‘হরমুজ প্রণালী এখনও বন্ধ। আমরা আমাদের নেতা ইমাম খামেনির আদেশে এটি খুলব, কোনো ইডিয়ট তথা নির্বোধের টুইটে নয়’, অডিও ক্লিপটিতে আইআরজিসি নৌবাহিনীর এক সদস্যকে এমন কথা বলতে শোনা যায়।
এরপর প্রণালী দিয়ে চলাচল করতে ইচ্ছুক সকল জাহাজের প্রতি আরও একটি কঠোর সতর্কবার্তা দেয়া হয়। বলা হয়, ‘যদি আপনারা এই প্রণালী দিয়ে যেতে চান, তবে অবশ্যই ইরানের নৌবাহিনীর কাছ থেকে অনুমতি নিতে হবে। আমাদের শত্রুদের সাথে সংশ্লিষ্ট সকল জাহাজ হরমুজ প্রণালী অতিক্রম করার চেষ্টা করলে সেগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করা হবে।’
যা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। তবে ‘ইডিয়ট’ শব্দটি কাকে ইঙ্গিত করে বলা হয়েছে, তা নিয়ে ব্যবহারকারীদের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি হয়। একাধিক সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্ট দাবি করে যে, শব্দটি ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচিকে লক্ষ্য করে ব্যবহার করা হয়েছে।
‘ডনাল্ড জে ট্রাম্প পোস্টস ট্রুথ সোশ্যাল’ নামের একটি অ্যাকাউন্ট থেকেও বলা হয়, আইআরজিসি ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে ‘ইডিয়ট’ বলেছে। তবে ইরান এই দাবি সরাসরি নাকচ করে দেয়। দক্ষিণ আফ্রিকায় অবস্থিত ইরানি দূতাবাস এক্স-এ এক পোস্টে জানায়, ওই মন্তব্য কোনো ইরানি কর্মকর্তাকে নয়, বরং সরাসরি মার্কিন প্রেসিডেন্টকেই উদ্দেশ করে বলা হয়েছে।
পোস্টে দূতাবাস লিখেছে, ‘আরে নির্বোধ, সে আসলে তোমাদের ওই নির্বোধ প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকেই বুঝিয়েছে। গুগলে গিয়ে শুধু ‘ইডিয়ট’ লিখে সার্চ দাও, তাহলেই বুঝতে পারবে কার কথা বলা হয়েছে।’
বিশ্বব্যাপী নৌপরিবহণের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী দিয়ে বিশ্বের এক-পঞ্চমাংশ তেল ও এলএনজি পরিবহন করা হয়। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক আগ্রাসনের প্রেক্ষিতে পারস্য উপসাগরের গুরুত্বপূর্ণ জলপথটি বন্ধ করে দেয় ইরান।
এর ফলে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সংকট দেখা দেয়। যার প্রেক্ষিতে যুক্তরাষ্ট্র এই নৌপথের নিয়ন্ত্রণ নিতে মরিয়া হয়ে ওঠে। কিন্তু শত চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়। তেহরান নৌপথটি নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি পুরো অঞ্চলজুড়ে অত্যাবশ্যকীয় অবকাঠামোতে আঘাত হানার সক্ষমতা ও ইচ্ছা উভয়ই প্রদর্শন করেছে, যা উপসাগরীয় দেশগুলোর তেল ও গ্যাসভিত্তিক অর্থনীতিকে বিপন্ন করেছে।
লেবানন ও ইসরাইলের মধ্যে ১০ দিনের যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলে দীর্ঘ প্রায় ছয় সপ্তাহ পর শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) হরমুজ প্রণালী খুলে দেয় ইরান। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র এরপরও নৌ অবরোধ অব্যাহত রাখায় ফের হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দেয় ইরান।
তথ্যসূত্র: নিউজ১৮