রবিবার, ২৩ অগাস্ট ২০২৬, ০৩:২১ অপরাহ্ন
শিরোনাম

৩৯ সেকেন্ডে সব শেষ, ভেনেজুয়েলায় যা ঘটল তা কল্পনারও বাইরে

Reporter Name
  • Update Time : বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন, ২০২৬
  • ৪৮ Time View

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : ভেনেজুয়েলায় শত বছরের মধ্যে সবচেয়ে শক্তিশালী ভূমিকম্পের পর আতঙ্ক, অনিশ্চয়তা ও মানবিক সংকট আরও গভীর হচ্ছে। রাজধানী কারাকাসসহ বিভিন্ন অঞ্চলে হাজারো মানুষ ঘরবাড়ি ছেড়ে রাস্তাঘাট, খেলার মাঠ ও খোলা জায়গায় আশ্রয় নিয়েছেন। আফটারশকের আশঙ্কা এবং ক্ষতিগ্রস্ত ভবন ধসে পড়ার ঝুঁকিতে কেউই ঘরে ফিরতে সাহস পাচ্ছেন না।দেশটির অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের তথ্য অনুযায়ী, জোড়া ভূমিকম্পে এ পর্যন্ত অন্তত ৩২ জনের মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছেন সাত শতাধিক মানুষ। ধ্বংসস্তূপের নিচে আরও বহু মানুষ আটকা পড়ে থাকায় প্রাণহানির সংখ্যা বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

বুধবার স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৬টা ৪ মিনিটে প্রথমে ৭ দশমিক ২ মাত্রার ভূমিকম্প আঘাত হানে। মাত্র ৩৯ সেকেন্ড পর একই এলাকায় ৭ দশমিক ৫ মাত্রার দ্বিতীয় ভূমিকম্প অনুভূত হয়। যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা ইউএসজিএস জানিয়েছে, ১৯০০ সালের পর এটিই ভেনেজুয়েলায় আঘাত হানা সবচেয়ে শক্তিশালী ভূমিকম্পগুলোর একটি।

সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে রাজধানীর উত্তরে অবস্থিত লা গুইরা অঙ্গরাজ্য। দেশটির অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ জানিয়েছেন, সেখানে কয়েক ডজন ভবন ধসে পড়েছে। অঞ্চলটিকে তিনি দুর্যোগকবলিত এলাকা হিসেবে বর্ণনা করেছেন।

উদ্ধারকর্মীরা কারাকাস ও আশপাশের এলাকায় ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে জীবিতদের খোঁজ চালিয়ে যাচ্ছেন। বিভিন্ন স্থান থেকে আটকে পড়া মানুষের সাহায্যের আর্তনাদ শোনা যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

বিদ্যুৎ ও ইন্টারনেট সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ায় প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতির চিত্র পাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। যোগাযোগব্যবস্থা ভেঙে পড়ায় দেশের বিভিন্ন প্রান্তের সঙ্গে রাজধানীর যোগাযোগও ব্যাহত হচ্ছে।

বিবিসি মুন্ডোর সাংবাদিক জর্জ পেরেজ জানিয়েছেন, অনেক মানুষ আতঙ্কে ঘুমাতে পারছেন না। বিদেশে বসবাসরত লাখো ভেনেজুয়েলানও স্বজনদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে না পেরে উদ্বেগে রয়েছেন।

কারাকাসের বাসিন্দা ও সাংবাদিক লুইস হার্নান্দেজ বলেন, অর্থনৈতিক সংকট ও অবকাঠামোগত দুর্বলতার কারণে ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত পরিমাণ নির্ধারণ করাও কঠিন হয়ে পড়েছে। অনেক মানুষ এখন নিজেদের অ্যাপার্টমেন্ট ছেড়ে নিচতলা কিংবা খোলা স্থানে অবস্থান করছেন।

এদিকে আন্তর্জাতিক সহায়তা আসতে শুরু করেছে। যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো, ডোমিনিকান রিপাবলিক ও এল সালভাদরসহ বিভিন্ন দেশ উদ্ধারকর্মী, চিকিৎসা সহায়তা ও মানবিক ত্রাণ পাঠানোর প্রস্তুতি নিয়েছে। দেশজুড়ে জরুরি অবস্থা জারি করে স্কুল ও সরকারি স্থাপনাগুলোকে অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্রে রূপান্তরের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

ইউএসজিএসের পেজার মডেল অনুযায়ী, দুর্যোগটির ব্যাপ্তি অত্যন্ত বড় হতে পারে। সংস্থাটি সতর্ক করে বলেছে, চূড়ান্ত প্রাণহানির সংখ্যা কয়েক হাজার ছাড়িয়ে যাওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। তবে এ বিষয়ে নিশ্চিত হতে আরও সময় লাগবে।

সোর্স: বিবিসি

কিউএনবি/অনিমা/২৫ জুন ২০২৬,/সন্ধ্যা ৬:৪৯

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category

আর্কাইভস

August 2026
M T W T F S S
 123
45678910
11121314151617
18192021222324
25262728293031
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৫-২০২৬
IT & Technical Supported By:BiswaJit