সোমবার, ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:৩২ পূর্বাহ্ন

বিদ্রোহে কাঁপছে মমতার তৃণমূল: সব কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা, ৫৯ বিধায়কের সমর্থনে নতুন নেতৃত্ব

Reporter Name
  • Update Time : বৃহস্পতিবার, ৪ জুন, ২০২৬
  • ৩৮ Time View

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : তৃণমূল কংগ্রেসে বড় ধরনের ভাঙনের মুখে দলটির সব কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করেছেন দলপ্রধান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বিদ্রোহী বিধায়কদের একের পর এক পদক্ষেপে কার্যত বেসামাল হয়ে পড়েছে দলটি।

পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে নতুন করে আলোচনায় এসেছে মমতা-হীন ‘আসল তৃণমূল’ গঠনের বিষয়টি। মহারাষ্ট্র মডেলে জোট বেঁধে বিদ্রোহী শিবির নিজেদের শক্তি প্রদর্শন করছে বলে জানা গেছে।

মমতার সিদ্ধান্তকে অগ্রাহ্য করে ৫৮ জনের বেশি বিদ্রোহী বিধায়কের সমর্থনে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে বিরোধী দলনেতা হিসেবে মনোনীত করা হয়েছে। এ বিষয়ে বিধানসভার স্পিকার রথীন্দ্র বসুর কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে চিঠিও জমা দেওয়া হয়েছে।

অঙ্কের হিসাবে বিরোধী দলনেতা হতে প্রয়োজন ৩০ জন বিধায়কের সমর্থন। সেখানে ঋতব্রতের পক্ষে রয়েছেন ৫৯ জনের বেশি তৃণমূল বিধায়ক। তাই তাদের পক্ষ থেকে তাকে স্বীকৃতি দেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে। তবে চিঠিতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে দলীয় নেত্রী হিসেবেই উল্লেখ করা হয়েছে।

ভোটে পরাজয়ের পর তৃণমূলের পক্ষ থেকে শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়কে পরিষদীয় দলনেতা হিসেবে বেছে নেওয়া হয়েছিল। পরে দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদকের পক্ষ থেকে বিধায়কদের স্বাক্ষরিত একটি প্রস্তাব বিধানসভায় জমা দেওয়া হয়, যেখানে তাকেই বিরোধী দলনেতা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার আবেদন করা হয়।

তবে সেই চিঠিতে স্বাক্ষর জালিয়াতির অভিযোগ ওঠে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে। বিষয়টি নিয়ে সিআইডি তদন্ত শুরু করে এবং একাধিক বিধায়কের বাড়িতে গিয়ে তথ্য সংগ্রহ করে। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে নোটিশও দেওয়া হয়।

এই পরিস্থিতিতে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানান, স্বাক্ষর জালিয়াতির বিষয়টি সামনে আনেন তৃণমূলের দুই বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় ও সন্দীপন সাহা। এরপরই দল থেকে তাদের বহিষ্কার করা হয়।

এরপরই বিদ্রোহী শিবিরের তৎপরতা আরও বেড়ে যায়। ৩১ মে কালীঘাটে মমতার বাসভবনে ডাকা বৈঠকে ৮০ জন বিধায়কের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন মাত্র ১৭ জন। ফলে বৈঠকটি ভেস্তে যায়।

অন্যদিকে একই দিনে বহিষ্কৃত দুই বিধায়ক কলকাতার একটি হোটেলে প্রায় ৫০ জন বিদ্রোহী বিধায়ককে নিয়ে বৈঠক করেন বলে জানা যায়। তখনই দল ভাঙনের স্পষ্ট আভাস পাওয়া যায়।

পরবর্তীতে বিদ্রোহী বিধায়কেরা সরাসরি স্পিকারের কাছে গিয়ে নিজেদের স্বাক্ষরিত চিঠি জমা দেন এবং ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে নেতা হিসেবে নির্বাচনের ঘোষণা দেন। জাভেদ খান, সন্দীপন সাহা, শিউলি সাহাকে ডেপুটি লিডার এবং আখরুজ্জামানকে মুখ্য সচেতক হিসেবে মনোনীত করা হয়েছে।

প্রসঙ্গত, এবারের নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেস ৮০টি আসনে জয় পেয়েছে। দলত্যাগবিরোধী আইন এড়াতে বিদ্রোহী শিবিরের অন্তত ৫৩ জন বিধায়কের প্রয়োজন ছিল। বর্তমানে তাদের সংখ্যা সেই সীমা ছাড়িয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে।

কিউএনবি/অনিমা/০৪.০৬.২০২৬/বিকাল ৫.১৭

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category

আর্কাইভস

September 2026
M T W T F S S
1234567
891011121314
15161718192021
22232425262728
293031  
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৫-২০২৬
IT & Technical Supported By:BiswaJit