স্পোর্টস ডেস্ক : বিশ্বকাপ ফাইনালের উত্তেজনা বাড়ার সাথে সাথে গাজা উপত্যকার ফুটবল ভক্তরা তাদের সমর্থন স্পষ্টভাবে স্পেনের দিকে জানিয়েছেন। ফিলিস্তিনিদের প্রতি স্প্যানিশ সরকার ও খেলোয়াড়দের অবিচল সংহতির কারণে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে আসন্ন ফাইনালে তারা স্পেনের জয় কামনা করছেন।
গাজার মানুষের জন্য এই সমর্থন কেবল ফুটবলের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই, বরং এটি তাদের দুর্দিনে পাশে দাঁড়ানো একটি দেশের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতার বহিঃপ্রকাশ। গাজার ফুটবল ভক্তদের কাছে স্পেনের তরুণ তারকা লামিন ইয়ামাল এখন ভালোবাসার এক অনন্য প্রতীক। গত মে মাসে লা লিগা শিরোপা জেতার পর বার্সেলোনার ছাদখোলা বাসের প্যারেডে ইয়ামাল ফিলিস্তিনের পতাকা নেড়েছিলেন, যা গাজাবাসীর হৃদয় ছুঁয়ে যায়।
৩৩ বছর বয়সী ফিলিস্তিনি খেলোয়াড় আহমেদ আল-বোজম ইয়ামালকে উদ্দেশ্য করে বলেন, ‘ফিলিস্তিন থেকে আমরা আপনাকে ভালোবাসি। আমরা পুরোপুরি স্পেনের পক্ষে, কারণ তারা ফিলিস্তিনের পাশে দাঁড়িয়েছে।’তিনি আশা প্রকাশ করেন, স্পেন বিশ্বকাপ জিতে আবারও ফিলিস্তিনের পতাকা উত্তোলন করবে। শুধু খেলোয়াড়রাই নন, গত মে মাসে স্পেন সরকারের আনুষ্ঠানিকভাবে ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি প্রদান এবং গাজার মানবিক সংকটে তাদের সোচ্চার অবস্থান এই ভালোবাসাকে আরও দৃঢ় করেছে। গাজার অঙ্গহীনদের ফুটবল দলের কোচ হাতেম আল-মাগরিবীর মতে, স্পেনের এই উদ্যোগগুলো ফিলিস্তিনিদের কাছে ফুটবলের চেয়েও অনেক বড় কিছু।
যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজায় দীর্ঘ সময় ধরে চলা হামলায় খেলাধুলার পরিবেশ প্রায় ধ্বংস হয়ে গেছে। সাবেক ফুটবলার ও প্যালেস্টাইন স্টেডিয়ামের ম্যানেজার আদনান আল-আফিফি জানান, বিদ্যুৎ সংযোগ না থাকায় এবং জেনারেটরের জ্বালানির দাম আকাশছোঁয়া হওয়ায় সাধারণ মানুষের জন্য খেলা দেখাও এখন এক কঠিন সংগ্রাম।
গাজার প্রধান স্টেডিয়ামগুলো হয় ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে, নয়তো বাস্তুচ্যুতদের আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। এর মধ্যেও প্যালেস্টাইন স্পোর্টস ক্লাবে ফিলিস্তিন ও স্পেনের প্রতিনিধিত্বকারী দলগুলোর মধ্যে প্রতীকী ম্যাচের আয়োজন করে স্পেনের প্রতি নিজেদের ভালোবাসা জানিয়েছেন গাজাবাসী। বর্তমানে তাদের ফুটবল খেলা মূলত পাঁচ-পাঁচ জনের ছোট মাঠেই সীমাবদ্ধ।
তবে স্পেনের প্রতি এই অকুণ্ঠ সমর্থন থাকলেও আর্জেন্টিনার প্রতি গাজাবাসীর কোনো বিদ্বেষ নেই। আল-আফিফি স্পষ্ট করেই বলেছেন যে, স্পেনকে সমর্থন করার অর্থ এই নয় যে তারা আর্জেন্টিনার শত্রু। আর্জেন্টিনাকে একটি মহান ফুটবল জাতি হিসেবে উল্লেখ করে তিনি জানান, তারা প্রতিটি জাতীয় দলকেই সম্মান করেন। অনেকেই মনে করছেন লিওনেল মেসির মতো কিংবদন্তি খেলোয়াড়ের উপস্থিতির কারণে আর্জেন্টিনার জয়ের সম্ভাবনাও প্রবল।
তবে গাজার স্প্যানিশ সমর্থকরা আশাবাদী, চরম প্রতিকূলতার মাঝেও তাদের প্রিয় দল স্পেন ফাইনালে জয়লাভ করবে। আল-বোজমের মতো সমর্থকদের প্রত্যাশা, নির্ধারিত সময়ে ১-১ গোলে সমতা থাকার পর অতিরিক্ত সময়ে গোল করে স্পেন শেষ পর্যন্ত ৩-১ ব্যবধানে শিরোপা নিজেদের করে নেবে।
সূত্র: আলজাজিরা
কিউএনবি/আয়শা/১৯ জুলাই ২০২৬,/সন্ধ্যা ৭:৫৪