বুধবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৬, ০২:১৪ পূর্বাহ্ন

ফিলিস্তিনি লেবেলে ইউরোপে ঢুকছে ইসরাইলি খেজুর!

Reporter Name
  • Update Time : শনিবার, ২১ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬
  • ৩৪ Time View

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : ইউরোপের বাজারে বিক্রি হওয়া একটি বড় অংশের খেজুরের প্রকৃত উৎস গোপন করে তৃতীয় কোনো দেশের লেবেল ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে, যাকে বিশেষজ্ঞরা ‘ডেড লন্ডারিং’ বা খেজুর পাচার হিসেবে অভিহিত করছেন। 

অভিযোগ রয়েছে, আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী অবৈধ হিসেবে বিবেচিত পশ্চিম তীরের ইসরাইলি বসতিতে উৎপাদিত খেজুরগুলো বয়কট এড়াতে নেদারল্যান্ডস, মরক্কো ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের মতো দেশের মাধ্যমে ইউরোপে প্রবেশ করছে। 

বিশ্বজুড়ে মুসলিম দেশগুলোর বয়কট অভিযানের মুখে ইসরাইলি রফতানিকারকরা এখন তাদের পণ্যের গায়ে সরাসরি ‘ইসরাইলি পণ্য’ লেখার পরিবর্তে কৌশলী লেবেল ব্যবহার করছে বলে বিভিন্ন শিল্প প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।

পরিসংখ্যান অনুযায়ী ২০২৫ সালে বিশ্বজুড়ে খেজুরের বাজারের আকার ছিল ৩২.৭ বিলিয়ন ডলার, যা ২০৩৪ সাল নাগাদ ৫৫ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। মিশর, সৌদি আরব ও ইরান বৈশ্বিক উৎপাদনে শীর্ষে থাকলেও প্রিমিয়াম ‘মেডজুল’ খেজুর রফতানিতে ইসরাইলের অবস্থান বেশ শক্তিশালী। তবে বাজার বিশ্লেষকরা একটি বড় অসংগতি লক্ষ্য করেছেন। 

ইসরাইল বছরে প্রায় ৩৫ হাজার টন খেজুর রফতানি করে। অথচ তাদের মূল ভূখণ্ডে উৎপাদিত হয় মাত্র ৮ হাজার ৮০০ টন। অর্থাৎ রফতানি করা খেজুরের প্রায় ৭৫ শতাংশই আসে পশ্চিম তীরের বিতর্কিত বসতিগুলো থেকে। ২০১৪ সালে ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ অন্তত ২০ টন ইসরাইলি খেজুর জব্দ করেছিল, যা ‘ফিলিস্তিনি পণ্য’ হিসেবে লেবেল দিয়ে বাজারজাত করার পরিকল্পনা ছিল।

ইউরোপীয় ইউনিয়নের ২০১৯ সালের এক আইনি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ইসরাইলি বসতির পণ্যের গায়ে স্পষ্ট লেবেল থাকা বাধ্যতামূলক। তা সত্ত্বেও নেদারল্যান্ডস এবং ফ্রান্সে বিক্রি হওয়া প্রায় অর্ধেক খেজুরই ইসরাইলি বংশোদ্ভূত বলে মনে করা হয়। যদিও সেগুলো প্যাকেজিং বা পুনঃরফতানির সময় উৎস গোপন করা হচ্ছে। নেদারল্যান্ডস ও ফ্রান্স বর্তমানে এই পণ্যগুলোর অন্যতম প্রধান প্যাকেজিং হাব হিসেবে কাজ করছে। এমনকি জার্মানিতে সরবরাহ করা মোট খেজুরের প্রায় ২৫ শতাংশের উৎসই কোনো না কোনোভাবে ইসরাইলের সাথে যুক্ত বলে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন।

গাজা সংকটের প্রভাবে বর্তমানে ইসরাইলের কৃষি খাত চরম বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে। বিশেষ করে মুসলিম বিশ্বের পাশাপাশি ইউরোপের বিভিন্ন দেশ যেমন বেলজিয়াম, আয়ারল্যান্ড এবং ব্রিটেনের ‘কো-অফ’-এর মতো বড় চেইন শপগুলো ইসরাইলি পণ্য বর্জনের ঘোষণা দিয়েছে। এই বাজার হারানোর ভয়েই রফতানিকারকরা এখন ‘ডেড লন্ডারিং’-এর আশ্রয় নিচ্ছেন। বিশেষজ্ঞরা সাধারণ ক্রেতাদের খেজুর কেনার আগে প্যাকেটের উৎস এবং কিউআর কোড ভালোমতো যাচাই করার পরামর্শ দিয়েছেন যাতে অনিচ্ছাকৃতভাবে কেউ অবৈধ বসতির পণ্য ক্রয় না করেন।

সূত্র: ইয়েনি সাফাক।

 

 

কিউএনবি/খোরশেদ/২১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬,/বিকাল ৪:১৪

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category

আর্কাইভস

April 2026
M T W T F S S
 123456
78910111213
14151617181920
21222324252627
28293031  
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৫-২০২৬
IT & Technical Supported By:BiswaJit