শনিবার, ০৪ জুলাই ২০২৬, ০৩:০৪ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম
নভোএয়ারের ফ্লাইটে যান্ত্রিক ত্রুটি, ঢাকায় জরুরি অবতরণ পাকিস্তানে বাস খাদে পড়ে নিহত ৪০ নতুন ভোটার নিবন্ধনের সময়সীমা এক মাস বাড়ালো ইসি বড় পর্দায় বিশ্বকাপ দেখার স্থানগুলোতে বিশেষ নজরদারি চালাবে ডিএমপি সুখরঞ্জন বালী অপহরণে সরাসরি জড়িত ছিলেন এএসপি ফজলুর মাটিরাঙ্গায় বর্ণিল আয়োজনে ‘নজরুল বর্ষ ২০২৬-২৭’ এর শুভ উদ্বোধন। গুড়গুড়ি উত্তরপাড়া গ্রামে পূর্ব শত্রুতার জের ধরে প্রতিপক্ষরা ৬০টি আম গাছ কেটে ফেলেন ॥ আশুলিয়ায় মোটর চালক দলের মতবিনিময় সভা  দেবীগঞ্জে ৩ বছরেও শেষ হয়নি সড়ক নির্মাণকাজ, ঠিকাদারের অবহেলার অভিযোগে মানববন্ধন আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির কফিন তেহরানের গ্র্যান্ড মোসাল্লায়, জানাজা শনিবার

যুক্তরাষ্ট্রকে পাশ কাটিয়ে ইরানের সঙ্গে আলাদা চুক্তির পথে উপসাগরীয় দেশগুলো!

Reporter Name
  • Update Time : শুক্রবার, ৩ জুলাই, ২০২৬
  • ৩১ Time View

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : সাম্প্রতিক সংঘাতের পর বদলে যাচ্ছে মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনৈতিক সমীকরণ। আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে যুক্তরাষ্ট্রের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে ইরানের সঙ্গে সরাসরি চুক্তির পথ খুঁজছে উপসাগরীয় আরব দেশগুলো। 

আঞ্চলিক কূটনৈতিক সূত্র ও বিশ্লেষকদের মতে, যুদ্ধ-পরবর্তী নতুন বাস্তবতায় সৌদি আরব, কাতার, ওমানসহ উপসাগরীয় দেশগুলো নিজেদের নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্বার্থ রক্ষায় তেহরানের সঙ্গে পৃথক সমঝোতা গড়ে তুলতে সক্রিয় হয়েছে।

কূটনৈতিক সূত্রগুলোর তথ্যানুযায়ী, প্রথমে ইরান ও ওমান, এরপর ওমান ও কাতার, পরে ইরান ও সৌদি আরব এবং সবশেষে কাতার ও সৌদি আরবের মধ্যে একাধিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। এসব বৈঠকের মূল লক্ষ্য ছিল যুদ্ধ-পরবর্তী সময়ে অঞ্চলে সহাবস্থান, নিরাপত্তা এবং পারস্পরিক সম্পর্কের নতুন কাঠামো নির্ধারণ করা।

বিশ্লেষকদের ধারণা, এই কূটনৈতিক তৎপরতা কেবল শুরু হয়েছে। আগামী দিনগুলোতে আরও বৈঠক অনুষ্ঠিত হতে পারে, যেখানে উপসাগরীয় দেশগুলো ইরানের সঙ্গে নতুন সম্পর্কের রূপরেখা চূড়ান্ত করার চেষ্টা করবে।

হরমুজ প্রণালী নিয়ে বিশেষ গুরুত্ব
আলোচনার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে বিশ্বের অন্যতম ব্যস্ত নৌপথ হরমুজ প্রণালীর নিরাপত্তা ও পরিচালনা।

বৈঠকগুলোতে আলোচনা হয়েছে, কীভাবে এই প্রণালীতে জাহাজ চলাচল পরিচালিত হবে এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিনিময়ে উপসাগরীয় দেশগুলো ইরানকে কী ধরনের আর্থিক প্রণোদনা দিতে পারে।

এদিকে, এসব আঞ্চলিক আলোচনা চললেও আলাদাভাবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি শান্তি চুক্তি নিয়ে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে। আগস্টের শেষ নাগাদ একটি সমঝোতায় পৌঁছানোর লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি আস্থা কমছে
মিডল ইস্ট ইনস্টিটিউটের জ্যেষ্ঠ গবেষক গনুল তোল বলেন, “যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্বাসযোগ্যতা গত কয়েক বছর ধরেই উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। তাই উপসাগরীয় দেশগুলো মনে করছে, নিজেদের নিরাপত্তার জন্য ইরানের সঙ্গে সরাসরি বোঝাপড়ায় পৌঁছানোই সবচেয়ে বাস্তবসম্মত পথ।”

তার মতে, উপসাগরীয় দেশগুলো শেষ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে নিজেদের স্বার্থ অনুযায়ী পৃথক সমঝোতায় পৌঁছাতে পারে।

প্রকাশ্যে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থানের সঙ্গে মিল
তবে প্রকাশ্যে এখনও উপসাগরীয় দেশগুলো যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থানকেই সমর্থন করছে।

সম্প্রতি মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত এক আঞ্চলিক বৈঠকের যৌথ বিবৃতিতে হরমুজ প্রণালীতে ‘অবাধ, শর্তহীন ও বাধাহীন নৌচলাচলের’ ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। পাশাপাশি কোনও ধরনের টোল, অতিরিক্ত ফি বা প্রণালীর ওপর একক নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টার বিরোধিতা করা হয়।

চ্যাথাম হাউসের মধ্যপ্রাচ্য বিশেষজ্ঞ আনিসেহ বাসিরি তাবরিজি বলেন, “হরমুজে নতুন কোনও টোল বা নিয়ন্ত্রণের বিষয়টি উপসাগরীয় দেশগুলোর জন্য একটি লাল রেখা।”

ইরানের নতুন কৌশল
তবে কূটনৈতিক মহলের ধারণা, ইরান সহজে হরমুজ প্রণালীকে তার সবচেয়ে বড় কৌশলগত অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করার সুযোগ ছাড়বে না।

জানা গেছে, এমন একটি পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা চলছে, যেখানে জাহাজ চলাচলের ওপর সরাসরি টোল নয়, বরং মাইন অপসারণ, পরিবেশ সংরক্ষণ, বন্দর ব্যবস্থাপনা কিংবা বীমা বাবদ ‘সেবা ফি’ আদায়ের ব্যবস্থা করা হতে পারে।

এ পরিকল্পনা বাস্তবায়নে কোন সংস্থা দায়িত্ব নেবে বা অর্থ কীভাবে সংগ্রহ ও বণ্টন করা হবে, তা এখনও স্পষ্ট নয়।

ইতোমধ্যে ইরান নবগঠিত গালফ স্ট্রেইট অথরিটির মাধ্যমে হরমুজ প্রণালীতে চলাচলকারী জাহাজের জন্য ইরানি বীমা বাধ্যতামূলক করার ঘোষণা দিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান ৬০ দিনের অন্তর্বর্তী সময় শেষ হওয়ার পর এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হতে পারে।

পারমাণবিক অস্ত্রের চেয়েও কার্যকর হাতিয়ার
গনুল তোলের ভাষায়, “ইরান এখন বুঝেছে, পারমাণবিক অস্ত্রের চেয়েও কার্যকর একটি কৌশলগত হাতিয়ার তাদের হাতে আছে- সেটি হচ্ছে হরমুজ প্রণালী। ফলে তারা এমন কোনও ব্যবস্থা করবে, যাতে এই প্রণালীর ওপর তাদের প্রভাব বজায় থাকে।”

তবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইতোমধ্যে স্পষ্ট করে দিয়েছেন, হরমুজে কোনও ধরনের অতিরিক্ত ফি বা টোল আরোপ তিনি মেনে নেবেন না।

আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক আইন অনুযায়ী, সাধারণভাবে আন্তর্জাতিক নৌপথে চলাচলের জন্য ফি আদায় নিষিদ্ধ। তবে জাহাজকে নির্দিষ্ট সেবা দেওয়া হলে সেই সেবার বিপরীতে অর্থ নেওয়ার সুযোগ রয়েছে।

হামলার হুমকি ও উত্তেজনা
সম্প্রতি ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) হরমুজ প্রণালীতে চলাচলকারী জাহাজকে হুমকি দেয়।

জাতিসংঘ, ওমান ও ইরানের সমন্বয়ে আটকে পড়া জাহাজ সরিয়ে নেওয়ার জন্য দু’টি নিরাপদ রুট নির্ধারণ করা হলেও ইরান জানিয়ে দেয়, নির্ধারিত রুট নিয়ন্ত্রণের একমাত্র কর্তৃত্ব তাদের এবং ওই পথের বাইরে চলাচল অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ।

এর একদিন পর তাইওয়ানের একটি বাণিজ্যিক জাহাজ হরমুজ প্রণালীতে হামলার শিকার হয়। মার্কিন কর্মকর্তাদের দাবি, ইরানের একটি ড্রোন ওই হামলা চালায়। অন্তর্বর্তী যুদ্ধবিরতির পর এটিই ছিল প্রথম এমন ঘটনা।

এরপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান পাল্টাপাল্টি হামলা চালায়, যার প্রভাব উপসাগরীয় অঞ্চলজুড়েও পড়ে। পরে উভয় পক্ষ নতুন করে হামলা বন্ধে সম্মত হয় এবং কাতারে আলোচনায় বসার সিদ্ধান্ত নেয়।

অর্থনৈতিক বিনিয়োগ হতে পারে সমঝোতার হাতিয়ার
বিশ্লেষকদের মতে, উপসাগরীয় দেশগুলোর সবচেয়ে বড় শক্তি হলো তাদের আর্থিক সক্ষমতা।

যুদ্ধ ও আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞার কারণে ইরানের অর্থনীতি ব্যাপক চাপে রয়েছে। তাই সৌদি আরব, কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ ধনী উপসাগরীয় দেশগুলোর বিনিয়োগ ইরানের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।

বিনিময়ে তারা ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি সীমিত করা, আঞ্চলিক প্রক্সি গোষ্ঠীগুলোকে অস্ত্র সরবরাহ কমানো এবং উপসাগরীয় দেশগুলোর নিরাপত্তার প্রতি হুমকি হ্রাসের মতো বিষয়ে ছাড় আদায়ের চেষ্টা করবে।

নিরাপত্তায় নতুন বিকল্পের খোঁজ
একসময় উপসাগরীয় দেশগুলোর নিরাপত্তা পুরোপুরি যুক্তরাষ্ট্রনির্ভর ছিল। কিন্তু বর্তমানে তারা বিকল্প অংশীদারও খুঁজছে।

সম্প্রতি কুয়েত তুরস্কের সঙ্গে ড্রোন ও আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা কেনার জন্য প্রতিরক্ষা সহযোগিতা চুক্তি করেছে। একইভাবে ইউক্রেন সৌদি আরব, কাতার ও সংযুক্ত আরব আমিরাতে ড্রোন রফতানির চুক্তি করেছে।

এছাড়া সৌদি আরব মিসর, পাকিস্তান ও তুরস্ককে নিয়ে নতুন নিরাপত্তা সহযোগিতা কাঠামো নিয়েও আলোচনা করছে।

যুক্তরাষ্ট্র থাকবে, তবে একমাত্র ভরসা নয়
বিশ্লেষকদের মতে, উপসাগরীয় দেশগুলো এখনও যুক্তরাষ্ট্রকে তাদের নিরাপত্তা ব্যবস্থার প্রধান অংশীদার হিসেবে বিবেচনা করে। তবে তারা আর ওয়াশিংটনের নিরাপত্তা প্রতিশ্রুতির ওপর পুরোপুরি নির্ভর করতে চাইছে না।

ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে ২০১৮ সালে ইরান পারমাণবিক চুক্তি থেকে যুক্তরাষ্ট্রের সরে যাওয়া এবং সাম্প্রতিক সময়ে ইরানের সঙ্গে সামরিক সংঘাত উপসাগরীয় দেশগুলোর মধ্যে অনিশ্চয়তা আরও বাড়িয়েছে।

ফলে এখন তারা যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা সহযোগিতা বজায় রাখার পাশাপাশি বিকল্প কৌশলও গ্রহণ করছে।

বিশ্লেষকদের ভাষায়, উপসাগরীয় দেশগুলোর নতুন নীতি হলো- যুক্তরাষ্ট্র পাশে থাকলে ভালো, কিন্তু না থাকলেও যেন নিজেদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যায়। সেই লক্ষ্যেই তারা ‘প্ল্যান-বি’ ও ‘প্ল্যান-সি’ বাস্তবায়নের প্রস্তুতি নিচ্ছে এবং ইরানের সঙ্গে সরাসরি আঞ্চলিক সমঝোতার পথ অনুসন্ধান করছে। সূত্র: দ্য টেলিগ্রাফ

কিউএনবি/অনিমা/০৩.জুলাই.২০২৬/সকাল ১০:৪৫

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category

আর্কাইভস

July 2026
M T W T F S S
 123456
78910111213
14151617181920
21222324252627
282930  
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৫-২০২৬
IT & Technical Supported By:BiswaJit