আন্তর্জাতিক ডেস্ক : সিঙ্গাপুরের কর্মবাজারে নতুন এক বাস্তবতা সামনে এসেছে। সেখানে প্রতি পাঁচজন কর্মীর মধ্যে প্রায় একজন নিজের কাজের তুলনায় বেশি যোগ্য হলেও তাদের বড় অংশই স্বেচ্ছায় এই ধরনের কাজ বেছে নিচ্ছেন।
দেশটির মানবসম্পদ মন্ত্রণালয়ের এক গবেষণায় দেখা গেছে, ২০২৫ সালে ১৯.৪ শতাংশ আবাসিক কর্মী তাদের কাজের জন্য প্রয়োজনীয় যোগ্যতার চেয়ে উচ্চতর ডিগ্রি অর্জন করেছেন। ২০১৫ সালে এই হার ছিল ১৬.৩ শতাংশ।
গবেষণা বলছে, এসব কর্মীর প্রায় ৯০ শতাংশই স্বেচ্ছায় এমন অবস্থানে রয়েছেন। তাদের সিদ্ধান্তের পেছনে প্রধান কারণ হিসেবে উঠে এসেছে কর্ম-জীবনের ভারসাম্য, কাজে যাওয়া আসার সময় বিবেচনা, ব্যক্তিগত আগ্রহ এবং কিছু ক্ষেত্রে বেশি আয়ের সুযোগ।
অন্যদিকে খুব অল্পসংখ্যক কর্মী, মাত্র ১.৭ শতাংশ, তাদের যোগ্যতার সঙ্গে মানানসই কাজ খুঁজে পাননি। গত এক দশক ধরে এই হার ৩ শতাংশের নিচেই রয়েছে।
ন্যাশনাল ট্রেডস ইউনিয়ন কংগ্রেস এবং সিঙ্গাপুর ইউনিভার্সিটি অফ টেকনোলজি অ্যান্ড ডিজাইনের এক জরিপেও একই চিত্র পাওয়া গেছে। সেখানে ২২.৫ শতাংশ অংশগ্রহণকারী নিজেদের অতিরিক্ত যোগ্য বলে জানিয়েছেন, যাদের মধ্যে ৮৫.৫ শতাংশই স্বেচ্ছায় এই অবস্থানে আছেন। তাদের অনেকেরই পরিবার দেখাশোনার দায়িত্ব রয়েছে।
আন্তর্জাতিক তুলনায় দেখা যায়, সিঙ্গাপুরে উচ্চশিক্ষিত কর্মীর হার ৬৪ শতাংশ, যা অন্যান্য উচ্চ-আয়ের দেশের গড় ৪১.২ শতাংশের চেয়ে বেশি। তবে ওভারকোয়ালিফিকেশনের হার ১৯.৪ শতাংশ, যা বৈশ্বিক গড় ২১.৬ শতাংশের নিচে।
গবেষণায় আরও দেখা গেছে, ৩৪ বছর বা তার কম বয়সী কর্মীদের মধ্যে এই প্রবণতা বেশি। তবে অভিজ্ঞতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তারা নিজেদের যোগ্যতার সঙ্গে মানানসই পেশায় চলে যান।
অতিরিক্ত যোগ্য কর্মীরা মূলত সেলস, প্রশাসনিক, ফিন্যান্স, এবং রাইড শেয়ারিং খাতে কাজ করছেন। বিশেষ করে সেলস খাতে আয়ের সুযোগ বেশি থাকায় অনেকেই এই খাত বেছে নিচ্ছেন।
বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার প্রসারে রুটিনধর্মী কাজ কমে যেতে পারে। ফলে কর্মীদের বিশ্লেষণী ও আন্তঃব্যক্তিক দক্ষতা বাড়ানোর ওপর জোর দিতে হবে।
এদিকে দেশটির নিয়োগ ব্যবস্থায়ও পরিবর্তন আসছে। ২০২৫ সালে প্রায় ৮০ শতাংশ চাকরির বিজ্ঞপ্তিতে ডিগ্রির চেয়ে দক্ষতা ও অভিজ্ঞতাকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
সরকার কর্মীদের দক্ষতা উন্নয়নে স্কিলস ফিউচার এবং ওয়ার্কফোর্স সিঙ্গাপুরের মাধ্যমে নতুন উদ্যোগ নিচ্ছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, কর্মীরা যেন নিরাপদভাবে নিজের পছন্দ অনুযায়ী ক্যারিয়ার বেছে নিতে পারেন, সেটিই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
সূত্র: দ্যা স্ট্রেইট টাইমস
কিউএনবি/অনিমা/১৫ এপ্রিল ২০২৬,/দুপুর ১:৫১