রবিবার, ১১ জানুয়ারী ২০২৬, ০১:২০ অপরাহ্ন

মার্কিন জ্বালানির প্রাণকেন্দ্র হবে ভেনেজুয়েলা: মাচাদো

Reporter Name
  • Update Time : মঙ্গলবার, ৬ জানুয়ারী, ২০২৬
  • ৫০ Time View

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : মাচাদো বহু আগে থেকেই ভেনেজুয়েলার মাদুরো সরকারকে উৎখাতের কথা বলে আসছেন। এমনকি এজন্য তিনি প্রকাশ্যেই মার্কিন সামরিক হস্তক্ষেপের আহ্বানও জানান। গত বছর তাকে নোবেল শান্তি পুরস্কারে ভূষিত করা হয়। এর ফলে নরওয়ের সঙ্গে মাদুরো সরকারের কূটনৈতিক টানাপোড়েন দেখা দেয়।

কয়েক মাসের অব্যাহত সামরিক চাপ ও হুমকি-ধামকির পর গত শনিবার ((৩ জানুয়ারি) লাতিন আমেরিকার দেশ ভেনেজুয়েলায় সামরিক অভিযান চালায় মার্কিন বাহিনী। মাদক পাচারে জড়িত থাকার অভিযোগে দেশটির প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো ও তার স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসকে অপহরণ করে নিউইয়র্কে নিয়ে যাওয়া হয়।
 
মাদুরোকে ব্রুকলিনের একটি কুখ্যাত কারাগারে রাখা হয়েছে। সেখানে ‘মাদক সন্ত্রাস’র অভিযোগে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। গত সোমবার তাকে আদালতে হাজির করা হয়।
 
মাদুরোকে তুলে নিয়ে যাওয়ার পরই এক বার্তায় মাচাদো বলেন, ‘আলোচনার মাধ্যমে সমাধান গ্রহণে অস্বীকৃতি জানানোর’ পর যুক্তরাষ্ট্র মাদুরোকে অপসারণ করেছে এবং মাদুরোর বিরোধীরা এখন ‘আমাদের ম্যান্ডেট নিয়ে ক্ষমতা দখল করতে প্রস্তুত’। বার্তায় তিনি এডমান্ডো গঞ্জালেজ উরুতিয়াকে অবিলম্বে প্রেসিডেন্ট পদ গ্রহণের আহ্বান জানান।
 
এরপর সোমবার (৫ জানুয়ারি) ফক্স নিউজের সঞ্চালক শন হ্যানিটিকে সাক্ষাৎকার দেন মাচাদো। সাক্ষাৎকারে ভেনেজুয়েলাকে লাতিন আমেরিকায় ‘যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় মিত্র ও দেশটির জ্বালানি প্রাণকেন্দ্র’ হিসেবে গড়ে তোলার অঙ্গীকার করেন তিনি।
 
সাক্ষাৎকারে মাচাদো গত ৩ জানুয়ারি ভেনেজুয়েলায় মার্কিন সামরিক অভিযান ও মাদুরোর অপহরণের দিনটিকে ‘একটি ঐতিহাসিক দিন’ বলে অভিহিত করেছেন। তিনি বলেন, সেদিন ‘ন্যায়বিচারের হাতে স্বৈরাচারের পরাজয়’ হয়েছে।
 
শন হ্যানিটিকে মাচাদো বলেন, ‘ন্যায়বিচারের হাতে স্বৈরাচারের পরাজয়ের দিন হিসেবে ইতিহাসের পাতায় ৩ জানুয়ারি স্মরণীয় হয়ে থাকবে। এটি একটি মাইলফলক। এটা শুধু ভেনেজুয়েলার মানুষ ও তাদের ভবিষ্যতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ নয়। আমি মনে করি এটা বিশ্বজুড়ে মানবতা, স্বাধীনতা এবং সম্মানের সঙ্গে বেঁচে থাকা নিশ্চিতের পথে একটি বিশাল পদক্ষেপ।’
 
তিনি আরও বলেন, ‘এই বিজয় ঐতিহাসিক এবং দেশটিতে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার পথে বড় একটি পদক্ষেপ’। ভেনেজুয়েলা যুক্তরাষ্ট্রের ‘মিত্র’ হিসেবে কাজ করবে বলে মন্তব্য করে মাচাদো বলেন, ‘মুক্তির পর প্রাথমিকভাবে ভেনেজুয়েলা যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা নিশ্চিতে মিত্র হিসেবে কাজ করবে।’
 
তিনি আরও বলেন, ‘লাতিন আমেরিকার অপরাধ চক্রগুলোর কার্যক্রম বানচাল করে সমগ্র অঞ্চলে নিরাপত্তা বলয় প্রতিষ্ঠা করা হবে। এসব অপরাধী চক্র আমাদের জনগণ ও অবকাঠামোর অনেক ক্ষতি করেছে। এমন কী, মার্কিন জনগণও এতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এই চক্রগুলো ভেঙে ফেলার কাজে সবচেয়ে শক্তিশালী মিত্র হবে ভেনেজুয়েলা।’
 
তিনি আরও বলেন, ‘দ্বিতীয়ত, আমরা ভেনেজুয়েলাকে মার্কিনিদের জন্য জ্বালানি প্রাণকেন্দ্রে রূপান্তর করব। আমরা আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করব। বাজারগুলো উন্মুক্ত করে দেব। আমরা বিদেশি বিনিয়োগকে সুরক্ষা দেব।’ ‘তৃতীয়ত, আমরা দেশ থেকে পালাতে বাধ্য হওয়া লাখো নাগরিককে ফিরিয়ে আনব। যাতে তারা একটি শক্তিশালী ও উন্নয়নশীল জাতি, উন্মুক্ত সমাজ গঠনে অবদান রাখতে পারেন। আমরা আগের প্রশাসনের সব ধরনের ধ্বংস, অপরাধমূলক কার্যক্রমকে পেছনে ফেলে সামনে এগিয়ে যাবে। আমরা ভেনেজুয়েলাকে লাতিন আমেরিকায় যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় মিত্র হিসেবে প্রতিষ্ঠা করব।’

 

 

 

কিউএনবি/আয়শা/৬ জানুয়ারী ২০২৬,/বিকাল ৪:৪০

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category

আর্কাইভস

January 2025
M T W T F S S
 12345
6789101112
13141516171819
20212223242526
2728293031  
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৫-২০২৬
IT & Technical Supported By:BiswaJit