ফ্রান্স দল। সেমিফাইনালের মেগা মঞ্চে ফরাসি বাহিনীকে ২-০ গোলে হারিয়ে ফাইনালের টিকিট কেটে ছড়ি ঘোরাল স্পেনের এই তরুণ ব্রিগেড।
আসর শুরুর আগে ফ্রান্সের তারকা খচিত দলের সামনে এই অনভিজ্ঞ স্পেনকে কেউ গোণায় ধরেনি। কিন্তু ম্যাচের শুরু থেকেই দেখা গেল এক অবিশ্বাস্য বৈপরীত্য। স্পেনের মাঝমাঠে বছর আঠারোর পেদ্রি কিংবা রাইট উইংয়ে মাত্র আঠারো পেরিয়ে ১৯-এ পা দেওয়া লামিন ইয়ামালরা যেভাবে পুরো মাঠ শাসন করলেন, তাতে ফরাসি ডিফেন্সকে মনে হচ্ছিল অতি সাধারণ মানের কোনো ক্লাব দল। ম্যাচের ২২ মিনিটে ইয়ামালের চোখের পলকে করা ড্রিবলিং থামাতে গিয়ে ডি-বক্সে তাকে ফাউল করতে বাধ্য হন ফরাসি ডিফেন্ডার লুকাস দিনিয়ে। পেনাল্টি থেকে মিকেল ওয়ারজাবালের গোলে শুরুতেই লিড নেয় স্পেন। এরপর ৫৪ মিনিটে পেড্রো পোরোর দ্বিতীয় গোলটি যখন ফ্রান্সের জাল কাপায়, তখন এমবাপ্পেদের চোখে-মুখে ছিল কেবলই অসহায় আত্মসমর্পণ।
ম্যাচের ৬০ মিনিটে ইয়ামাল আরও একবার ফরাসি ডিফেন্সকে বোকা বানিয়ে বল জালে জড়ালে অফসাইডের জন্য তা বাতিল হয়, যা ছিল ফরাসিদের জন্য বড় বাঁচোয়া। পুরো টুর্নামেন্টে অবিশ্বাস্য ফর্মে থাকা স্পেনের এই কিশোররা আজ প্রবীণ ফরাসি আক্রমণভাগকে এতটুকু মাথা তুলে দাঁড়াতে দেয়নি। ম্যাচ শেষে হতাশায় নুইয়ে পড়া এমবাপ্পে যখন উনাই সিমোনকে ফাউল করে বসেন, তখন স্পষ্ট হয়ে যায় যে স্প্যানিশ তরুণদের টিকিটাকা জাদুতে শত কোটির ফ্রান্সের দম্ভ কীভাবে মাঠে চূর্ণ-বিচূর্ণ হয়ে গেছে।
কিউএনবি/অনিমা/১৫ জুলাই ২০২৬,/সকাল ৮:২৩