সোমবার, ২০ এপ্রিল ২০২৬, ০৩:৫৯ অপরাহ্ন

জীবাশ্ম জ্বালানি বর্জনে কলম্বিয়ায় বসছেন বিশ্ব নেতারা

Reporter Name
  • Update Time : সোমবার, ২০ এপ্রিল, ২০২৬
  • ২৭ Time View

আন্তর্জাতিক ডেস্ক  : জীবাশ্ম জ্বালানি পর্যায়ক্রমে বন্ধে আগামী সপ্তাহে কলম্বিয়ায় বিশ্বের প্রথম এক সম্মেলনে ৫০টিরও বেশি দেশ অংশ নিচ্ছে। সম্মেলনটি এমন এক সময়ে অনুষ্ঠিত হচ্ছে যখন ইরান যুদ্ধে যেখানে পৃথিবীকে উষ্ণকারী কয়লা, তেল এবং গ্যাসের ওপর দেশগুলোর নির্ভরশীলতা উঠে এসেছে।

যুদ্ধকালীন জ্বালানি সংকট, আকাশছোঁয়া মূল্যবৃদ্ধি এবং জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করার তীব্র প্রচেষ্টার প্রেক্ষাপটে মন্ত্রীরা ক্যারিবীয় শহর সান্তা মার্তায় এসে পৌঁছেছেন, যাকে আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা (ইন্টারন্যাশনাল এনার্জি এজেন্সি)  এযাবৎকালের সবচেয়ে বড় তেল সরবরাহ সংকট বলে অভিহিত করেছে।

ঐকমত্য-ভিত্তিক জাতিসংঘের জলবায়ু আলোচনা নিয়ে হতাশা থেকেই এই সমাবেশের জন্ম, যেখানে জীবাশ্ম জ্বালানি থেকে বেরিয়ে আসার কৌশল নিয়ে আলোচনার প্রচেষ্টা থমকে গেছে।

তবে আয়োজকরা বলছেন, উপসাগরীয় তেল ও গ্যাস চালানের প্রধান ট্রানজিট পয়েন্ট হরমুজ প্রণালীর ওপর ইরানের শ্বাসরুদ্ধকর নিয়ন্ত্রণের কারণে সৃষ্ট জ্বালানি সংকট জীবাশ্ম জ্বালানি পর্যায়ক্রমে বন্ধ করার যুক্তিকে আরও শক্তিশালী করেছে, যদিও কিছু দেশ স্বল্পমেয়াদে সরবরাহ নিশ্চিত করতে কয়লার দিকে ঝুঁকছে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, জলবায়ু অগ্রাধিকারের পাশাপাশি জ্বালানি নিরাপত্তা সংক্রান্ত উদ্বেগও ২৮ ও ২৯ এপ্রিলের এই উচ্চ-পর্যায়ের আলোচনাকে প্রভাবিত করবে বলে আশা করা হচ্ছে।

কলম্বিয়ার পরিবেশমন্ত্রী ইরিন ভেলেজ তোরেস, যার দেশ নেদারল্যান্ডসের সঙ্গে যৌথভাবে এই সভার আয়োজন করছে। তিনি বলেছেন, বৈঠকটি কয়েক মাস আগেই ঘোষণা করা হলেও জ্বালানি সংকটের কারণে এর প্রাসঙ্গিকতা ‘আরও বেড়েছে’।

প্রধান জীবাশ্ম জ্বালানি উৎপাদনকারী দেশ অস্ট্রেলিয়া, কানাডা ও নরওয়ের পাশাপাশি উন্নয়নশীল তেল জায়ান্ট অ্যাঙ্গোলা, মেক্সিকো ও ব্রাজিল এবং কয়লানির্ভর উদীয়মান বাজার তুরস্ক ও ভিয়েতনামেরও এতে অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে।

তারা ক্ষুদ্র দ্বীপ উন্নয়নশীল রাষ্ট্র থেকে শুরু করে জার্মানি, ফ্রান্স ও যুক্তরাজ্যের মতো প্রধান অর্থনীতির দেশগুলোর সঙ্গে যোগ দেবে। তবে বিশ্বের বৃহত্তম কয়লা, তেল ও গ্যাস উৎপাদনকারী দেশগুলো—বিশেষ করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, চীন, সৌদি আরব ও রাশিয়া—এই অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করছে না।

সম্মেলনে জাতিসংঘ প্রক্রিয়ার বাইরে জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার পর্যায়ক্রমে বন্ধ করার জন্য চাপ সৃষ্টিকারী একটি উদীয়মান জোটের রাজনৈতিক সংকেতের জন্য এটি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হবে। কয়লা ও তেল রপ্তানিকারক দেশ কলম্বিয়া বলেছে, কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ অংশগ্রহণকারী দেশগুলো বৈশ্বিক জীবাশ্ম জ্বালানি উৎপাদনের এক-পঞ্চমাংশ এবং ব্যবহারের প্রায় এক-তৃতীয়াংশের জন্য দায়ী।

জীবাশ্ম জ্বালানি স্বার্থসংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর বিরুদ্ধে জলবায়ু পরিবর্তন সংক্রান্ত জাতিসংঘের আলোচনাকে প্রভাবিত করার অভিযোগ উঠেছে এবং কিছু সরকার ও আন্দোলনকর্মী সান্তা মার্তায় উৎপাদক দেশগুলোর অংশগ্রহণ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।

ক্লাইমেট অ্যানালিটিক্স থিঙ্ক ট্যাঙ্কের প্রতিষ্ঠাতা, জলবায়ু বিজ্ঞানী বিল হেয়ার এএফপিকে বলেন, দেশগুলোর গোষ্ঠী যত বড় হবে, স্বার্থগুলো তত বেশি বিক্ষিপ্ত হবে এবং একটি সুস্পষ্ট ফলাফল পাওয়ার সম্ভাবনা তত কমে যাবে।

তবে ভেলেজ তোরেস বলেছেন, এই নিষিদ্ধ বিষয়টি মোকাবিলায় উৎপাদক দেশগুলোর উপস্থিতি একটি বড় পদক্ষেপ।

তিনি বলেন, আমাদের আরও খোলামেলাভাবে আলোচনা করার জন্য একটি সৎ পরিসর তৈরি করতে হবে, যেখানে আমরা সবকিছু খোলাখুলিভাবে আলোচনা করতে পারব। জীবাশ্ম জ্বালানি নির্মূল করার পথ যে সহজ, তা কেউ বলছে না। কিন্তু আমাদের এই মানুষগুলোকে একত্রিত করতে হবে।

কারও কারও কাছে, জাতিসংঘের জলবায়ু আলোচনা থেকে এর দূরত্বের কারণেই এই সম্মেলনটি আকর্ষণীয়। টুভালুর জলবায়ু মন্ত্রী মাইনা তালিয়া সাংবাদিকদের বলেন, আমি মনে করি সান্তা মার্তা বৈঠকটি অনেক আগেই হওয়া উচিত ছিল।

জীবাশ্ম জ্বালানির তুলনায় পরিচ্ছন্ন জ্বালানিতে প্রায় দ্বিগুণ বিনিয়োগ করা হয়, যা মানবসৃষ্ট জলবায়ু পরিবর্তনের প্রধান চালিকাশক্তি। কিন্তু কয়লা, তেল এবং গ্যাস পোড়ানোর ফলে সৃষ্ট তাপ-আটকানো নির্গমন ২০২৫ সালে আবারও রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছেছে। জ্বালানি সংকটের প্রতিক্রিয়ায়, কিছু দেশ স্বল্পমেয়াদী সরবরাহের ঘাটতি পূরণের জন্য কয়লার ব্যবহার বাড়ানোর পরিকল্পনা করছে, যা উন্নত অর্থনীতিতেও জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমানোর চ্যালেঞ্জকে তুলে ধরে।

ভানুয়াতুর জলবায়ু মন্ত্রী রালফ রেগেনভানু, যার প্রশান্ত মহাসাগরীয় দ্বীপরাষ্ট্রটি জ্বালানি আমদানির ওপর অত্যন্ত নির্ভরশীল। তিনি সাংবাদিকদের বলেছেন, এই সংকট সকলের জন্য জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমানোর একটি সুস্পষ্ট আহ্বান।

রেগেনভানু বলেন, আমরা এই ক্ষেত্রে প্রথম পদক্ষেপ গ্রহণকারী হতে অত্যন্ত আগ্রহী। ২০২৩ সালে কপ২৮-এ প্রায় ২০০টি দেশ জীবাশ্ম জ্বালানি থেকে সরে আসার বিষয়ে সম্মত হয়েছিল, কিন্তু সেই প্রতিশ্রুতিকে বাস্তবে পরিণত করার প্রচেষ্টা তখন থেকেই তীব্র প্রতিরোধের সম্মুখীন হয়েছে।

নভেম্বরে ব্রাজিলে অনুষ্ঠিত কপ-৩০ সম্মেলনে উত্তেজনা চরমে পৌঁছেছিল, যখন দেশগুলো চূড়ান্ত চুক্তিতে জীবাশ্ম জ্বালানির একটি সুস্পষ্ট উল্লেখ অন্তর্ভুক্ত করতেও একমত হতে পারেনি।

থিঙ্ক ট্যাঙ্কের বিশ্লেষক বেথ ওয়াকার বলেন, সান্তা মার্তা জাতিসংঘের আলোচনার প্রতিদ্বন্দ্বী হওয়ার চেয়ে বরং আগ্রহী দেশগুলোর জন্য সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ এগিয়ে নেওয়ার একটি সুযোগ ছিল।

ওয়াকার এএফপিকে বলেন, এখানে মোকাবিলার করার মতো অনেক কঠিন প্রশ্ন ও বিষয় রয়েছে। কিন্তু এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা এবং আমি মনে করি দীর্ঘমেয়াদে এটি নিজস্ব বৈধতা ও গতি তৈরি করতে শুরু করতে পারে। কোনো বড় ঘোষণার প্রত্যাশা করা হচ্ছে না। তবে সম্মেলনের সুপারিশগুলো ব্রাজিলের নেতৃত্বে জীবাশ্ম জ্বালানি থেকে সরে আসার একটি স্বেচ্ছামূলক “রোডম্যাপ”-এ অন্তর্ভুক্ত হবে।

কিউএনবি/অনিমা/২০ এপ্রিল ২০২৬,/দুপুর ২:১৩

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category

আর্কাইভস

April 2026
M T W T F S S
 123456
78910111213
14151617181920
21222324252627
28293031  
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৫-২০২৬
IT & Technical Supported By:BiswaJit