শরিফুর রহমান, ইউএসএ প্রতিনিধিঃ প্রতিবছর উন্নত জীবনের স্বপ্ন নিয়ে হাজার হাজার বাংলাদেশি পাড়ি জমান বিশ্বের বিভিন্ন দেশে। পরিবারের মুখে হাসি ফোটাতে, সন্তানের ভবিষ্যৎ গড়তে এবং দারিদ্র্যের শৃঙ্খল ভাঙতে তারা নিজের দেশ, পরিবার ও প্রিয়জনদের ছেড়ে দীর্ঘ সময় বিদেশে কাটান। কিন্তু প্রবাস জীবনের এই গল্প শুধু সাফল্য ও অর্জনের নয়, এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে অসংখ্য হাসি, কান্না, ত্যাগ ও বেদনার কাহিনি।
প্রবাসীরা দেশের অর্থনীতির অন্যতম চালিকাশক্তি। তাদের পাঠানো রেমিট্যান্স দেশের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। অথচ অনেক প্রবাসী শ্রমিককে বিদেশে গিয়ে কঠোর পরিশ্রম, কম মজুরি, কর্মক্ষেত্রে বৈষম্য, অনিরাপদ আবাসন এবং নানা ধরনের মানসিক চাপের মুখোমুখি হতে হয়।
অনেকেই বছরের পর বছর পরিবার থেকে দূরে থাকেন। সন্তানের জন্ম, বাবা-মায়ের অসুস্থতা কিংবা পরিবারের গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তগুলোতে উপস্থিত থাকতে না পারার কষ্ট তাদের প্রতিনিয়ত তাড়িয়ে বেড়ায়। ভিডিও কলের হাসির আড়ালে লুকিয়ে থাকে একাকীত্ব, দুশ্চিন্তা ও অশ্রুর গল্প।
বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রবাসী কর্মীদের অধিকার সুরক্ষা, নিরাপদ অভিবাসন নিশ্চিত করা এবং তাদের কল্যাণে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা সময়ের দাবি। একই সঙ্গে দেশে ফিরে আসা প্রবাসীদের পুনর্বাসন ও দক্ষতা কাজে লাগানোর সুযোগও বাড়ানো প্রয়োজন।
প্রবাস জীবন অনেকের কাছে স্বপ্নপূরণের গল্প, আবার অনেকের কাছে কঠিন সংগ্রামের নাম। তাদের ঘাম, শ্রম ও ত্যাগের বিনিময়েই সমৃদ্ধ হচ্ছে দেশের অর্থনীতি। তাই প্রবাসীদের অবদানকে যথাযথ সম্মান ও মর্যাদা দেওয়া আমাদের সকলের দায়িত্ব।
কিউএনবি/বিপুল/০৮.০৬.২০২৬/রাত ৯.৫৫