মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ১০:০৫ অপরাহ্ন

ইউক্রেন নিয়ে নতুন শান্তি–প্রস্তাব চূড়ান্ত পর্যায়ে

Reporter Name
  • Update Time : মঙ্গলবার, ৯ ডিসেম্বর, ২০২৫
  • ৮৬ Time View

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : রাশিয়ার হামলার বিরুদ্ধে লড়াইকে এগিয়ে নিতে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি সোমবার লন্ডনে ইউরোপের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। যুক্তরাষ্ট্রের নতুন শান্তি–প্রস্তাব নিয়ে বিতর্ক এবং ট্রাম্প প্রশাসনের ইউরোপবিষয়ক কঠোর নীতির মধ্যেই এ বৈঠক হয়।

ডাউনিং স্ট্রিটে অনুষ্ঠিত আলোচনায় ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার, ফরাসি প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল ম্যাক্রোঁন এবং জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রিডরিশ মার্জ অংশ নেন। বৈঠকে জেলেনস্কি বলেন, রাশিয়ার আগ্রাসন ঠেকাতে ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে ঘনিষ্ঠ ঐক্য জরুরি। তার ভাষায়, ‘কিছু সিদ্ধান্ত আছে যা আমেরিকা ছাড়া সম্ভব নয়, আবার কিছু ইউরোপ ছাড়া নয়।’

জেলেনস্কি জানান, যুদ্ধ থামাতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনার ভিত্তিতে নতুন শান্তি–পরিকল্পনা প্রায় চূড়ান্ত। আগের ২৮ দফার মার্কিন প্রস্তাবে যেসব ‘ইউক্রেনবিরোধী’ অংশ ছিল, সেগুলো বাদ দিয়ে এখন ২০ দফার পরিকল্পনা তৈরি হয়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, পরিকল্পনাটি মঙ্গলবারই যুক্তরাষ্ট্রকে পাঠানো হবে।

এদিকে, ইউক্রেনের পূর্বাঞ্চল দোনবাসের (দোনেৎস্ক ও লুহানস্ক) ভবিষ্যত নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছায়নি বলে জানান জেলেনস্কি। তিনি পশ্চিমা দেশগুলোর কাছে আলাদা নিরাপত্তা নিশ্চয়তার চুক্তি চান—যদি রাশিয়া আবার যুদ্ধ শুরু করে তবে তাদের অবস্থান কী হবে, সেটি স্পষ্ট করতে হবে বলেও উল্লেখ করেন।

অন্যদিকে, ট্রাম্প প্রশাসনের নতুন ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নিরাপত্তা কৌশল ইউরোপে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। নথিতে রাশিয়াকে হুমকি হিসেবে না দেখিয়ে বলা হয়েছে—ইউরোপীয় দেশগুলো মস্কোকে ‘অস্তিত্বগত হুমকি’ মনে করে, আর যুক্তরাষ্ট্র নাকি ইউরোপ–রাশিয়ার স্থিতি পুনর্গঠনে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকায় থাকবে। মস্কো এ কৌশলকে স্বাগত জানিয়েছে।

এ সময় কিয়েভের পরিস্থিতিও উত্তপ্ত। গত সপ্তাহে রাশিয়া ইউক্রেনে বড় ধরনের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায়, এতে অন্তত সাতজন নিহত ও অনেকে আহত হয়। জেলেনস্কি জানান, এক সপ্তাহে দেশজুড়ে ১,৬০০-এর বেশি ড্রোন ও প্রায় ৭০টি ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে রাশিয়া। এসব হামলায় বিদ্যুৎ–ব্যবস্থা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়; বিভিন্ন অঞ্চলে দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ–বিচ্ছিন্ন থাকে।

ইউরোপের উপকূলজুড়েও অজ্ঞাত ড্রোন দেখা যাওয়ায় বিভিন্ন দেশ তদন্ত শুরু করেছে। ইউরোপীয় কমিশন এসব ঘটনাকে ‘হাইব্রিড যুদ্ধ’— অর্থাৎ প্রচলিত যুদ্ধের সঙ্গে গোপন বা প্রযুক্তিনির্ভর আক্রমণের মিশ্র পদ্ধতি — বলে উল্লেখ করেছে।

কিউএনবি/অনিমা/০৯ ডিসেম্বর ২০২৫,/সকাল ১০:৪৪

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category

আর্কাইভস

October 2026
M T W T F S S
 12345
6789101112
13141516171819
20212223242526
27282930  
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৫-২০২৬
IT & Technical Supported By:BiswaJit