আন্তর্জাতিক ডেস্ক : পেরুর রাজনীতিতে অস্থিরতার নতুন নজির স্থাপন করে ক্ষমতা গ্রহণের মাত্র চার মাসের মাথায় অপসারিত হলেন অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট হোসে জেরি।
এই রাজনৈতিক কেলেঙ্কারিটি স্থানীয়ভাবে ‘চিফা-গেট’ নামে পরিচিতি পেয়েছে, যা মূলত চীনা ও পেরুভীয় ফিউশন খাবারের রেস্টুরেন্টকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে। সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেছে, প্রেসিডেন্ট জেরি গভীর রাতে হুডি পরে ব্যবসায়ী ঝিহুয়া ইয়াংয়ের রেস্টুরেন্টে গোপন বৈঠকে অংশ নিচ্ছেন। ইয়াং এমন একজন ব্যবসায়ী যিনি সরকারি নজরদারিতে ছিলেন এবং একটি বড় জ্বালানি প্রকল্পের রাষ্ট্রীয় সুবিধা ভোগ করছিলেন।
আরও উদ্বেগের বিষয় হলো, ওই বৈঠকগুলোতে এমন এক চীনা নাগরিক উপস্থিত ছিলেন যিনি অবৈধ কাঠ পাচার চক্রের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে তখন গৃহবন্দী ছিলেন। পেরুর আইন অনুযায়ী প্রেসিডেন্টের প্রতিটি অফিশিয়াল কার্যক্রম নথিবদ্ধ করার কথা থাকলেও জেরি এই বৈঠকগুলোর কোনো তথ্যই প্রকাশ করেননি।
ব্যবসায়ীদের সঙ্গে গোপন লেনদেনের পাশাপাশি জেরির বিরুদ্ধে আরও গুরুতর নৈতিক অভিযোগ উঠেছে। জানা গেছে, গভীর রাতে প্রেসিডেন্টের সরকারি প্রাসাদে কয়েকজন নারীর সঙ্গে সাক্ষাতের পর তাদের নামে বিভিন্ন সরকারি চুক্তি বরাদ্দ করা হয়েছিল। এসব ঘটনার জেরে অ্যাটর্নি জেনারেল তার বিরুদ্ধে দুর্নীতির তদন্ত শুরু করলে চারদিক থেকে চাপের মুখে পড়েন তিনি।
যদিও জেরি এসব অভিযোগকে রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র হিসেবে আখ্যা দিয়ে ক্ষমা চেয়েছিলেন, কিন্তু শেষ পর্যন্ত ৭৫-২৪ ভোটে কংগ্রেস তাকে অপসারণের সিদ্ধান্ত নেয়। আইনপ্রণেতা রুথ লুক বলেন, নাগরিকরা হুডি পরা নেতা কিংবা গোপন স্বার্থসিদ্ধির রাজনীতি আর দেখতে চায় না।
আগামী এপ্রিলে পেরুর সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে, যেখানে একটি স্থায়ী সরকার গঠনের স্বপ্ন দেখছে দেশটির মানুষ। হোসে জেরি ক্ষমতা গ্রহণের মাত্র এক সপ্তাহের মাথায় দেশটিতে দুর্নীতিবিরোধী আন্দোলনে একজন নিহত ও শতাধিক মানুষ আহত হয়েছিলেন।
বর্তমানে নতুন অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের জন্য কংগ্রেসে ভোট গ্রহণের প্রস্তুতি চলছে। তবে বারবার নেতৃত্বের পরিবর্তন এবং দুর্নীতির পুনরাবৃত্তি পেরুর গণতান্ত্রিক স্থিতিশীলতাকে চরম ঝুঁকির মুখে ঠেলে দিয়েছে।
সূত্র: বিবিসি।
কিউএনবি/খোরশেদ/১৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬,/বিকাল ৫:৪৪