আন্তর্জাতিক ডেস্ক : মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ফেরানোর আলোচনার অংশ হিসেবে ইরানের কাছে থাকা সমস্ত সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম বা পারমাণবিক ‘ধূলিকণা’ (নিউক্লিয়ার ডাস্ট) যুক্তরাষ্ট্র নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেবে বলে ঘোষণা করেছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
শুক্রবার তার নিজস্ব সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ দেওয়া এক বার্তায় ট্রাম্প স্পষ্ট করেছেন যে, এই প্রক্রিয়ায় ইরানের সঙ্গে কোনো ধরনের অর্থের লেনদেন হবে না। পারমাণবিক জ্বালানি শিল্পে ‘নিউক্লিয়ার ডাস্ট’ কোনো পরিচিত শব্দ না হলেও, বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন ট্রাম্প মূলত ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুতকেই বুঝিয়েছেন।
ট্রাম্পের এই ঘোষণাটি মূলত ‘অ্যাক্সিওস’-এর একটি প্রতিবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এসেছে, যেখানে দাবি করা হয়েছিল যে ইরান তাদের ইউরেনিয়াম হস্তান্তর করলে যুক্তরাষ্ট্র তাদের ২০ বিলিয়ন ডলারের হিমায়িত তহবিল ছেড়ে দেওয়ার কথা বিবেচনা করছে। ট্রাম্প এই প্রতিবেদন নাকচ করে দিয়ে জানান, কোনো অর্থ ছাড়াই এই পারমাণবিক উপাদানগুলো যুক্তরাষ্ট্রের কাছে আসবে।
একইসঙ্গে তিনি ইসরায়েল ও লেবাননের মধ্যে চলমান ১০ দিনের যুদ্ধবিরতি প্রসঙ্গে বলেন, ইউরেনিয়াম হস্তান্তরের এই চুক্তি লেবানন পরিস্থিতির ওপর নির্ভরশীল নয়। তবে হিজবুল্লাহ এবং লেবানন ইস্যু নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র আলাদাভাবে এবং যথাযথ পদ্ধতিতে কাজ করবে।
ট্রাম্প হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে আরও বলেন, ইসরায়েল আর লেবাননে বোমা হামলা চালাবে না এবং যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে তাদের এমনটি করতে নিষেধ করা হয়েছে। দীর্ঘ সংঘাতের অবসানে নিজের দৃঢ় অবস্থান তুলে ধরে তিনি লেখেন, ‘যথেষ্ট হয়েছে, আর নয়!’
ট্রাম্পের এই কড়া মন্তব্য এবং কোনো অর্থ ছাড়াই ইরানের ইউরেনিয়াম সংগ্রহের ঘোষণা বিশ্ব রাজনীতিতে নতুন করে চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে। এখন দেখার বিষয়, তেহরান এবং এই অঞ্চলের অন্যান্য অংশীদাররা ট্রাম্পের এই চরম শর্তের প্রতি কেমন প্রতিক্রিয়া দেখায়।
সূত্র: সিএনএন
কিউএনবি/অনিমা/১৮ এপ্রিল ২০২৬,/সকাল ৭:১৬