মঙ্গলবার, ২৫ অগাস্ট ২০২৬, ০৯:৪৫ পূর্বাহ্ন

আমাদের তিনটা যুদ্ধ সবচেয়ে বেশি মোকাবিলা করতে হচ্ছে : পানিসম্পদ মন্ত্রী

Reporter Name
  • Update Time : বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল, ২০২৬
  • ৫০ Time View

ডেস্ক নিউজ : ইদানিংকালে আমাদের তিনটা যুদ্ধ মোকাবিলা করতে হচ্ছে বলে জানিয়েছেন পানিসম্পদ মন্ত্রী মো. শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি।

বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদের অধিবেশনে ৭১ বিধিতে উপস্থাপিত জরুরি জনগুরুত্ব সম্পন্ন নোটিশের সিদ্ধান্ত প্রস্তাবের উপর আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এ কথা বলেন।

পানিসম্পদ মন্ত্রী বলেন, তিনটা যুদ্ধ ইদানিংকালে আমাদের সবচেয়ে বেশি মোকাবিলা করতে হচ্ছে। একটা হলো মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ, আরেকটা আমরা বিগত সময়ে রাজনৈতিক যুদ্ধ মোকাবেলা করে এখানে এসেছি। সবচেয়ে কঠিন হলো প্রকৃতির সঙ্গে যুদ্ধ করা। সুতরাং এই যে যুদ্ধটা যে কত কঠিন, যারা নদীর পাড়ে থাকেন নদীর পাড়ে যারা বসবাস করেন, তারাই সবচেয়ে বেশি বুঝেন এবং উপলব্ধি করেন।

এ সময় ডেপুটি স্পিকার বলেন, আমিও কমবেশি ভুক্তভোগী। আমার সুমেশ্বরী এবং কংশ দুইটার।

এরপর পানিসম্পদ মন্ত্রী বলেন, সংসদ সদস্য মো. আবুল হাসান যে নোটিশটি এনেছেন এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং তিনি যে সিদ্ধান্ত প্রস্তাবটি উত্থাপন করেছেন সিলেট জেলার জকিগঞ্জ ও কানাইঘাট উপজেলার নদীভাঙন রোধকল্পে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হোক এবং উনাকে সমর্থন করে যারা ইতিমধ্যে বক্তব্য রেখেছেন আমি সকল সংসদ সদস্যদের ধন্যবাদ জানাই। বাংলাদেশের উত্তর পূর্বাঞ্চল সিলেট। এই বৃহত্তর সিলেটের যে অঞ্চল এ অঞ্চলের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে দুইটা নদী।

একটা হলো সুরমা আরেকটা হল কুশিয়ারা। ভারতের ওরাক নদী দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে এই নদীগুলো সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে ভারতের মণিপুর রাজ্য এই রাজ্যের পাহাড়ি এলাকায় উৎপন্ন হয়ে বরাক নদী মিজোরাম ও আসামের উপর দিয়ে প্রবাহিত হয়ে বাংলাদেশের সিলেট জেলার জকিগঞ্জ উপজেলার অমরশিদ নামক স্থানে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে। এটি একটি খরস্রোতা নদী। উজানে ভারতের পাহাড়ি এলাকায় স্বল্প সময়ে মাত্রাতে রক্ত পরিমাণ বৃষ্টির কারণে ২০২২, ২০২৪ এবং ২০২৫ সর্বশেষ যে ভয়াবহ বন্যা হয়েছে ওই যে বলেছি যে প্রকৃতির সঙ্গে যুদ্ধ করে তাদের এখনো সেখানে বসবাস করতে হচ্ছে এবং টিকে থাকতে হচ্ছে। ইতিমধ্যে সিলেট জেলার এই জকিগঞ্জ ও কানাইঘাট উপজেলার নদী ভাঙনরোধে ঝুঁকিপূর্ণ স্থানসমূহে নদীর তীর সংরক্ষণ কাজ বাস্তবায়নের উদ্যোগ আমরা গ্রহণ করেছি।

তিনি বলেন, সুরমা কুশিয়ারা নদী অববাহিকার উন্নয়ন এবং বন্যা ও সমন্বিত পানি সম্পদ ব্যবস্থাপনা প্রথম পর্যায়ে একটি প্রকল্প ডিসেম্বর ২০২৫ সালে একটি প্রকল্প অনুমোদিত হয়। প্রকল্পটির অনুমোদিত প্রকল্পিত যে ব্যয় ৭৩ কোটি টাকা। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন মেয়াদকাল জানুয়ারি ২০২৬ থেকে ২০২৮। বর্তমানে প্রকল্পটির দরপত্র আহ্বান কার্যক্রম চলমান রয়েছে। সুরমা কুশিয়ারা নদী অববাহিকার উন্নয়ন এবং বন্যা ও সমন্বিত পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনার প্রথম পর্যায়ে শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় জকিগঞ্জ উপজেলার সীমান্ত রক্ষায় ১৩টি স্থানে ৪ দশমিক ৩৩৫ কিলোমিটার এবং কানাঘাট উপজেলার চারটি স্থানে ১ দশমিক ৪৪০ কিলোমিটার মোট ৫ দশমিক ৭৭৫ কিলোমিটার নদীর তীর প্রতিরক্ষা কাজ বাস্তবায়নের জন্য দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে জকিগঞ্জ ও কানাইঘাট উপজেলা নদীর তীর অনেকাংশে সুরক্ষিত হবে। এছাড়াও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ঘরবাড়ি কৃষি জমি এবং বাংলাদেশের ভূখণ্ড নদী ভাঙনের কবল থেকে অনেকাংশ রক্ষা পাবে।

মন্ত্রী বলেন, এই কাজটি করতে গিয়ে আমাদের যেহেতু এটি বর্ডার লাইন। ভারত এবং বাংলাদেশের সীমান্ত আমরা ইতিমধ্যে বিজিবিএসএফ একটা ফ্ল্যাগ মিটিং হয়েছে। জয়েন্ট রিভার কমিশনে সেখানে মিটিং চলছে এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ জেআরসির বাইরে ডিসি বাংলাদেশ এবং ডিসট্রিক্ট ম্যাজিস্ট্রেট ইন্ডিয়া সেখানে একটা কনফারেন্স মিটিংয়ের অপেক্ষায় রয়েছে। আমরা আশা করছি খুব শিগগিরই এই দুইটা মিটিং হওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে খুব শিগগিরই আমরা একটা পদক্ষেপ গ্রহণ করছি, যার ভিত্তিতে অদূর ভবিষ্যতে নির্মাণ কাজ শুরু করতে পারবো।

কিউএনবি/অনিমা/১৬ এপ্রিল ২০২৬,/দুপুর ২:২৭

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category

আর্কাইভস

August 2026
M T W T F S S
 123
45678910
11121314151617
18192021222324
25262728293031
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৫-২০২৬
IT & Technical Supported By:BiswaJit