শনিবার, ২১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১১:৪৫ পূর্বাহ্ন

তিন দিনে দেড় হাজার লোককে হত্যা, কি ঘটছে সুদানে?

Reporter Name
  • Update Time : বৃহস্পতিবার, ৩০ অক্টোবর, ২০২৫
  • ৭৫ Time View

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : সুদানের পশ্চিম দারফুর অঞ্চলের কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ শহর এল-ফাশেরে আধা-সামরিক বাহিনী র‍্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেস (আরএসএফ) ভয়াবহ হত্যাযজ্ঞ চালিয়েছে। মেডিক্যাল গ্রুপ ও গবেষকদের মতে, আরএসএফ শহরটি দখল করার পর সেখানে ব্যাপক গণহত্যা চালাচ্ছে।

সুদানের গৃহযুদ্ধ পর্যবেক্ষণকারী সংগঠন সুদান ডক্টরস নেটওয়ার্ক বুধবার জানিয়েছে, গত তিন দিনে বেসামরিক নাগরিকরা অবরুদ্ধ শহরটি থেকে পালানোর চেষ্টা করলে আরএসএফের হামলায় অন্তত ১৫শ’ মানুষ নিহত হয়েছে। সংগঠনটি এই পরিস্থিতিকে প্রকৃত গণহত্যা বলে বর্ণনা করেছে। তারা আরও জানায়, এই হত্যাকাণ্ড হত্যা ও নির্মূল সুচিন্তিত ও সুপরিকল্পিত অভিযানের অংশ। তাদের মতে, এই ব্যাপক হত্যাযজ্ঞ দেড় বছর আগে এল-ফাশেরে সংঘটিত গণহত্যারই বর্ধিত রূপ। সেসময় বোমা হামলা, অনাহার ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডে ১৪ হাজারেরও বেশি বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছিল।

২০২৩ সাল থেকে আরএসএফ সুদানের সামরিক বাহিনীর সাথে রক্তক্ষয়ী গৃহযুদ্ধে লিপ্ত। এই সংঘাতে এ পর্যন্ত কয়েক হাজার মানুষ নিহত এবং ১ কোটি ২০ লাখের বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে। ১৭ মাস অবরোধের পর আরএসএফ গত রবিবার দারফুরে সেনাবাহিনীর শেষ শক্ত ঘাঁটি এল-ফাশের দখল করে নেয়।

সুদান সরকার বুধবার জানিয়েছে, শহরটিতে এ পর্যন্ত অন্তত ২ হাজার মানুষ নিহত হয়েছে। সাহায্য সংস্থাগুলো বিশ্বাসযোগ্য সূত্রের মাধ্যমে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড, পালানোর পথে বেসামরিকদের ওপর হামলা এবং বাড়ি বাড়ি তল্লাশির মতো নৃশংসতার খবর পেয়েছে। এছাড়া, শহরে নারী ও মেয়েদের উপর যৌন সহিংসতার অভিযোগও পাওয়া গেছে।

আল জাজিরার প্রতিনিধি হিব্বা মরগান সুদানের রাজধানী খার্তুম থেকে জানান, আরএসএফের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশিত ভিডিওতে দেখা গেছে যে তারা পালানোর চেষ্টাকারী বেসামরিক নাগরিকদের লক্ষ্য করে গুলি চালাচ্ছে। সবচেয়ে মর্মান্তিক ভিডিওটি ছিল এল-ফাশেরের সৌদি হাসপাতালের ভেতরের, যেখানে আরএসএফ যোদ্ধারা রোগীদের পর্যন্ত হত্যা করেছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)-এর মহাপরিচালক তেদ্রোস আধানম গেব্রেয়াসুস বলেছেন, কেবল সৌদি মাতৃসদন হাসপাতালেই ৪৬০ জনেরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছে। সুদান ডক্টরস নেটওয়ার্কের মতে, আরএসএফ যোদ্ধারা মঙ্গলবার ঠাণ্ডা মাথায় সৌদি হাসপাতালের ভেতরে পাওয়া রোগী, তাদের সঙ্গী এবং ওয়ার্ডে উপস্থিত সকলকে হত্যা করেছে।

এল-ফাশেরের এই পতনের ফলে প্রায় পুরো দারফুর অঞ্চলের নিয়ন্ত্রণ আরএসএফের হাতে চলে গেছে। এতে এক দশকেরও বেশি সময় আগে দক্ষিণ সুদান সৃষ্টির পর সুদানকে আবারও বিভক্তির মুখে পড়ার আশঙ্কা সৃষ্টি হয়েছে।

এদিকে, সৌদি আরব, মিশর, কাতার, তুরস্ক ও জর্ডান এই গণহত্যার তীব্র নিন্দা জানিয়ে আরএসএফের প্রতি বেসামরিক নাগরিকদের সুরক্ষা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছে। অবিলম্বে যুদ্ধবিরতি ও আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের দাবি করেছে। আরএসএফ এখনও পর্যন্ত তাদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি।

ইয়েলের হিউম্যানিটারিয়ান রিসার্চ ল্যাব (এইচআরএল) স্যাটেলাইট ইমেজ ব্যবহার করে একটি রিপোর্ট প্রকাশ করেছে। তাতে দেখা গেছে এল-ফাশের দখলের পর আরএসএফ বাহিনী গণহত্যা চালাচ্ছে। এইচআরএল-এর নির্বাহী পরিচালক নাথানিয়েল রেমন্ড আল জাজিরাকে জানিয়েছেন, এই সহিংসতার মাত্রা নজিরবিহীন। স্যাটেলাইট চিত্রে এমন সব বস্তু দেখা গেছে যা মানুষের দেহের আকারের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ। যা মাত্র ৩৬ থেকে ৪৮ ঘণ্টা আগেও সেখানে ছিল না। এই গবেষক সতর্ক করে বলেন, এই হত্যাকাণ্ড দারফুরের অন্যান্য অঞ্চল এবং উত্তর কর্ডোফান প্রদেশে যা ঘটতে পারে, তার একটি পূর্বাভাস মাত্র।

কিউএনবি/অনিমা/৩০ অক্টোবর ২০২৫,/দুপুর ১২:০০

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category

আর্কাইভস

February 2026
M T W T F S S
 12
3456789
10111213141516
17181920212223
24252627282930
31  
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৫-২০২৬
IT & Technical Supported By:BiswaJit