শুক্রবার, ২৪ জুলাই ২০২৬, ০৮:০৬ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম
গ্রামে চিকিৎসার অভাবে কেউ যেন প্রাণ না হারায়: ডা. জুবাইদা তেলের দাম বাড়ার প্রভাবে কমল স্বর্ণের দাম দীর্ঘ অপেক্ষার পর মুক্তি পেল বিজয়ের শেষ সিনেমা, কে কত টাকা পারিশ্রমিক পেলেন? গোপালগঞ্জে নারী আইনজীবীর মাথা ফাটানো সেই বিচারক প্রত্যাহার পদত্যাগের পর রাষ্ট্রপতির গ্রেপ্তার দাবি নাহিদ ইসলামের এমপি গাজী নজরুল এখন কোথায়? মেসিদের নিয়ে অপপ্রচারের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নিচ্ছে আর্জেন্টিনা চোর ধরতে ছাত্রদল নেতাদের অভিনব কৌশল, উদ্ধার ২ চোরাই মোটরসাইকেল ডোমারে চিলাহাটিতে হিমোগ্লোবিন ও ব্লাড গ্রুপিং ক্যাম্পেইনে অনুষ্ঠিত সিলেটের এআরডি ভূয়া এনজিও সংস্থার চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ

সংশোধিত হচ্ছে সাইবার আইন, গুজব-মানহানিতে থাকবে কঠোর শাস্তি

Reporter Name
  • Update Time : সোমবার, ৮ জুন, ২০২৬
  • ৫৪ Time View

ডেস্ক নিউজ : সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও সাইবার স্পেসে গুজব, অপতথ্য, মানহানিকর এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে তৈরি বিভ্রান্তিকর কনটেন্টের বিস্তার রোধে সাইবার সুরক্ষা আইন সংশোধনের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। জাতীয় সংসদে এ তথ্য জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

আজ সোমবার সংসদে সরকারি দলের সংরক্ষিত নারী আসনের সদস্য হেলেন জেরিন খানের কার্যপ্রণালি বিধির ৭১ বিধিতে উত্থাপিত জরুরি জনগুরুত্বসম্পন্ন বিষয়ে মনোযোগ আকর্ষণ নোটিশের জবাবে এ তথ্য জানান তিনি।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, মতপ্রকাশের স্বাধীনতার নামে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব, রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি এবং তাদের পরিবারের সদস্যদের নিয়ে যে ধরনের কনটেন্ট প্রকাশ ও প্রচার করা হচ্ছে, তা আদৌ মতপ্রকাশের স্বাধীনতার আওতায় পড়ে কিনা, সে বিষয়ে নতুন করে সংজ্ঞা নির্ধারণের প্রয়োজন দেখা দিয়েছে।

তিনি বলেন, বর্তমানে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম, ভার্চুয়াল মিডিয়া এবং অনলাইনভিত্তিক সব প্ল্যাটফর্মকে অন্তর্ভুক্ত করে ‘সাইবার স্পেস’-এর নতুন সংজ্ঞা নির্ধারণের কাজ চলছে। এ লক্ষ্যে সাইবার সুরক্ষা আইন সংশোধনের খসড়া প্রণয়নের কাজ শুরু হয়েছে। সংশোধিত আইনে গুজব, অপতথ্য, মানহানি এবং বিভ্রান্তিকর কনটেন্টের নতুন সংজ্ঞা নির্ধারণ করা হবে। একই সঙ্গে এ ধরনের কনটেন্ট তৈরি ও প্রচার প্রতিরোধে নতুন শাস্তির বিধান সংযোজনের পরিকল্পনা রয়েছে।

মন্ত্রী বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে অপমানজনক, বিরক্তিকর ও মানহানিকর কনটেন্ট তৈরির প্রবণতা উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক প্রযুক্তি প্ল্যাটফর্মগুলোর সঙ্গে আরও কার্যকর সমন্বয় প্রতিষ্ঠা এবং ক্ষতিকর কনটেন্ট দ্রুত অপসারণ নিশ্চিত করার জন্য নতুন বিধান আনা হবে।

তিনি বলেন, বর্তমানে কোনো ক্ষতিকর কনটেন্ট অপসারণের অনুরোধ পাঠানো হলেও অনেক ক্ষেত্রে তা কার্যকর হতে দীর্ঘ সময় লাগে বা আদৌ ব্যবস্থা নেওয়া হয় না। তাই নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে কনটেন্ট অপসারণ বাধ্যতামূলক করার বিষয়টি আইনে অন্তর্ভুক্ত করা হবে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, রিপোর্ট করা কনটেন্ট অপসারণ প্রক্রিয়াকে আরও জবাবদিহিমূলক ও কার্যকর করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি সরকারের অনুমোদিত অন্যান্য সংস্থা ও কর্তৃপক্ষকেও তথ্য-উপাত্ত অপসারণ, ব্লক বা হস্তান্তরের ক্ষমতা দেওয়া হতে পারে। এক্ষেত্রে জাতীয় সাইবার নিরাপত্তা কর্তৃপক্ষ এবং বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনকে (বিটিআরসি) প্রয়োজনীয় ক্ষমতা প্রদানের বিষয়টি বিবেচনায় রয়েছে।

হেলেন জেরিন খানের সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান মেটাসহ বিভিন্ন প্ল্যাটফর্ম বর্তমানে বাংলাদেশ থেকে পাঠানো অনেক অনুরোধে দ্রুত সাড়া দেয় না। এর অন্যতম কারণ বিদ্যমান আইনে পর্যাপ্ত বাধ্যবাধকতার অভাব।

মন্ত্রী বলেন, পার্শ্ববর্তী কিছু দেশে আইনগত কাঠামোর মাধ্যমে মেটাকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ব্যবস্থা নিতে বাধ্য করা হয়েছে। বাংলাদেশেও নতুন আইনের মাধ্যমে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে ক্ষতিকর কনটেন্ট অপসারণে আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্মগুলোকে বাধ্য করার বিধান রাখা হবে।

এ সময় তিনি জানান, ১৮৬৭ সালের ঔপনিবেশিক যুগের জুয়া প্রতিরোধ আইন আধুনিকায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। নতুন আইনে অনলাইন ও অফলাইন জুয়া, বেটিং এবং সংশ্লিষ্ট অপরাধগুলোকে অন্তর্ভুক্ত করা হবে। সংসদের চলতি অধিবেশনেই আইনটি উত্থাপনের আশা প্রকাশ করেন তিনি।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, মাদকবিরোধী কার্যক্রম জোরদার করতে নতুন মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনও প্রস্তুত করা হয়েছে। এতে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরকে আরও শক্তিশালী ও স্বয়ংসম্পূর্ণ প্রতিষ্ঠানে রূপান্তরের প্রস্তাব রয়েছে। আধুনিক ল্যাবরেটরি, প্রশিক্ষণ সুবিধা, ডগ স্কোয়াড এবং প্রয়োজনীয় আইনগত সক্ষমতা নিশ্চিত করার বিষয়গুলোও নতুন আইনে অন্তর্ভুক্ত করা হবে।

তিনি বলেন, সামাজিক অনাচার, সাইবার অপরাধ, মাদক এবং অন্যান্য অপরাধ মোকাবিলায় সরকার একটি শক্তিশালী আইনগত কাঠামো গড়ে তুলতে কাজ করছে। এসব আইন কার্যকর হলে জাতীয় প্রত্যাশা অনুযায়ী অপরাধ ও সামাজিক অবক্ষয় প্রতিরোধে আরও কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ সম্ভব হবে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন, নতুন আইন ও সংস্কারের মাধ্যমে সাইবার নিরাপত্তা জোরদার হবে এবং ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে দায়িত্বশীল ও নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।

কিউএনবি/অনিমা/০৮.০৬.২০২৬/রাত ৯:০৯

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category

আর্কাইভস

July 2026
M T W T F S S
 123456
78910111213
14151617181920
21222324252627
282930  
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৫-২০২৬
IT & Technical Supported By:BiswaJit