শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২:২২ পূর্বাহ্ন

মধ্যপ্রাচ্যে হাজার হাজার মার্কিন প্যারাট্রুপার, ‘খারগ দ্বীপ’ কি হাতছাড়া হচ্ছে ইরানের

Reporter Name
  • Update Time : মঙ্গলবার, ৩১ মার্চ, ২০২৬
  • ৪৪ Time View

আন্তর্জাতিক ডেস্ক :  ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার চলমান সংঘাত এক নতুন মোড় নিতে শুরু করেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যখন যুদ্ধের পরবর্তী পদক্ষেপগুলো নিয়ে বিচার-বিশ্লেষণ করছেন, ঠিক তখনই মধ্যপ্রাচ্যে পৌঁছাতে শুরু করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের এলিট ৮২তম এয়ারবর্ন ডিভিশনের হাজার হাজার প্যারাট্রুপার।

সোমবার দুজন মার্কিন কর্মকর্তার বরাত দিয়ে রয়টার্স জানিয়েছে, উত্তর ক্যারোলিনার ফোর্ট ব্র্যাগ থেকে আসা এই সেনাসদস্যরা মূলত ওই অঞ্চলে মার্কিন সামরিক সক্ষমতা বৃদ্ধির অংশ হিসেবে মোতায়েন হচ্ছেন।

এর আগে গত ১৮ মার্চ রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছিল যে, ট্রাম্প প্রশাসন মধ্যপ্রাচ্যে অতিরিক্ত হাজার হাজার সেনা মোতায়েনের পরিকল্পনা করছে। এই পদক্ষেপের ফলে প্রয়োজনে ইরানি ভূখণ্ডে স্থল অভিযানের পথও প্রশস্ত হতে পারে। ফোর্ট ব্র্যাগ থেকে আসা এই প্যারাট্রুপারদের সঙ্গে যোগ দিচ্ছেন নৌবাহিনী, মেরিন এবং স্পেশাল অপারেশন ফোর্সের সদস্যরা। 

জানা গেছে, গত সপ্তাহান্তেই প্রায় ২,৫০০ মেরিন সেনা মধ্যপ্রাচ্যে পৌঁছেছেন। নাম প্রকাশ না করার শর্তে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ৮২তম এয়ারবর্ন ডিভিশনের সদর দফতরসহ লজিস্টিক সাপোর্ট এবং একটি ব্রিগেড কমব্যাট টিম এই মোতায়েন প্রক্রিয়ার অন্তর্ভুক্ত। তবে এই সেনাদের ঠিক কোন দেশ বা স্থানে মোতায়েন করা হচ্ছে, তা নিরাপত্তার স্বার্থে গোপন রাখা হয়েছে।

যদিও ইরানে সরাসরি সেনা পাঠানোর বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি, তবে এই বিশাল সমবেশ মূলত ভবিষ্যতে সম্ভাব্য যেকোনো অভিযানের সক্ষমতা বাড়ানোর লক্ষ্যেই করা হচ্ছে। প্রশাসনিক আলোচনার সূত্র অনুসারে, এই সেনাদের একাধিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা হতে পারে। এর মধ্যে অন্যতম হলো ইরানের তেল রফতানির মূল কেন্দ্র খারগ দ্বীপ দখল করা, যেখান দিয়ে দেশটির ৯০ শতাংশ তেল রফতানি হয়। এ ছাড়া ইরানের ভূগর্ভস্থ এলাকা থেকে উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম উদ্ধার বা হরমুজ প্রণালিতে তেলবাহী ট্যাঙ্কারের নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করতে ইরানি উপকূলে স্থলসেনা মোতায়েনের বিষয়টিও ট্রাম্প প্রশাসনের সক্রিয় বিবেচনায় রয়েছে।

সোমবার প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প জানিয়েছেন, যুদ্ধ বন্ধের জন্য যুক্তরাষ্ট্র একটি ‘অপেক্ষাকৃত যুক্তিবাদী শাসনামলে’র সঙ্গে আলোচনা করছে। তবে তিনি তেহরানকে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, হয় হরমুজ প্রণালি খুলে দিতে হবে, নতুবা ইরানের তেলকূপ ও বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোতে মার্কিন হামলার ঝুঁকি নিতে হবে। 

উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’-র আওতায় যুক্তরাষ্ট্র এ পর্যন্ত ১১ হাজারেরও বেশি লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে। এই অভিযানে এখন পর্যন্ত ১৩ জন মার্কিন সেনাসদস্য নিহত এবং তিন শতাধিক আহত হয়েছেন। মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে এই সৈন্য সমাবেশ ট্রাম্পের জন্য রাজনৈতিকভাবে ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে, কারণ তিনি এর আগে নতুন কোনো যুদ্ধে না জড়ানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। সব মিলিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি এখন চরম উত্তেজনার দিকে মোড় নিচ্ছে।

সূত্র: রয়টার্স

কিউএনবি/অনিমা/৩১ মার্চ ২০২৬,/দুপুর ২:১৭

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category

আর্কাইভস

September 2026
M T W T F S S
1234567
891011121314
15161718192021
22232425262728
293031  
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৫-২০২৬
IT & Technical Supported By:BiswaJit