সজিব হোসেন ,নওগাঁ জেলা প্রতিনিধি : একটি নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে বাসা ভাড়া নিয়েছিলেন উর্মী খাতুন (২৫)। কিন্তু সেখানেই তিনি হারিয়েছেন তার শেষ সম্বল, সম্মান ও মানসিক শান্তি। প্রতারণা, যৌন হয়রানি ও জোরপূর্বক উচ্ছেদের হুমকিতে চরম নিরাপত্তাহীনতায় দিন কাটাচ্ছেন এই নারী। বুধবার (সকাল ১০টা), শহরের একটি হোটেলে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে কান্নাজড়িত কণ্ঠে নিজের সঙ্গে ঘটে যাওয়া হৃদয়বিদারক ঘটনার বর্ণনা দেন উর্মী খাতুন।
তিনি জানান, পারিবারিক কিছু জটিলতার কারণে গত মার্চ মাসে শহরের ফরিদ হোসেন নামের এক ব্যক্তির বাসায় ভাড়া ওঠেন। বাসা ভাড়া নেওয়ার পুরো বিষয়টি তদারকি করেন ফরিদের ভাগ্নে ইদ্রিস আলী। চুক্তি অনুযায়ী তিন বছরের অগ্রীম ভাড়ার পরিবর্তে উর্মী তার মায়ের দেয়া শেষ স্মৃতি ৪ভরি ওজনের একটি সোনার চেইন তুলে দেন ইদ্রিসের হাতে।
কিন্তু চেইন হাতে পেয়েই বদলে যেতে থাকে ইদ্রিস ও তার মামা ফরিদের আচরণ। ভাড়া দেওয়ার কথা অস্বীকার করে উর্মীকে বাসা থেকে জোর করে বের করে দেওয়ার পাঁয়তারা শুরু করে তারা। শুধু তাই নয়, ইদ্রিস একাধিকবার উর্মীর একাকীত্বের সুযোগ নিয়ে তাকে কুপ্রস্তাব দেয় বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে উর্মী বলেন, “এই শহরে আমি কাউকে চিনতাম না। বিশ্বাস করে শেষ সম্বলটা তুলে দিয়েছিলাম। কিন্তু এখন বুঝতে পারছি, কত বড় ভুল করেছি। ইদ্রিস শুধু প্রতারণাই করেনি, সে আমাকে বারবার মানসিকভাবে লাঞ্ছিত করেছে। থানায় জানিয়েছি, কিন্তু এখনও কোনো সুবিচার পাইনি। আজ আমি শঙ্কিত, আতঙ্কিত প্রাণনাশের ভয়ে দিন কাটাচ্ছি।
তিনি আরও জানান, বারবার আইনের আশ্রয় চেয়েও কোনো সুরাহা না পেয়ে আজ বাধ্য হয়ে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে গণমাধ্যম ও প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করছেন। উর্মী খাতুন এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, তার সোনার চেইন ফিরিয়ে দেওয়া এবং জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও শাস্তির দাবি জানান।
কথা হলে বাড়ির মালিক ফরিদ হোসেন ও তার ভাগিনা ইদ্রিস আলী বলেন, অভিযোগুলো সঠিক নয়। উর্মীর কয়েক মাসের ভাড়া বাঁকি রয়েছে। যার কারনে এমনটা মিত্যা ছড়াতে পারে। চেইন নেওয়ার কোন ঘটনা ঘটেনি। এসব মিথ্যা রটানোর কোন মানে হয়না।
কিউএনবি/আয়শা/১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৫, /সন্ধ্যা ৭:১৮