ডেস্ক নিউজ : চীনের রেয়ার আর্থ (আধুনিক প্রযুক্তিতে ব্যবহৃত বিশেষ খনিজ) রপ্তানিতে বিধিনিষেধ উল্টো প্রভাব ফেলেছে বলে জানিয়েছে হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের এক গবেষণা। গবেষণায় বলা হয়েছে, এসব সীমাবদ্ধতার ফলে চীনের বাইরে থাকা কোম্পানিগুলো আরও দ্রুত নতুন প্রযুক্তি উদ্ভাবন করেছে, উৎপাদনশীলতা বাড়িয়েছে এবং বৈশ্বিক বাজারে আরও প্রতিযোগী হয়ে উঠেছে।
হার্ভার্ড বিজনেস স্কুলের অধ্যাপক লরা আলফারো ও তার সহগবেষকদের করা এ গবেষণায় দেখা গেছে, চীন রেয়ার আর্থের উৎপাদনে বিশ্বে একক আধিপত্য বজায় রেখেছে। বিশ্বে ব্যবহৃত মোট রেয়ার আর্থের ৯০ শতাংশের বেশি চীন উৎপাদন করে। ২০১০ সালে জাপানের সঙ্গে কূটনৈতিক বিরোধের পর চীন রেয়ার আর্থ রপ্তানিতে কঠোর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করে। এর ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে কিছু রেয়ার আর্থের দাম এক লাফে কয়েক হাজার শতাংশ পর্যন্ত বেড়ে যায়।
গবেষণায় বলা হয়েছে, এ ধরনের সরবরাহ সংকট চীনের বাইরের কোম্পানিগুলোকে ধসে পড়তে বাধ্য করেনি। বরং তারা নতুন পথে হাঁটতে শুরু করে। প্রায় ৩০ হাজার পেটেন্ট বিশ্লেষণ করে গবেষকরা দেখেছেন, চীনের বাইরে রেয়ার আর্থ-নির্ভর শিল্পে উদ্ভাবনের হার হঠাৎ বেড়ে যায়।
বিশেষ করে বিদেশি কোম্পানিগুলো বিকল্প উপাদান তৈরি ও এমন উৎপাদন পদ্ধতিতে বিনিয়োগ বাড়িয়েছে, যাতে রেয়ার আর্থের ব্যবহার কমানো যায় বা পুরোপুরি বাদ দেওয়া সম্ভব হয়। যেসব শিল্প এই নিষেধাজ্ঞার বেশি প্রভাব অনুভব করেছে, তারা তুলনামূলকভাবে কম ক্ষতিগ্রস্ত খাতের চেয়ে ৭ দশমিক ৪ শতাংশ বেশি রেয়ার আর্থ-সংক্রান্ত পেটেন্ট গড়ে তুলেছে।
গবেষণায় আরও বলা হয়েছে, চীনের বাইরে থাকা কোম্পানিগুলোর সামগ্রিক উৎপাদনশীলতা এবং শ্রমিকপ্রতি উৎপাদনশীলতা বেড়েছে। বিপরীতে, চীনের ভেতরে রেয়ার আর্থের ওপর বেশি নির্ভরশীল কিছু শিল্পখাতে উৎপাদনশীলতা কমেছে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে চীনের বাইরে রেয়ার আর্থ-নির্ভর শিল্পগুলো রপ্তানিও দ্রুত বাড়িয়েছে।
কিউএনবি/অনিমা/১৬ জানুয়ারী ২০২৬,/সকাল ৮:২০