রবিবার, ২৪ মে ২০২৬, ০৯:৩০ অপরাহ্ন

চৌগাছায় পুলিশের গুলিতে পা হারানো দুই শিবির নেতার বাড়িতে আন্তর্জাতিক ট্রাইব্যুনালের তদন্ত টিম

এম এ রহিম চৌগাছা (যশোর)
  • Update Time : মঙ্গলবার, ১৪ অক্টোবর, ২০২৫
  • ৭১ Time View

এম এ রহিম চৌগাছা (যশোর) : আন্তর্জাতিক ট্রাইব্যুনালের একটি প্রতিনিধি দল যশোরের চৌগাছায় পুলিশের গুলিতে পা হারানো দুই শিবির নেতার বাড়িতে তদন্তে আসেন। তাঁরা পুলিশের গুলিতে পা হারানো দুই শিবির নেতার বাড়িতে গিয়ে ঘটনার তদন্ত করেছেন। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের উপ-পরিচালক মোয়াজ্জেম হোসেনের নেতৃত্বে ৫ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল সরেজমিনে এ তদন্ত করেন। মঙ্গলবার (১৪ অক্টোবর) দুপুর থেকে সন্ধ্যা ৭ টা পর্যন্ত এই প্রতিনিধিদল তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনা করেন। এ সময় গুলিতে পা হারানো দুই শিবির নেতা উপজেলার নারায়ণপুর গ্রামের রুহুল আমিন ও চুটারহুদা গ্রামের ইসরাফিলের বাড়িতে যান তাঁরা। দুই শিবির নেতার বাড়িতে গিয়ে তাদের পিতা ও মায়েদের ও প্রতিবেশীদের সাক্ষাৎকার নেন প্রতিনিধি দল। সাক্ষাৎকারে সেদিনের লোমহর্ষক ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন রুহুল আমিনের মা নাজমা বেগম এবং ইসরাফিলের পিতা আব্দুর রহমান।

এ ঘটনায় ২৮ আগষ্ট একটি প্রতিনিধি দল তদন্ত করেন। মঙ্গলবার ঘটনাস্থলে ২য় বারের মতো এলাকার সাধারণ মানুষ ট্রাইব্যুনালের তদন্তকারি প্রতিনিধি দলের সামনে স্বাক্ষী দেন।এ সময় স্বাক্ষিদাতারা ও ভুক্তভোগীদের স্বজনরা বলেন, পতিত সরকারের শাসন আমলে ২০১৬ সালের ৪ আগস্ট তৎকালিন চৌগাছা থানার ওসি মশিউর রহমান, সেকেন্ড অফিসার এস আই আকিক, এস আই মখলেস, এস আই আহসান, এএস আই মাজেদ হোসেন, এসআই জামাল ও তাদের সঙ্গীরা তাদেরকে চৌগাছা-মহেশপুর সড়কের টেক্সগুরপুর মোড় থেকে কোন কারণ ছাড়াই আটক করেন। পরে সেই রাতে তাদেরকে উপজেলার নারায়নপুর ইউনিয়নের বুন্দলীতলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাশে নিয়ে দুজনের পায়ে গুলি করেন পুলিশ। সেখান থেকে তাদেরকে চৌগাছা সরকারি মডেলহাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে জরুরী বিভাগে কর্মরত চিকিৎসক তাদের যশোর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করেন। সেখান থেকে ঢাকা পঙ্গুতে পাঠান। চিকিৎসার এক পর্যায়ে ইসরাফিল হোসেনের ১টি ও রুহুল আমিনের ১টি পা কেটে বাদ দেওয়া হয়। তারপর তাদেরকে জেলে পাঠানো হয়।

এ ঘটনায় ৫ আগষ্ট আওয়ামী সরকার পতনের পরে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে অভিযোগ দায়ের করে দুই শিবির নেতা। অভিযোগের তদন্ত করতেই ২য় বারের মতো ট্রাইব্যুনালের প্রতিনিধিদল তদন্তে আসেন। ট্রাইবুন্যালের উপ-পরিচালক মোয়াজ্জেম হোসেন বলেন, আমরা এর আগেও একবার ঘটনাস্থলে পৌছে স্থানীয়দের স্বাক্ষ গ্রহণ করেছি। তিনি বলেন, এ ঘটনায় এস.আই. আকিকসহ তিনজন পুলিশ সদস্যকে আটক করা হয়েছে। এই ঘটনার সাথে যারা জড়িত ছিলনা তাদের কেউ জড়িয়ে না যায় সে কারনে স্বচ্ছতার জন্য ২য় বারের মতো স্বাক্ষ গ্রহণ করা হয়েছে। তদন্ত রির্পোট সংশ্লিষ্ট শাখায় পৌঁছিয়ে দেওয়া হবে।

কিউএনবি/অনিমা/১৪ অক্টোবর ২০২৫,/রাত ৮:৫৪

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category

আর্কাইভস

May 2026
M T W T F S S
 1234
567891011
12131415161718
19202122232425
2627282930  
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৫-২০২৬
IT & Technical Supported By:BiswaJit