নিরাপত্তা উদ্বেগজনিত কারণে বাংলাদেশ ক্রিকেট দল ভারতে গিয়ে বিশ্বকাপ ম্যাচ খেলতে অস্বীকৃতি জানিয়ে ম্যাচগুলো শ্রীলঙ্কায় স্থানান্তরের জন্য আইসিসির কাছে আবেদন জানিয়েছিল, কিন্তু তা প্রত্যাখ্যান করে টাইগারদের বাদ দিয়ে স্কটল্যান্ডকে বিশ্বকাপ খেলার সুযোগ দেয়া হয়েছে। পাকিস্তান সরকারের ঘোষণায় ক্রিকেটবিশ্ব বিস্মিত, সবচেয়ে লাভজনক ম্যাচ শঙ্কায় পড়ায় আইসিসিও লোকসানের শঙ্কায়। তেমনি সাবেক ক্রিকেটাররা সন্দিহান-বিশ্বমঞ্চের একটি টুর্নামেন্টে বেছে বেছে ম্যাচ না খেলা আদৌ সম্ভব কি না, তা নিয়ে।
ইংল্যান্ডের সাবেক অধিনায়ক কেভিন পিটারসেন পাকিস্তানের এই সিদ্ধান্তের পেছনের যুক্তিকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছেন। তিনি জানতে চান, টুর্নামেন্টের পরের দিকে যদি দুই দল আবার মুখোমুখি হয়, সেক্ষেত্রেও কি পাকিস্তান একই অবস্থান নেবে?
এক্সে (সাবেক টুইটার) পিটারসেন প্রশ্ন তুলেছেন, ‘এই বিশ্বকাপে গ্রুপ ও প্লে-অফ কাঠামোর কারণে ভারত-পাকিস্তান ফাইনাল সম্ভব কি না নিশ্চিত নই। কিন্তু যদি সম্ভব হয়, তাহলে কি পাকিস্তান বিশ্বকাপের ফাইনাল খেলতেও অস্বীকৃতি জানাবে?’
এরপর ভারতের সাবেক স্পিনার রবিচন্দ্রন অশ্বিনও মত দিয়েছেন। নকআউট পর্বে এমন বয়কট কতটা জটিলতা তৈরি করতে পারে, সে দিকটি তুলে ধরেছেন তিনি।
অশ্বিন লেখেন, ‘নকআউট পর্বেও কি ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ বাদ পড়বে? নিশ্চিত? আমরা সেখানে পৌঁছালে কি সেটা হবে ‘ওয়ার্ল্ড টি-টোয়েন্টি থেকে বিদায় (পাকিস্তানের)’?’
বাংলাদেশকে ২০ দলের এই টুর্নামেন্ট থেকে সরিয়ে স্কটল্যান্ডকে অন্তর্ভুক্ত করার প্রতিবাদে সংহতি জানিয়ে এর আগে সরে দাঁড়ানোর হুমকি দিয়েছিলেন পিসিবি চেয়ারম্যান ও পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহসিন নাকভি।
আইসিসি এই ম্যাচ বয়কটের সিদ্ধান্তে গুরুতর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। তাদের মতে, বেছে বেছে অংশগ্রহণ টুর্নামেন্টের স্বচ্ছতা ও বৈশ্বিক দর্শকভিত্তিকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। আইসিসি জানিয়েছে, তারা এখনো পিসিবির আনুষ্ঠানিক যোগাযোগের অপেক্ষায় আছে, তবে এমন সিদ্ধান্তের দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব থাকতে পারে বলেও সতর্ক করেছে।
এদিকে,বিসিসিআই’র অভ্যন্তরীণ সূত্রগুলো ভারতীয় গণমাধ্যমকে জানিয়েছে, ভারত নিয়ম মেনেই চলবে। দল কলম্বো যাবে, অনুশীলন ও মিডিয়া কার্যক্রমে অংশ নেবে, আর ম্যাচ নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ম্যাচ কর্মকর্তাদের ওপরই ছেড়ে দেবে।