শিডিউলড সময় অনুযায়ী, আজ বুধবার সকাল ৯ টায় শুরু হবে এই এয়ার শো, শেষ হবে দুপুর ২টা ৩০ মিনিটে। এয়ার শো-এর পাশাপাশি ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময়কার এবং এর সঙ্গে সম্পর্কিত বিভিন্ন আলোকচিত্র ও প্রকাশনার প্রদর্শনী এবং মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক একটি চলচ্চিত্রও প্রদর্শন করা হবে। আসামের আজকের অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে থাকবেন ভারতের বিমান বাহিনীর প্রধান অমরপ্রীত সিং। প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংয়েরও এ অনুষ্ঠানে থাকার কথা ছিল, কিন্তু পরে তা বাতিল হয়েছে। প্রসঙ্গত, ১৯৭১ সালে পাক হানাদার বাহিনী তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানে (বর্তমান বাংলাদেশ) নির্মম সামরিক অভিযান শুরু করার পর প্রায় ১ কোটি মানুষ ভারতে আশ্রয় নিয়েছিলেন। যুদ্ধের শেষ পর্যায়ে ২১ নভেম্বর মুক্তিবাহিনী এবং ভারতীয় সেনাবাহিনীর সমন্বয়ে গঠিত হয় বাংলাদেশ-ভারত যৌথ বাহিনী।
এই বাহিনীর নেতৃত্বে ছিলেন ভারতীয় সেনাবাহিনীর পূর্বাঞ্চলীয় কমান্ডের প্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল জগজিৎ সিং অরোরা। ১৯৭১ সালের ৩ ডিসেম্বর থেকে অপারেশনে নামে বাংলাদেশ-ভারত যৌথ বাহিনী। বাংলাদেশ-ভারত যৌথ বাহিনী অপারেশন শুরু করার মাত্র ১৩ দিনের মাথায় ১৬ ডিসেম্বর ৯৩ হাজার সেনাসহ ভারতের সেনাবাহিনীর কাছে আত্মসমর্পণ করতে বাধ্য হয় পাকিস্তানের সেনাবাহিনী। বাংলাদেশ-ভারত যৌথ বাহিনী অপারেশন শুরু করার মাত্র ১৩ দিনের মাথায় ১৬ ডিসেম্বর ৯৩ হাজার সেনাসহ ভারতীয় সেনাবাহিনীর কাছে আত্মসমর্পণ করতে বাধ্য হয় পাকিস্তানি সেনাবাহিনী, পৃথিবীর মানচিত্রে আনুষ্ঠানিক ভাবে অভ্যুদয় ঘটে বাংলাদেশ নামের একটি নতুন রাষ্ট্রের।
১৯৪৭ সালে ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসন থেকে স্বাধীনতালাভের পর কয়েকবার যুদ্ধে জড়িয়েছে ভারত এবং পাকিস্তান। এসব যুদ্ধের মধ্যে ১৯৭১ সালের যুদ্ধ বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। কারণ ৭১ সালে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানে পাকিস্তানি বাহিনীর পরাজয় ও আত্মসমর্পণ করাকে নিজেদের সবচেয়ে নিখুঁত সামরিক বিজয় বলে বিবেচনা করে ভারত।ভারতীয় বিমানবাহিনীর ইস্টার্ন কমান্ডের জন্যও ১৬ ডিসেম্বর বিশেষভাবে তাৎপর্যপূর্ণ একটি দিন। কারণ বাংলাদেশ-ভারত যৌথ বাহিনীর সঙ্গে পাকিস্তানি বাহিনীর ১৩দিনের যুদ্ধে এই কমান্ড খুবই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকায় ছিল। সেই ১৩ দিন পাকিস্তানি বাহিনীকে লক্ষ্য করে যত বিমান অভিযান হয়েছে, সবই পরিচালনা করেছে ভারতীয় বিমান বাহিনীর ইস্টার্ন কমান্ড।
কিউএনবি/মহন/ ১০ ডিসেম্বর ২০২৫,/দুপুর ২:২৯