ডেস্ক নিউজ : মানিকগঞ্জের কালীগঙ্গা নদীর পাড় থেকে মাথাবিহীন লাশ উদ্ধারের পাঁচদিন পর ভুট্টাখেতে পাওয়া গেল অটোকচালক রফিক মিয়ার (২৭) মাথা। রোববার (২৯ মার্চ) সকালে সদর উপজেলার দিঘুলিয়া এলাকার নদীরপাড়ের একটি ভুট্টাখেত থেকে মাথাটি উদ্ধার করা হয়।
পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) মানিকগঞ্জের পুলিশ সুপার জয়িতা শিল্পী মাথা উদ্ধারের সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, অটোচালক রফিককে গলাকেটে হত্যার পর মাথা বিচ্ছিন্ন করে নদীতে ফেলে দেন হত্যাকারীরা। উদ্ধার করা মাথাটি রফিকের বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে বিষয়টি অধিকতর নিশ্চিত হতে ফরেনসিক পরীক্ষা করানো হবে।
ইতোমধ্যে এ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে ঘিওর উপজেলার রাথুরা গ্রামের মো. রিপন মিয়া (৩০), সদর উপজেলার পাছবারইল গ্রামের আরমান হোসেন (২০) ও একই গ্রামের সজিব হোসেনকে (২৫) গ্রেফতার করেছে পিবিআইয়ের একটি দল।
এজাহার, পিবিআই ও সদর থানা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে- ঘিওর উপজেলার রাথুরা গ্রামের রফিক মিয়া একজন ব্যাটারিচালিত অটোচালক। গত মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) সকাল ১০টার দিকে অটো নিয়ে বাড়ি থেকে বের হন রফিক। এরপর থেকে তিনি নিখোঁজ ছিলেন। গত বুধবার বিকালে সদর উপজেলার পাছবারইল গ্রামে কালীগঙ্গা নদীর পাড় থেকে তার মাথাবিহীন লাশ উদ্ধার করে সদর থানা পুলিশ।
নিহত রফিক ও নির্মাণশ্রমিক রিপন একে-অপরের ঘনিষ্ট বন্ধু ছিলেন। রফিককে হত্যা করে অটোটি বিক্রি করবেন বলে পূর্বপরিকল্পনা করেন রিপন। গত মঙ্গলবার সন্ধ্যার পর গাঁজা খাওয়ার কথা বলে অটোতে করে রফিককে পাছবারইল এলাকায় কালীগঙ্গা নদীর পাড়ে নিয়ে যান রিপন এবং তার সহযোগী সজিব ও আরমান। এরপর আরমান রফিকের মাথায় হাতুড়ি দিয়ে আঘাত করলে তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। এরপর রিপন দা দিয়ে রফিকের গলাকেটে শরীর থেকে মাথা আলাদা করেন।
এ সময় আরমান রফিকের দুই হাত এবং সজিব দুই পা ধরে রাখেন। পরে হত্যাকারীরা মাথা এবং শরীর নদীতে ফেলে দেন। মাথা পানিতে ডুবে গেলেও শরীর ভেসে উঠে। এ কারণে রফিকের পেট কেটে নদীতীরে মাটিচাপা দেন। পরের দিন গত বুধবার ভোরে রফিকের অটোটি নিয়ে রিপন সাভারে চলে যান। ওই দিন (বুধবার) বিকালে নদীর তীর থেকে রফিকের মাথাবিহীন লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় নিহত রফিকের ভাই মো. আরিফ মিয়া বাদী হয়ে অজ্ঞাত ব্যক্তিদের আসামি করে সদর থানায় একটি হত্যা মামলা করেন।
পরে এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনাটি পিবিআই মানিকগঞ্জ কার্যালয় তদন্ত শুরু করে। গত বৃহস্পতিবার দুপুরে প্রযুক্তির সহযোগিতায় ঢাকার ধামরাই উপজেলার কালামপুর বাজার এলাকা থেকে রিপনকে গ্রেফতার করে পিবিআইয়ের একটি দল। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে আরমান ও সবুজকে গ্রেফতার করা হয়। তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে কালামপুরে একটি গ্যারেজ থেকে অটোটি উদ্ধার করা হয়।
জয়িতা শিল্পী আরও বলেন, গতকাল শনিবার বিকালে গ্রেফতার তিন আসামি আদালতে হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছেন। পরে আসামিদের কারাগারে পাঠানো হয়েছে। বানিয়াজুরী তদন্ত কেন্দ্রের উপ-পরিদর্শক (এসআই) পুলক কুমার দাস মজুমদার বলেন, রোববার সকালে দিঘুলিয়া এলাকায় কালীগঙ্গা নদীর পাড়ে এক ব্যক্তি নিজের খেতে ভুট্টা তুলতে গেলে শরীর থেকে বিছিন্ন মাথাটি দেখতে পান। পরে খবর পেয়ে সকাল সাড়ে ১০টার দিকে ঘটনাস্থল থেকে মাথাটি উদ্ধার করে পুলিশ।
তিনি বলেন, ধারণা করা হচ্ছে শরীর থেকে বিচ্ছিন্ন মাথাটি নদীতে নিক্ষেপ করার পর ভাসতে ভাসতে ভুট্টাখেতের পাশে নদীর তীরে আসে। পরে কুকুর বা শেয়াল সেখান থেকে মাথাটি ভুট্টাখেতে নিয়ে আসতে পারে। ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য মাথাটি মানিকগঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
এদিকে মানিকগঞ্জে অটোচালক রফিক মিয়ার হত্যাকারী তিন বন্ধুর ফাঁসির দাবিতে মানববন্ধন করেছে এলাকাবাসী। রোববার দুপুরে বানিয়াজুরী-ঘিওর সড়কের বানিয়াজুরী বাসস্ট্যান্ড এলাকায় এই মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।
কিউএনবি/আয়শা/২৯ মার্চ ২০২৬,/রাত ৮:৪০