তার এমন মন্তব্যের পর বুধবার (১৫ এপ্রিল) সংসদে বক্তব্য রাখতে গিয়ে স্টারমার বলেন, ‘এটা আমাদের যুদ্ধ নয়। ভিন্ন পথ অবলম্বনের জন্য আমার ওপর অনেক চাপ সৃষ্টি করা হয়েছে এবং গত রাতে যা ঘটেছে, সেটাও সেই একই ধরনের চাপের অন্তর্ভুক্ত।’
তিনি আরও বলেন, আমি আমার সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করব না। আমি নতি স্বীকার করব না। এই যুদ্ধে যোগ দেয়া আমাদের জাতীয় স্বার্থের অনুকূল নয় এবং আমরা তা করব না। নিজের অবস্থান সম্পর্কে অবগত আছেন বলেও মন্তব্য করেন স্টারমার।
এদিকে, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়াতে আনুষ্ঠানিকভাবে সম্মত হয়নি যুক্তরাষ্ট্র। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন ঊর্ধ্বতন মার্কিন কর্মকর্তার উদ্ধৃতি দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে সংবাদ সংস্থা রয়টার্স। ওই কর্মকর্তা বলেছেন, ‘একটি চুক্তিতে পৌঁছানোর জন্য যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আলোচনা অব্যাহত আছে।’
আগামী ২২ এপ্রিল যুদ্ধবিরতির মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। এর মধ্যেই আবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প ট্রুথ সোশ্যাল-এ দেয়া একটি নতুন পোস্টে বলেছেন, তিনি হরমুজ প্রণালী ‘স্থায়ীভাবে খুলে দিচ্ছেন’ এবং এ কারণে চীন ‘খুবই খুশি’। গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী আর কখনো অবরুদ্ধ হবে না বলেও মন্তব্য করেছেন ট্রাম্প। এছাড়া, চীন ইরানকে অস্ত্র সরবরাহ না করার ব্যাপারে সম্মত হয়েছে বলে দাবি করেছেন রিপাবলিকান এই নেতা।
ট্রাম্প লিখেছেন, চীন খুবই খুশি যে আমি হরমুজ প্রণালী স্থায়ীভাবে খুলে দিচ্ছি। আমি এটা তাদের জন্যও করছি এবং বিশ্বের জন্যও। এই পরিস্থিতি আর কখনো ঘটবে না। তারা (চীন) ইরানে অস্ত্র পাঠাবে না বলে সম্মত হয়েছে। তবে সাম্প্রতিক কিছু প্রতিবেদনের সঙ্গে তার এই দাবি অসামঞ্জস্যপূর্ণ বলেই মনে হচ্ছে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন জানিয়েছে, বেইজিং তেহরানকে আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা সরবরাহ করার প্রস্তুতি নিচ্ছে।
অন্যদিকে ফিন্যান্সিয়াল টাইমস বলছে, মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোর অবস্থান শনাক্ত ও সেগুলোকে লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করতে চীনা গুপ্তচর স্যাটেলাইট ব্যবহার করে আসছে ইরান। তবে, চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সাম্প্রতিক দিনগুলোতে বারবার অস্বীকার করেছে যে তারা ইরানকে কোনো ধরনের সামরিক সহায়তা দিচ্ছে। এছাড়াও, মার্কিন নৌ অবরোধ (হরমুজ প্রণালীতে) অব্যাহত থাকলে লোহিত সাগর, পারস্য উপসাগর এবং ওমান সাগরের মধ্য দিয়ে বাণিজ্য বন্ধ করে দেয়া হবে বলে সতর্ক করেছে ইরানের সামরিক বাহিনী।