বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬, ০১:৩৮ অপরাহ্ন

দুই হাজার কর্মী ছাঁটাই করবে বিবিসি

Reporter Name
  • Update Time : বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল, ২০২৬
  • ৩০ Time View

আন্তর্জাতিক ডেস্ক  : ব্যয় সংকোচনের অংশ হিসেবে দুই হাজার কর্মী ছাঁটাই করতে যাচ্ছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি।

বুধবার সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান তাদের এক প্রতিবেদনে এ খবর জানিয়েছে।

ব্রিটিশ এই সংবাদমাধ্যমটির প্রতিবেদনে বলা হয়, বুধবার এক সাধারণ সভায় কর্মীদের এই ছাঁটাইয়ের বিষয়ে জানানো কথা বিবিসির। এ সংবাদমাধ্যমের ২১ হাজার ৫০০ কর্মচারীর প্রায় ১০ শতাংশ এই সিদ্ধান্তের কারণে বাদ পড়বেন।

২০১১ সালের পর বিবিসিতে সবচেয়ে বড় এ ছাঁটাই প্রক্রিয়া শুরু হতে যাচ্ছে আগামী মাসে গুগলের সাবেক শীর্ষ নির্বাহী ম্যাট ব্রিটিন মহাপরিচালক হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার ঠিক আগে।

এর আগে বিবিসি গত ফেব্রুয়ারি মাসে ৬০ কোটি পাউন্ডের একটি ‘ব্যয় সংকোচন’ পরিকল্পনা ঘোষণা করেছিল। তখন সতর্ক করা হয়েছিল, এর ফলে কর্মী সংখ্যা হ্রাস পাবে এবং কিছু অনুষ্ঠানের সম্প্রচার বন্ধ হয়ে যাবে।

করপোরেশনের বিদায়ী মহাপরিচালক টিম ডেভি সে সময় বলেছিলেন, বিবিসিকে আগামী তিন বছরে তাদের বার্ষিক আনুমানিক ৬০০ কোটি পাউন্ডের ব্যয় কাঠামোর ১০ শতাংশ কাটছাঁট করতে হবে।

ডোনাল্ড ট্রাম্প, গাজা এবং সমকামী অধিকারসহ বিভিন্ন বিষয়ে সংবাদ পরিবেশন নিয়ে বিতর্কের মুখে গত নভেম্বরে পদত্যাগের ঘোষণা দিয়ে গত ২ এপ্রিল বিবিসি ত্যাগ করেন ডেভি।

বর্তমানে রদ্রি টালফান ডেভিস বিবিসির অন্তর্বর্তীকালীন মহাপরিচালক হিসেবে রয়েছেন। তিনিই বুধবার সাধারণ সভার নেতৃত্ব দেবেন।

ম্যাট ব্রিটিন আগামী ১৮ মে বিবিসিতে যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে।

গার্ডিয়ান বলছে, বিবিসি বর্তমানে ব্রিটিশ সরকারের সঙ্গে তাদের ‘রয়্যাল চার্টার’ বা ‘রাজকীয় সনদ’ নবায়ন নিয়ে আলোচনা করছে, যার মেয়াদ আগামী বছরের শেষে সমাপ্ত হবে। এর মধ্যে লাইসেন্স ফির মাধ্যমে অর্থায়নের বিষয়টিও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

ব্রিটিশ ব্রডকাস্টিং, এন্টারটেইনমেন্ট, কমিউনিকেশনস অ্যান্ড থিয়েটার ইউনিয়ন বা বিইসিটিইউ এর প্রধান ফিলিপ্পা চাইল্ডসের মতে, এই মাত্রায় ছাঁটাই কর্মীদের জন্য এবং সামগ্রিকভাবে বিবিসির জন্য বিপর্যয়কর হবে।

তিনি বলেন, “আগের ছাঁটাইয়ের পর বিবিসির কর্মীরা এমনিতেই বেশ চাপের মধ্যে রয়েছেন। এখন আবার এই মাপের ছাঁটাই অনিবার্যভাবে বিবিসির ‘জনসেবামূলক লক্ষ্য’ পূরণের সক্ষমতাকে ক্ষতিগ্রস্ত করবে। সরকারকে অবশ্যই নিশ্চিত করতে হবে যে, রাজকীয় সনদের নবায়ন যেন বিবিসির অর্থায়নকে আরও নিরাপদ ও দীর্ঘমেয়াদী পথে নিয়ে যায়। আমাদের জাতীয় সম্প্রচার মাধ্যমটিকে যেন তিলে তিলে ধ্বংস হওয়া থেকে রক্ষা করে।”

গার্ডিয়ানের খবরে বলা হয়, যুক্তরাজ্যে ১ এপ্রিল থেকে মূল্যস্ফীতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ‘লাইসেন্স ফি’ বার্ষিক ১৭৪.৫০ পাউন্ড থেকে বাড়িয়ে ১৮০ পাউন্ড করা হয়েছে। গত বছর দেশটির ২ কোটি ৩৮ লাখ গ্রাহকের কাছ থেকে ‘লাইসেন্স ফি’ বাবদ ৩৮০ কোটি পাউন্ড এবং বাণিজ্যিক কার্যক্রম ও অনুদান থেকে আরও ২০০ কোটি পাউন্ড আয় করেছে বিবিসি।

তবে, ফি ফাঁকি দেওয়া এবং নেটফ্লিক্স ও ডিজনির মত প্রতিদ্বন্দ্বী ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মগুলোর জনপ্রিয়তা বাড়ার কারণে ‘লাইসেন্স ফি’ দেওয়া গ্রাহকের সংখ্যা গত বছরের তুলনায় প্রায় ৩ লাখ কমেছে।

গত ফেব্রুয়ারিতে টিম ডেভি দাবি করেছিলেন, স্ট্রিমিং সার্ভিসের উত্থান এবং ইউটিউবের প্রভাব সত্ত্বেও বিবিসি নিজেদের ‘অবস্থান’ ধরে রেখেছে।

তবে গত বছর মিডিয়া নিয়ন্ত্রক সংস্থা অফকম সতর্ক করেছিল যে, স্ট্রিমিং যুগে বিবিসি, আইটিভি এবং চ্যানেল ৪ ও ৫-এর মত পাবলিক সার্ভিস টেলিভিশনগুলো বিলুপ্তির ঝুঁকিতে রয়েছে।

বিবিসি এর আগে বলেছিল, “গত তিন বছরে আমরা ৫০ কোটি পাউন্ডেরও বেশি সাশ্রয় করেছি, যার বড় অংশই আমরা বিবিসির আউটপুটে পুনরায় বিনিয়োগ করতে সক্ষম হয়েছি।”

তবে বিবিসি এটাও স্বীকার করেছে যে, ‘দ্রুত পরিবর্তনশীল’ মিডিয়া বাজারে তারা ক্রমাগত আর্থিক চাপের সম্মুখীন হচ্ছে।

সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান

কিউএনবি/অনিমা/১৬ এপ্রিল ২০২৬,/সকাল ১১:৪২

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category

আর্কাইভস

April 2026
M T W T F S S
 123456
78910111213
14151617181920
21222324252627
28293031  
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৫-২০২৬
IT & Technical Supported By:BiswaJit