ডেস্ক নিউজ : জৈব সার ব্যবহার করে নিরাপদ উপায়ে লটকন চাষে ভালো ফলন ও দাম পেয়ে খুশি দিনাজপুরের বীরগঞ্জ উপজেলার এক উদ্যোক্তা। স্বল্প খরচ, কম পরিচর্যা এবং বাজারে উচ্চ চাহিদার কারণে এ ফল চাষে আগ্রহী হচ্ছেন অনেক কৃষক। একসময় প্রায় অপ্রচলিত হিসেবে পরিচিত লটকন ধীরে ধীরে এলাকায় সম্ভাবনাময় অর্থকরী ফসলে পরিণত হচ্ছে।
উপজেলার সুজালপুর ইউনিয়নের শীতলাই গ্রামের কৃষি উদ্যোক্তা রাশেদুন নবী বাবু নিজ উদ্যোগে বিভিন্ন কৃষিবিষয়ক জার্নাল থেকে ধারণা নিয়ে লটকন চাষ শুরু করেন। বর্তমানে তিনি একই জমিতে লটকনের পাশাপাশি সুপারি ও মালটাসহ অন্যান্য ফসলও চাষ করছেন। লটকন মূলত সাথী ফসল হিসেবে চাষ করছেন তিনি।
তিনি জানান, প্রায় ৭ হাজার টাকা খরচ করে পরীক্ষামূলকভাবে ২৫ শতক জমিতে ৩৫টি লটকনের চারা রোপণ করেন। শুরুতে আশানুরূপ ফলন না পেলেও তিনি চাষ চালিয়ে যান। এবার তার বাগানের প্রতিটি গাছে থোকা থোকা লটকন ধরেছে।
স্থানীয় বাজারে বর্তমানে প্রতি কেজি লটকন ১৫০ থেকে ১৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। প্রতিটি গাছ থেকে গড়ে ৩০ থেকে ৪০ কেজি ফল পাওয়ার আশা করছেন তিনি।
রাশেদুন নবী বাবু বলেন, গত বছরের তুলনায় এবার ফলন অনেক ভালো হয়েছে। আশা করছি লাভও বেশি হবে। শখের বসে শুরু করেছিলাম, এখন তা লাভজনক হয়ে উঠেছে।
স্বাস্থ্যগত বিষয় বিবেচনায় তিনি লটকন চাষে রাসায়নিক সার ও কীটনাশক ব্যবহার করেননি বলে জানান। মূলত জৈব সার ব্যবহার করেই ভালো ফলন পেয়েছেন। এতে উৎপাদন খরচ কমেছে এবং নিরাপদ ফল পাওয়া গেছে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. শরিফুল ইসলাম বলেন, বীরগঞ্জে বিভিন্ন জাতের ফল চাষের উপযোগী পরিবেশ রয়েছে। লটকন চাষ বাণিজ্যিকভাবে আরও সম্প্রসারণের সুযোগ আছে। পুষ্টিগুণে সমৃদ্ধ, বিশেষ করে ভিটামিন সি–সমৃদ্ধ হওয়ায় এ ফলের চাহিদা বাড়ছে। তুলনামূলকভাবে কম রাসায়নিক সার ব্যবহারের কারণে এটি নিরাপদ ফল হিসেবে বাজারে জনপ্রিয়তা পাচ্ছে।
কিউএনবি/অনিমা/০২ এপ্রিল ২০২৬,/বিকাল ৫:১৮