আন্তর্জাতিক ডেস্ক : যুদ্ধবিধ্বস্ত সুদানের কর্দোফান অঞ্চলের একটি অবরুদ্ধ শহরে আধাসামরিক র্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেসের (আরএসএফ) কামান হামলায় অন্তত ১৬ জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে নারী, বয়স্ক বাসিন্দা এবং শিশুরাও রয়েছে।
দেশটির নৃশংস গৃহযুদ্ধের তৃতীয় বছরে বেসামরিক মৃত্যুর সংখ্যা আরও বৃদ্ধি পেয়েছে। সুদান ডক্টরস নেটওয়ার্কের তথ্য অনুসারে, আরএসএফ এবং তাদের মিত্র সুদান পিপলস লিবারেশন মুভমেন্ট-নর্থ গত দুই দিন ধরে দক্ষিণ কর্ডোফানের ডিলিং-এর আবাসিক এলাকায় গোলাবর্ষণ করেছে।
ডক্টরস নেটওয়ার্ক এটিকে ইচ্ছাকৃতভাবে বেসামরিক নাগরিকদের ওপর হামলার নিন্দা জানিয়েছে। তারা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে, তারা যেন উভয় সশস্ত্র গোষ্ঠীকে অবিলম্বে বেসামরিক এলাকায় হামলা বন্ধ করতে এবং যুদ্ধে আটকা পড়া মানুষদের মানবিক সহায়তা নিশ্চিত করতে চাপ দেয়।
দুই বছরেরও বেশি সময় ধরে অবরুদ্ধ থাকা শহরে কলেরা এবং ডেঙ্গু জ্বরের প্রাদুর্ভাবের কারণে ইতোমধ্যেই স্বাস্থ্যসেবা ভঙ্গুর হয়ে পড়েছে। এ অবস্থায় প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর বোমা হামলা চাপ আরও বাড়িয়েছে।
আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার তথ্য অনুসারে, অক্টোবরের শেষের দিকে যখন আরএসএফ একটি প্রধান সেনা ঘাঁটি দখল করে এবং এই অঞ্চলে হামলা জোরদার করে, তখন থেকে কর্ডোফানের তিনটি রাজ্যজুড়ে ৫০ হাজারেরও বেশি মানুষ সহিংসতার কারণে পালিয়ে গেছে।
এই সময়ের মধ্যে শুধুমাত্র ডিলিং শহর থেকে প্রায় ৭১০ জন লোক বাস্তুচ্যুত হয়েছে। তাদের অনেকেই জাতিসংঘের শরণার্থী কর্মকর্তাদের কাছে ‘অকথ্য ভয়াবহতা’র প্রত্যক্ষ করার কথা জানিয়েছে।
জাতিসংঘের মানবাধিকার প্রধান ভলকার তুর্ক এই মাসের শুরুতে সতর্ক করে দিয়েছিলেন, দারফুরে, বিশেষ করে আল-ফাশারে সম্প্রতি ব্যাপক নৃশংসতার পর কর্দোফানেও একই ইতিহাসের ‘পুনরাবৃত্তি’ ঘটছে।
গত ১৩ ডিসেম্বর দক্ষিণ কর্ডোফানের রাজধানী কাদুগলিতে জাতিসংঘের ঘাঁটিতে ড্রোন হামলায় ছয় বাংলাদেশি শান্তিরক্ষী নিহত হন। জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস এটিকে ‘যুদ্ধাপরাধের শামিল হতে পারে’ বলে সতর্ক করেছে। আরএসএফের অত্যাচার ও প্রতিনিয়ত নিরাপত্তা সংকটের মুখে সুদানের দক্ষিণ কোরদোফান প্রদেশের কেরতালা শহর থেকে একদিনেই ১ হাজার ৬০০ এর বেশি বেসামরিক নাগরিক পালিয়ে গেছে।
সূত্র: আলজাজিরা।
কিউএনবি /অনিমা/ ১৯ ডিসেম্বর ২০২৫,/রাত ১০:৫৪