এর কয়েক ঘণ্টা পর আরও এক ১১ বছর বয়সী আরো এক শিশুকে জীবিত উদ্ধারের খবর জানান ভেনেজুয়েলার অন্তর্বর্তী সরকারের প্রেসিডেন্ট দেলসি রদ্রিগেজ। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে প্রকাশিত একটি ভিডিওতে দেখা যায়, বিশাল ধ্বংসস্তূপের ভেতর থেকে স্ট্রেচারে করে তাকে উদ্ধার করে নিরাপদ স্থানে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।
গত বুধবার স্থানীয় সময় বিকেলে রাজধানী কারাকাস থেকে প্রায় ১৬৮ কিলোমিটার পশ্চিমে প্রথমে ৭ দশমিক ২ মাত্রার একটি শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হানে। এক মিনিটেরও কম সময়ের ব্যবধানে একই এলাকায় ৭ দশমিক ৫ মাত্রার আরেকটি ভূমিকম্প অনুভূত হয়।
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, গত ১২৬ বছরের মধ্যে এটিই দেশটিতে আঘাত হানা সবচেয়ে শক্তিশালী ভূমিকম্প। এতে এখন পর্যন্ত অন্তত ১ হাজার ৪৩০ জনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত হয়েছে। এছাড়া এখনও বহু মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন। তাদের ধারণা, ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে থাকা অনেক মানুষ এখনও জীবিত থাকতে পারেন, যদি তারা পানি ও খাবারের নাগাল পেয়ে থাকেন।
মূল দুটি ভূমিকম্পের পর থেকে কয়েকশ পরাঘাত অনুভূত হয়েছে। সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোর একটি উপকূলীয় লা গুয়াইরা রাজ্যের কারাবালেদা শহর। সেখানে উদ্ধার তৎপরতা জোরদারে মার্কিন হেলিকপ্টারে করে উদ্ধারকারী দল মোতায়েন করা হয়েছে।
ভেনেজুয়েলা সরকার জানিয়েছে, কয়েকশ মানুষ এখনও নিখোঁজ অথবা ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে আছেন। তবে দেশটির বিরোধীদলীয় একটি ওয়েবসাইটে দাবি করা হয়েছে, নিখোঁজ মানুষের সংখ্যা ৫৫ হাজারের বেশি। অন্যদিকে জাতিসংঘের হিসাব অনুযায়ী, প্রায় ৫০ হাজার মানুষ এখনও নিখোঁজ রয়েছেন। এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের জিওলজিক্যাল সার্ভে (ইউএসজিএস) আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেছে, এই দুই শক্তিশালী ভূমিকম্পে শেষ পর্যন্ত মৃতের সংখ্যা ১০ হাজার ছাড়িয়ে যেতে পারে।
তথ্য সূত্র- বিবিসি।