সোমবার, ১২ জানুয়ারী ২০২৬, ০৯:৫০ অপরাহ্ন

ঝালকাঠি ট্রাফিক পুলিশের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগ, অভিযুক্ত সার্জেন্ট হাসান দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি

Reporter Name
  • Update Time : সোমবার, ১২ জানুয়ারী, ২০২৬
  • ৬০ Time View

গাজী গিয়াস উদ্দিন বশির,ঝালকাঠি : ঝালকাঠি জেলা পুলিশের ট্রাফিক বিভাগের বিরুদ্ধে বেপরোয়া চাঁদাবাজির গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। পরিবহন সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানায়, প্রায় এক বছর আগে এই অনিয়ম বন্ধ হলেও সম্প্রতি আবারও চাঁদাবাজি সক্রিয়ভাবে শুরু হয়েছে। এমন অভিযোগের ভিত্তিতে ঝালকাঠি পুলিশ সুপার মোঃ মিজানুর রহমান তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা গ্রহণ করেন। অভিযুক্ত সার্জেন্ট হাসানকে রোববার (১১ জানুয়ারি) দুপুরে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করা হয়েছে।

এ ঘটনায় সাধারণ পরিবহন মালিক-শ্রমিকদের মাঝে স্বস্তি ফিরে এসেছে। তবে তারা ট্রাফিক বিভাগের সার্বিক আচরণ ও কার্যক্রমে নজরদারি বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন। ঝালকাঠি শহর ও আশপাশের সড়কে ট্রাফিক পুলিশের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির গুরুতর অভিযোগের অনুসন্ধানে মিলেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য। আমাদের অনুসন্ধানে দেখা গেছে, পার্সেল পরিবহন ৫শ, টমটম ৫শ, ইজিবাইক ৫শ, ভাড়ায় চালিত মাইক্রোবাস ৩শ, দূরপাল্লার বাস ৭০টি প্রতিটি ৫০০ ও বিভিন্ন কোম্পানির কাভার্ড ভ্যান থেকে ৫০০ ও  ১০০০ নিয়মিতভাবে উক্ত টাকা মাসোয়ারা আদায় করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্টদের দাবি, এসব খাত থেকে প্রতি মাসে লাখ লাখ টাকার বেশি অবৈধ অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছে একটি সংঘবদ্ধ চক্র।

অপরদিকে প্রতিদিন অন্য জেলা থেকে ঝালকাঠিতে প্রবেশকারী প্রতিটি পিকআপ ও ট্রাক থেকে ২০০ থেকে ১ হাজার টাকা পর্যন্ত নগদ অর্থ আদায় করা হয়। শহরের কৃষ্ণকাঠি পেট্রোলপাম্প মোড় সকাল থেকে সন্দ্যা,রাতে কলেজ মোড়ের অতিথি কমিউনিটি সেন্টার বা ব্রাক মোড়ে চলে চাঁদাবাজির উৎসব। এসব এলাকায় যানবাহন থামিয়ে কাগজপত্র  যাচাইয়ের নামে মামলা দেওয়ার ভয় দেখিয়ে আদায় করা হয় অর্থ। যদিও এর আগে অভিযুক্ত সার্জেন্ট হাসানকে অপসারণ করে পুলিশ লাইনে ক্লোজ করা হয়েছে, তবে অভিযোগকারীদের দাবি, চাঁদাবাজির মূল চক্র এখনও বহাল তবিয়তে সক্রিয়। বর্তমানে ট্রাফিক ইন্সপেক্টর (টিআই) রহমত এই মাসোয়ারা বানিজ্যের প্রধান ব্যক্তি বলে অভিযোগ রয়েছে।

(টিআই) রহমত শহরের বিভিন্ন কোম্পানির মালের গাড়ী,সিএনজি,অটোরিক্সা,ট্যাংলড়িসহ মাসে লাখ লাখ টাকার বিট হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। এ অভিযোগের ব্যাপারে সাংবাদিকদের পক্ষ থেকে ট্রাফিক ইন্সপেক্টর (টিআই) রহমতের সাথে যোগাযোগ করা হলে টিআই রহমত সাক্ষাৎকার দিতে রাজি না হয়ে বলেন, “মিডিয়ায় কথা বলার বিষয়ে সিনিয়র স্যারের নিষেধ আছে।”জনগণ প্রশাসনের শীর্ষ মহলের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। একাধিক চালক বলেন, “পুলিশ মামলা না দিয়ে টাকা নেয়, না দিলে হয়রানি করে।

এই রকম অন্যায় আর কতদিন চলবে?”নাম প্রকাশে অনেচ্ছুক মাইক্রো ষ্ট্যান্ডের নেতা বলেন,ট্রাফিক সার্জেন্ট হাসান মাসের ৫ তারিখের পর প্রতিদিন ফোন করে বলতেন,এ ব্যাডা বাসায় বাজার করমু বিটের টাকা দেতে পারো। ঝালকাঠিতে ট্রাফিক বিভাগের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগ আরও ঘনীভূত হয়েছে। অনুসন্ধানে জানা গেছে, ট্রাফিক পুলিশের সদস্য টিএসআই তুষার জেলার দপদপিয়া,রাজাপুর,কাঠালিয়াসহ আশপারে থানার বিটের টাকা তুলে নেয় ও ইউসুফ শহরের বিভিন্ন পয়েন্টে ঘুরে বিভিন্ন কোম্পানির কাভার ভ্যান থেকে নিয়মিত মাসোয়ারা তুলে থাকেন। 

অন্যদিকে সদ্য অপসারিত সার্জেন্ট হাসান শুধু মাসোয়ারা তোলা নয়, বাস টার্মিনাল ও মাইক্রোবাস স্ট্যান্ডে নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করে সেখানে চালকদের কাছ থেকে অবৈধভাবে অর্থ আদায় করতেন। এমনকি সরকারি রিকুইজিশন স্লিপও তিনি নিজেই বিক্রি করতেন, যা ভয়াবহ অনিয়মের ইঙ্গিত দেয়। এ বিষয়ে ঝালকাঠি জেলা পুলিশের শীর্ষ কর্মকর্তা পুলিশ সুপার মোঃ মিজানুর রহমান বলেন, “দুর্নীতির বিরুদ্ধে আমরা জিরো টলারেন্সে আছি।

ইতোমধ্যে একজনকে ক্লোজ করা হয়েছে। ভবিষ্যতে কারো বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে তার বিরুদ্ধেও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়া হবে।”এমন অনিয়মের বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষ ও ঝালকাঠি নাগরিক সমাজ প্রশাসনের দ্রুত পদক্ষেপ ও ট্রাফিক বিভাগে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে।

 

কিউএনবি/আয়শা/১২ জানুয়ারী ২০২৬,/সন্ধ্যা ৬:৫০

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category

আর্কাইভস

January 2025
M T W T F S S
 12345
6789101112
13141516171819
20212223242526
2728293031  
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৫-২০২৬
IT & Technical Supported By:BiswaJit